নিচের চিত্র দুটি লক্ষ করো-
একই সময়ে ডিম্বাণুর সাথে একটি পুংগ্যামেটের মিলন ও সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসের সাথে অপর পুংগ্যামেটের মিলন প্রক্রিয়াই দ্বিনিষেক।
দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পর-পরাগায়ন ঘটে তাই এর ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয়। এ বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়। অর্থাৎ পর-পরাগায়নের ফলে সৃষ্ট নতুন উদ্ভিদে নতুন বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটার কারণে এসব গাছ থেকে নতুন ভ্যারাইটির সৃষ্টি হয়। তবে এটি বাহক নির্ভর প্রক্রিয়া হওয়ায় পরাগায়নের নিশ্চয়তা থাকে না, এতে প্রচুর পরাগরেণুর অপচয় ঘটে। ফলে প্রজাতির বিশুদ্ধতা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
চিত্র 'A' অঙ্গাণুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া। নিচের গঠন ও কাজ ব্যাখ্যা করা হলো-
উদ্দীপকে উল্লেখিত অক্সিজোম, ক্রিস্টি এবং ম্যাট্রিক্স সমন্বয়ে গঠিত 'Y' অঙ্গাণুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া। এর চিত্রসহ গঠন ও কার্যাবলি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন :
১. মাইটোকন্ড্রিয়া গোলাকার বা দণ্ডাকার হয়ে থাকে।
২. মাইটোকন্ড্রিয়া দুই স্তরবিশিষ্ট আবরণী বা ঝিল্লি দিয়ে ঘেরা।
৩. এর ভিতরের স্তরটি ভিতরের দিকে ভাঁজ হয়ে থাকে। এদের ক্রিস্টি বলে।
৪. ক্রিস্টির গায়ে বৃন্তযুক্ত গোলাকার বস্তু থাকে। এদের অক্সিজোম বলে।
৫. অক্সিজোমে উৎসেচকগুলো সাজানো থাকে।
৬. মাইটোকন্ড্রিয়নের (এক বচন) ভিতরে থাকে ম্যাট্রিক্স।
৭. জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ।
৮. শ্বসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ক্রেবস চক্রের বিক্রিয়াগুলো মাইটোকন্ড্রিয়াতে সম্পন্ন হয়।
৯. মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের 'শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র' বা 'পাওয়ার হাউজ' বলা হয়।
মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ :
১. কোষের যাবতীয় কার্য সম্পন্নের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে।
২. শ্বসন ও প্রোটিন সংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম, কো-এনজাইম ইত্যাদি ধারণ করে।
৩. গ্লাইকোলাইসিস ছাড়া শ্বসনের বিভিন্ন পর্যায়, যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (ETS), অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন সম্পন্ন করে।
8. ADP থেকে ATP অণুর সংশ্লেষ করে।
৫. এরা নিজস্ব DNA ও RNA সংশ্লেষ করে।
৬. এরা ডিম্বাণু ও শুক্রাণু গঠনে এবং শুক্রাণুর চলনে সাহায্য করে।
উদ্দীপকের চিত্র-A হলো মাইটোকন্ড্রিয়া এবং চিত্র-B হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় শক্তির জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট ও মাইটোকন্ড্রিয়া-এর কাজ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। অর্থাৎ এরা উভযই কাজের উপর নির্ভরশীল। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'X' ও 'Y' হলো যথাক্রমে ক্লোরোপ্লাস্ট ও মাইটোকন্ড্রিয়া। উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় শক্তির জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট ও মাইটোকন্ড্রিয়া-এর কাজ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। নিচে তা মূল্যায়ন করা হলো-
ক্লোরোপ্লাস্ট সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড। এটি গাছের সবুজ পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে পাওয়া যায়। ক্লোরোপ্লাস্টের সাহায্যে সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে এবং বায়ুস্থ কার্বন ডাইঅক্সাইড ও কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। এ প্রস্তুতকৃত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবনিক কাজে শক্তি যোগায়।
অন্যদিকে, জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ। ক্লোরোপ্লাস্টে উৎপাদিত শর্করা জাতীয় খাদ্যকে জারণের মাধ্যমে কোষের বিপাকীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি অর্থাৎ ATP উৎপাদনে মাইটোকন্ড্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শ্বসনের গুরুত্বপূর্ণ দুটি পর্যায় ক্রেবস চক্র ও ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম মাইটোকন্ড্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। কারণ, ক্রেবস চক্রে অংশগ্রহণকারী সব উৎসেচক মাইটোকন্ড্রিয়াতে উপস্থিত থাকে। আর এই ক্রেবস চক্রেই সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপাদিত হয়। এজন্যই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলা হয়।
অর্থাৎ মাইটোকন্ড্রিয়ার যাবতীয় কার্যক্রম ক্লোরোপ্লাস্টে উৎপন্ন শর্করার উপর নির্ভর করে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা ও অক্সিজেন তৈরি না হলে শ্বসন ঘটবে না। ফলে উদ্ভিদ যাবতীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পাবে না। অর্থাৎ এরা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
