| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্র দুটি…’ যশোর বোর্ড ২০২৩ – কোষ বিভাজন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্র দুটি লক্ষ্য কর:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
অ্যান্টিকোডন হলো tRNA তে পাওয়া তিন নিউক্লিওটাইড ক্রম যা সংশ্লিষ্ট mRNA ক্রম কে আবদ্ধ করে।
DNA অনুতে প্রথিত রাসায়নিক তথ্যগুলোকে RNA (mRNA) অণুতে কপি করাকে বলা হয় ট্রান্সক্রিপশন।
ট্রান্সক্রিপশন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াটি নিউক্লিয়াসের মধ্যে সংঘটিত হয়ে থাকে। এই প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজন DNA ছাঁচ, RNA পলিমারেজ এনজাইম যা একাধিক রকম হতে পারে, মুক্ত রাইবোনিউক্লিয়োসাইড ট্রাইফসফেট (ATP, GTP, CTP এবং UTP), কিছু সহযোগী প্রোটিন এবং রাসায়নিক শক্তি, ট্রাইফসফেট ভেঙ্গে নিউক্লিয়োটাইড এবং পাইরোফসফেট সৃষ্টিকালে মুক্ত হয়। পাইরোফসফেট ভেঙ্গ দুই আয়ন ফসফেট তৈরি কালেও কিছু অতিরিক্ত শক্তি পাওয়া যায়।
উদ্দিপকের চিত্র "B" এর ধাপটি হচ্ছে জাইগোটিন এবং এর পরবর্তী ধাপটি হচ্ছে প্যাকাইটিন।
প্যাকাইটিন হচ্ছে মিয়োসিস-১ এর প্রোফেজ-১ এর একটি ধাপ। নিচে এর বর্ণনা দেয়া হল।
১. এ পর্যায়ে ক্রোমোসোমগুলো আরও খাটো ও মোটা হতে থাকে।
২. প্রতিটি ক্রোমোসোম সেন্ট্রোমিয়ার ছাড়া লম্বালম্বিভাবে দ্বিখন্ডিত হয়ে দুটি করে ক্রোমাটিড গঠন করে। এর ফলে প্রতিজোড়া হোমোলোগাস ক্রোমোসোম সেন্ট্রোমিয়ার ছাড়া লম্বালম্বিভাবে দ্বিখন্ডিত হয়ে দুটি করে ক্রোমাটির গঠন করে। এর
ফলে প্রতিজোড়া হোমোলোগাস ক্রোমোসোম থেকে ৪টি করে ক্রোমাটিড সৃষ্টি হয়। এই অবস্থাতে টেট্রাড বলে।
৩. একই ক্রোমোসোমের ক্রোমাটিড দুটিকে সিস্টার ক্রোমাটিড বলে। অপরদিকে রাইভ্যালেন্টের ভিন্ন ভি ক্রোমোসোমের ক্রোমাটিডগুলোকে নন-সিস্টার ক্রোমাটিড বলা হয়। ক্রোমোসোমগুলো লম্বালম্বিভাবে আরও সংকুচিত হয় এবং মোটা দেখায়।
৪. হোমোলোগাস ক্রোমোসোমগুলোর মধ্যে আকর্ষণ ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং তার পরিবর্তে বিকর্ষণ ক্ষমতার উদ্ভব ঘটে, ফলে একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরতে থাকে।
৫. হোমোলোগাস ক্রোমোসোমগুলো সম্পূর্ণরূপে আলাদা হতে পারে না। কারণ নন-সিস্টার ক্রোমাটিডো মাধ্যমে এরা এক বা একাধিক স্থানে যুক্ত থেকে ইংরেজি X আকারের ন্যায় কায়াজমা (chaisma, বহুবচনে chiasmata) সৃষ্টি করে। দুটি কায়াজমার উপস্থিতিতে বাইভ্যালেন্ট একটি ফাস বা লুপ গঠন করে।
৬. কায়াজমা অংশে ক্রোমোটিভগুলো ছিঁড়ে যায় এবং সাথে সাথেই জোড়া লেগে যায় (লাইগেজ এজাইমের মাধ্যমে।। জোড়া লাগার সময় একটি ক্রোমাটিডের ভাঙ্গা অংশ অন্য ক্রোমাটিডের একই স্থানে ভাঙ্গা অংশে যুক্ত হয়। ননসিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে এ ধরনের অংশ বিনিময়কে ক্রসিং ওভার বলে।
উদ্দীপকের চিত্র A হলো ক্রোমোসোম যা কোষ বিভাজনের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
নিউক্লিয়াসের ভেতরে অবস্থিত নিউক্লিওপ্রোটিন এ গঠিত যে সব তন্ত্রর মাধ্যমে জীবের যাবতীয় বৈশিষ্ট্য বংশ পরষ্পরায় সঞ্চারিত হয়, তাকে ক্রোমোসোম বলে। কোষ বিভাজনে এর ভূমিকা নিম্নরূপ:
জীবদেহের বৃদ্ধি ও জনন উভয় কাজই কোষ বিভাজন এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। কোষ বিভাজনের ক্ষেত্রে মুখ্য বস্তু হিসেবে কাজ করে ক্রোমোসোম। এটি বাদ দিয়ে কোষ বিভাজন কখনোই সম্ভব নয়। কোষ বিভাজনের শুরু এবং শেষ উভয়ই ক্রোমোসোম এর উপরে নির্ভর করে। ক্রোমোসোমে অবস্থিত DNA প্রতিলিপনের মাধ্যমে কোষ বিভাজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়, অর্থাৎ ক্রোমোসোমস্থ DNA প্রতিলিপিত না হলে কোষ বিভাজন শুরু হয় না। কাজেই দেখা যায় কোষ বিভাজনে ক্রোমোসোমের ভূমিকা মুখ্য। কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় কোষস্থ ক্রোমোসোমের প্রতিলিপন, দ্বিত্বন, বিভাজন ও মেরুকরণ সবই আবশ্যকীয় বিষয়।
আবার ক্রোমোসোমবিহীন কোষ তার অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারে না, কোষ বিভাজনকালে ক্রোমোসোমের বণ্টন নীতিমালা বহির্ভূত হলে কোষের বৈশিষ্ট্য ও অস্তিত্বে বিরূপ প্রভাব পরে।
তাই একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় ক্রোমোসোমের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে।