নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
পেলভিস: মানব রেচনতন্ত্রের বিশেষ অংশ ইউরেটারের ফানেল আকৃতির প্রশস্ত অংশকে পেলভিস বলা হয়।
মানবদেহে যাবতীয় শারীরবৃত্তীক কাজ সম্পাদনের জন্য দেহে পরিমিত পানি থাকা অপরিহার্য। শরীরে কোনো কারণে পানির পরিমাণ বেড়ে গেলে তা বৃক্কের মাধ্যমে মূত্র হিসেবে বেরিয়ে যায়। আবার কোনো কারণে পানির পরিমাণ কমে গেলে বৃক্ক নেফ্রনের মাধ্যমে পুনঃশোষণ প্রক্রিয়ায় দেহে পানির সমতা বজায় রাখে। এভাবে দেহে পানির সমতা বজায় রাখার প্রক্রিয়াকে অসমোরেগুলেশন রলে। অসমোরেগুলেশনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বৃক্ক।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'R' অঙ্গটি হলো বৃক্ক। নেফ্রন হলো বৃক্কের কার্যগত ও গঠনগত একক। নিম্নে নেফ্রনের গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-
মানবদেহের প্রতিটি কিডনিতে প্রায় ১০-১২ লক্ষ নেফ্রন থাকে। প্রতিটি নেফ্রন দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত। যথা- i. রেনাল করপাসল করপাসল বা মালপিজিয়ান অঙ্গ এবং ii. রেনাল টিউব্যুল।
i. রেনাল করপাসল: নেফ্রনের অগ্রপ্রান্তকে রেনাল করপাসল বলে। এটি বৃক্কের কর্টেক্সে অবস্থিত এবং বোম্যান্স ক্যাপসুল ও গ্লোমেরুলাস নিয়ে গঠিত। বোম্যান্স ক্যাপসুল গ্লোমেরুলাসকে বেষ্টন করে থাকে। বোম্যান্স ক্যাপসুল দুইস্তরবিশিষ্ট পেয়ালার মতো প্রসারিত একটি অংশ। গ্লোমেরুলাস একগুচ্ছ কৈশিক জালিকা দিয়ে তৈরি। রেনাল ধমনি থেকে সৃষ্ট অ্যাফারেন্ট ধর্মনি ক্যাপসুলের ভিতরে ঢুকে প্রায় ৫০টি কৈশিকনালিকা তৈরি করে। এগুলো আবার বিভক্ত হয়ে সূক্ষ্ম রক্তজালিকার সৃষ্টি করে। এসব জালিকার কৈশিকনালিগুলো মিলিত হয়ে ইফারেন্ট ধমনি সৃষ্টি করে এবং ক্যাপসুল থেকে বেরিয়ে আসে।
ii. রেনাল টিউব্যুল: বোম্যান্স ক্যাপসুলে অক্ষিয়দেশ থেকে সংগ্রাহী নালী পর্যন্ত বিস্তৃত চওড়া নালিটিকে রেনাল টিউব্যুল বলে। প্রতিটি রেনাল টিউব্যুল ৩টি অংশে বিভক্ত। যথা- গোড়াদেশীয় বা নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালিকা, হেনলির লুপ ও প্রান্তীয় প্যাঁচানো নালিকা।
উদ্দীপকের 'P' নং চিত্রের ফুসফুস ও 'R' নং চিত্রের বৃক্ক দেহের দূরকম বর্জ্য যথাক্রমে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও নাইট্রোজেন গঠিত রেচন পদার্থ নিষ্কাশন করে। রক্ত পরিশোধনের ক্ষেত্রে উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফুসফুস দ্বারা শ্বসনের সময় গৃহীত অক্সিজেন রক্তের মাধ্যমে কোষে পৌছায়। তারপর খাদ্য জারণ বিক্রিয়া কোষে কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরি করে। এই কার্বন ডাইঅক্সাইড প্রথমে কোষ আবরণ ভেদ করে লসিকাতে প্রবেশ করে এবং লসিকা থেকে কৈশিক নালির প্রাচীর ভেদ করে রক্তরসে প্রবেশ করে। কার্বন ডাইঅক্সাইড প্রধানন্ত সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO3) রূপে রক্তরসের - মাধ্যমে এবং পটাসিয়াম বাইকার্বনেট (KHCO;) রূপে লোহিত রক্তকণিকা দ্বারা পরিবাহিত হয়ে ফুসফুসে আসে, সেখানে কৈশিকনালি ও বায়ুথলি ভেদ করে দেহের বাইরে নির্গত হয়।
অপরদিকে রক্ত যখন বৃক্কের রেনাল করপাসলে প্রবেশ করে তখন গ্লোমেরুলাসে রক্ত পরিস্রত হয়ে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থকে পৃথক করে, যা সংগ্রাহী নালিকার মাধ্যমে মূত্র হিসেবে মূত্রথলিতে জমা হয়। এসব নাইট্রোজেন যুক্ত বর্জ্য পদার্থ মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে অপসারণে বৃক্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বৃক্কস্থিত নেফ্রন একটি জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রমাগতভাবে মূত্র উৎপন্ন করে এবং রক্তকে পরিশোধন করে।
কাজেই রক্ত পরিশোধনের ক্ষেত্রে ফুসফুস ও বৃক্ক উভয়ই কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
