| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্র দুটি…’ যশোর বোর্ড ২০২৫ – উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
ফটোফসফোরাইলেশন হলো সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ADP এর সাথে অজৈব ফসফেট যুক্ত হয়ে ATP তৈরির একটি প্রক্রিয়া।
1905 সালে Blackman, Law of minimum এর উপর ভিত্তি করে সীমাবদ্ধতার ফ্যাক্টর সূত্র প্রস্তাব করেন। তার মতে কোনো বিক্রিয়া একাধিক প্রভাবক দ্বারা প্রভাবিত হলে সর্বাপেক্ষা কম মাত্রার প্রভাবক দ্বারা বিক্রিয়াটির হার নির্ধারিত হয়। Blackman কম মাত্রার প্রভাবকটিকে Limiting Factor বা সীমা নির্ধারণকারী প্রভাবক নামে অভিহিত করেছেন। যেমন, তাপমাত্রা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণকারী একটি ফ্যাক্টর।
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র-K এবং চিত্র-L দ্বারা পত্ররন্দ্রকে বুঝানো হয়েছে। পত্ররন্দ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার কারণ বিভিন্ন বিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। নিচে পত্ররন্দ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার কারণ হিসেবে আধুনিক মতবাদ বা প্রোটন প্রবাহ মতবাদটি বর্ণনা করা হলো-
পত্ররন্দ্র খোলা: আলোক বর্ণালীর নীল অংশ (Blue light) রক্ষীকোষের রিসেপ্টর গুলোকে উদ্দীপ্ত করে, যার ফলে সক্রিয়ভাবে পটাশিয়াম আয়ন রক্ষীকোষে প্রবেশ করে। প্রবেশের কারণে কোষস্থ দ্রবণে দ্রব্যের (Solute) ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় এবং পার্শ্ববর্তী কোষ হতে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি রক্ষীকোষে প্রবেশ করে। রক্ষীকোষে পানি প্রবেশের ফলে রক্ষীকোষ স্ফীত হয় এবং পত্ররন্ধ্র খুলে যায়।
কোষে এর পরিমাণ কমে গেলে রক্ষীকোষে প্রবেশ বৃদ্ধি পায়, ফলে পার্শ্ববর্তী কোষ থেকে পানি রক্ষীকোষে প্রবেশ করে এবং রক্ষীকোষ স্ফীত হয়ে পত্ররন্ধ্র খুলে যায়।
রক্ষীকোষ থেকে সক্রিয়ভাবে বের হয়ে গেলেও পত্ররন্ধ্র খুলে যায়।
পত্ররন্দ্র বন্ধ হওয়া: রক্ষীকোষ থেকে বের হয়ে যায়, সাথে সাথে পানিও বের হয়ে যায়। ফলে রক্ষীকোষ স্ফীতি হারিয়ে শিথিল হয়ে পড়ে এবং পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়।
মেসেফিল কোষে পানির অভাব দেখা দিলে সেখানে অ্যাবসিসিক এসিড তৈরি হয়। যার ফলে রক্ষীকোষ থেকে বের হয়ে যায়। বের হয়ে গেলে পানিও বের হয়ে যায়, ফলে রক্ষীকোষ স্ফীতি হারায় এবং পত্ররন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়।
উচ্চ তাপমাত্রায় ফটোসিনথেসিস কমে যায় এবং কোষীয় শ্বসন বেড়ে যায়। এর ফলে কোষে এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। পরিণামে পত্ররন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। কাজেই মনে করা হয় পত্ররন্দ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার জন্য একাধিক নিয়ামক কাজ করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র-K দ্বারা পত্ররন্দ্রকে বুঝানো হয়েছে।পত্ররন্ধ্র উদ্ভিদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। পত্ররন্দ্রের মাধ্যমে সংঘটিত শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়াটি হলো প্রস্বেদন প্রক্রিয়া যা উদ্ভিদ জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
পত্ররন্দ্রের কারণে প্রস্বেদন হয় যার ফলে চারদিক থেকে লবণ উদ্ভিদমূলের কাছাকাছি আসে, ফলে উদ্ভিদ সহজে লবণ পরিশোষণ করতে পারে। প্রস্বেদনের কারণে বাহিকা নালিতে পানির যে টান পড়ে সেই টান মূল্যরোম কর্তৃক পানি শোষণে সাহায্য করে। তাই জীবন রক্ষাকারী পানি শোষণে এর ভূমিকা আছে। গাছকে অত্যাধিক গরম হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং উপযুক্ত তাপমাত্রা রক্ষা করে। পাতা সূর্য হতে প্রতি মিনিটে প্রচুর শক্তি শোষণ করে। এর মাত্র শতকরা একভাগ বিভিন্ন বিক্রিয়ার জন্য খরচ হয়। বাকি অধিকাংশ তাপশক্তি পত্ররন্দ্রীয় প্রস্বেদনের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। নতুবা গাছ অধিক তাপে মরে যেত। এর ফলে কোষ রসের ঘনত্ব বাড়ে, ফলে অভিস্রবণ প্রক্রিয়া ঘটার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে পানি বের হওয়ার সময় পাতার পৃষ্ঠে এক ধরনের পানিগ্রাহী লবণ জমা হয়, যা ছত্রাক আক্রমণ হতে পাতাকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি দরকার। পত্ররন্দ্রের মাধ্যমে উদ্ভিদ তার দেহের অতিরিক্ত পানি বের করে দেয় এবং মূল দিয়ে পানি মাটি থেকে আবার শোষণ করে। যার ফলে আবার সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।