নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
ADP এর সঙ্গে অজৈব ফসফেট (Pi) যুক্ত হয়ে ATP তৈরি করার প্রক্রিয়াই হলো ফসফোরাইলেশন।
তাপমাত্রা সালোকসংশ্লেষণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক। কারণ- পরিবেশের তাপমাত্রা উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বিশেষ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। সাধারণত অতি নিম্ন তাপমাত্রা এবং অতি উচ্চ তাপমাত্রায় এ প্রক্রিয়া চলতে পারে না। সালোকসংশ্লেষণের জন্য পরিমিত তাপমাত্রা হলো ২২° সেলসিয়াস থেকে ৩৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত। তাপমাত্রা ২২° সেলসিয়াসের কম বা ৩৫° সেলসিয়াসের বেশি হলে সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়।
উদ্দীপকের চিত্র 'X' এ সংঘটিত প্রক্রিয়াটি দ্বারা উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়াকে দেখানো হয়েছে। এ শ্বসন প্রক্রিয়াটির সাইটোপ্লাজমিক ধাপ হলো গ্লাইকোলাইসিস। নিচে ধাপটির ব্যাখ্যা করা হলো-
গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়ায় এক অণু গ্লুকোজ বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় জারিত হয়ে দুই অণু পাইরুভিক এসিড উৎপন্ন করে। এই ধাপে চার অণু ATP (দুই অণু খরচ হয়ে যায়) এবং দুই অণু NADH + H+ উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ার জন্য কোনো অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ে না, তাই গ্লাইকোলাইসিস সবাত ও অবাত উভয় প্রকার শ্বসনেরই প্রথম পর্যায়। গ্লাইকোলাইসিসের বিক্রিয়াগুলো কোষের সাইটোপ্লাজমে ঘটে থাকে।
উদ্দীপকের চিত্র 'X' ও চিত্র 'Y' প্রক্রিয়া দুটি যথাক্রমে শ্বসন ও সালোকসংশ্লেষণ। জীবে প্রক্রিয়া দুটি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সবুজ উদ্ভিদে ঘটে থাকে। দিনের বেলায় সূর্যালোকের উপস্থিতিতে H₂O ও CO₂ এর রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদের পাতায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি হয়। অর্থাৎ শর্করা তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো CO₂ ও H₂O। কাজেই CO₂ এর অনুপস্থিতিতে সবুজ উদ্ভিদ এ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করতে পারে না। কিন্তু সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত এ CO₂ শ্বসনের ফলে তৈরি হয়। সকল সজীব কোষে দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টাই শ্বসন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। শ্বসন ক্রিয়ায় শর্করা তথা গ্লুকোজ অক্সিজেনের মাধ্যমে জারিত হয়ে শক্তি ও CO₂ উৎপন্ন হয়। শ্বসনে ব্যবহৃত এ শর্করা (গ্লুকোজ) ও সালোকসংশ্লেষণেই তৈরি হয়ে থাকে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, সালোকসংশ্লেষণে শর্করা এবং O₂ তৈরি না হলে শ্বসন ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতো। আবার শ্বসন ক্রিয়ার ফলে CO₂ তৈরি না হলে সালোকসংশ্লেষণেও ব্যাঘাত ঘটতো। পরিশেষে বলা যায় যে, প্রক্রিয়া দুটি অর্থাৎ সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
