নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
পুংস্তবকের পরাগধানীগুলো যখন একগুচ্ছে থাকে, তখন তাকে যুক্তধানী বা সিনজেনেসিয়াস বলে।
জবা (Hibiscus rosa-sinensis) ফুলকে সহবাসী উদ্ভিদ বলা হয় কারণ- আমরা জানি, একই ফুলে বা একই দেহে যখন দুই ধরনের জননকোষ (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) উৎপন্ন হয় তখন তাকে সহবাসী উদ্ভিদ বলে। সাধারণত উন্নত উদ্ভিদে এ দু'ধরনের জননকোষ একই দেহে উৎপন্ন হয়। জবা ফুলেও দুই ধরনের জননকোষ (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) একই দেহে উৎপন্ন হয় বলে জবা ফুলকে সহবাসী উদ্ভিদ বলে।
উদ্দীপকের চিত্র-X হলো ভূণথলি। নিচে ভ্রূণথলির গঠন প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো-
ভূণপোষক কলায় ডিম্বকরন্দ্রের কাছাকাছি একটি কোষ আকারে সামান্য বড় হয়। এর প্রোটোপ্লাজম ঘন এবং নিউক্লিয়াসটি তুলনামূলকভাবে বড়। এ কোষটি বিয়োজন বিভাজনের (মিয়োসিস) মাধ্যমে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) কোষ সৃষ্টি করে। সর্বনিম্ন কোষটি ছাড়া বাকি তিনটি কোষ বিনষ্ট হয়ে যায়। সর্বনিম্ন এই বড় কোষটি বৃদ্ধি পেয়ে ক্রমশ ভূণথলিতে পরিণত হয়। এ কোষটির নিউক্লিয়াস হ্যাপ্লয়েড (n)। এই নিউক্লিয়াসটি বিভক্ত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। এ নিউক্লিয়াস দুটি ভূণথলির দুই মেরুতে অবস্থান নেয়। এবার এ দুটি নিউক্লিয়াসের প্রতিটি পরপর দুবার বিভক্ত হয়ে চারটি করে নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে।
এর পরবর্তী ধাপে দুই মেরু থেকে একটি করে নিউক্লিয়াস ভূণথলির কেন্দ্রস্থলে এসে পরস্পরের সাথে মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড (2n) গৌণ নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। দুই মেরুর নিউক্লিয়াসগুলো সামান্য সাইটোপ্লাজম সহকারে কোষের সৃষ্টি করে। ডিম্বকরন্দ্রের দিকের কোষ তিনটিকে গর্ভয়ন্ত্র বলে। এর মাঝের কোষটি বড়। একে. ডিম্বাণু এবং অন্য কোষকে সহকারী কোষ বলা হয়। গর্ভর্যন্ত্রের বিপরীত দিকের কোষ তিনটিকে' প্রতিপাদ কোষ বলে। এভাবেই ভ্রূণথলির গঠনপ্রক্রিয়া শেষ হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত S দ্বারা গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে একটি পুং গ্যামেটের মিলন তথা সস্যটিস্যু এবং T দ্বারা ডিম্বাণুর সাথে অপর পুং গ্যামেটের মিলন তথা জাইগোটকে বোঝানো হয়েছে। ছিনিষেক প্রক্রিয়ায় একই সময়ে দুটি পুং গ্যামেটের একটি গৌণ নিউক্লিয়াস ও অপরটি ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়। উদ্ভিদের পরিস্ফুটনে জাইগোট ও সস্যটিস্যু বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
ভূণথলির অভ্যন্তরে একটি পুংজনন কোষ ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে এবং অপর পুংজনন কোষটি গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড সস্য কোষ সৃষ্টি করে। জাইগোট হলো স্পোরোফাইটের প্রথম কোষ। এর প্রথম বিভাজনে দুটি কোষ সৃষ্টি করে। একই সাথে সস্যের পরিস্ফুটনও ঘটতে শুরু করে। জাইগোটের অনুপ্রস্থ বিভাজন, ঘটে। জাইগোটের অনুপ্রস্থ বিভাজনে সৃষ্ট ডিম্বকরন্দ্রের দিকের কোষকে ভিত্তি কোষ এবং ভূণথলির কেন্দ্রের দিকের কোষটিকে এপিক্যাল কোষ বলা হয়। এ কোষ দুটির একই সাথে বিভাজন চলতে থাকে। ধীরে ধীরে এপিক্যাল কোষটি ভূণে পরিণত হয়। একই সাথে ভিত্তি কোষ থেকে ভূণধারক গঠিত হয়। ক্রমশ বীজপত্র, ভূণমূল ও ভূণকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ক্রমান্বয়ে গৌণ নিউক্লিয়াসটি ট্রিপ্লয়েড সস্য টিস্যু উৎপন্ন করে। পরিণত অবস্থায় ডিম্বকটি সস্য ও ভূণসহ বীজে রূপান্তরিত হয়। এ বীজ অঙ্কুরিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদের পরিস্ফুটন ঘটে।
পরিশেষে বলা যায়, জাইগোট ও সস্যটিস্যু উদ্ভিদের পরিস্ফুটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
