| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্র দুটি…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩ – নগ্নবীজী ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর :
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
যে সব উদ্ভিদের বীজ ফলের অভ্যন্তরে থাকে, অর্থাৎ গর্ভাশয় থাকে সে সব উদ্ভিদই আবৃতবীজী উদ্ভিজ বলে।
উদাহরণ: আম, জাম, লিচু, কলা, কাঁঠাল, শিম, বরবটি, ধান, গম, আখ ইত্যাদি।
বর্তমানকালের কোন জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীতকালের কোন জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল পাওয়া গেলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
Cycas উদ্ভিদ Cycadales বর্গের অন্তর্গত। প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে Cycadales বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত ছিল। এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে এদেরকে পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে। এ বর্গের Cycas সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে আছে। এদের অনেক বৈশিষ্ট্য সেই আদি কালের বিলুপ্ত জীবাম্ম সাইকাস এর বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পূর্ণ এবং আদি প্রকৃতির। এজন্যই Cycas সহ বর্তমানকালের সকল সাইকাডসকে জীবন্ত জীবাশ্ম বা লিভিং ফসিল বলা হয়। সাইকাস হলো একটি জীবন্ত জীবাশ্বের অন্যতম উদাহরণ।
উদ্দিপকের চিত্র 'M' যে উদ্ভিদগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে তা হল নগ্নবীজী উদ্ভিদ।
যে সকল উদ্ভিদের ফুল ও বীজ হয় কিন্তু গর্ভাশয় থাকে না বিধায় ফল উৎপন্ন হয় না এবং বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে তাদেরকে নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলে। যেমন: সাইকাস, পাইনাস। এদের বৈশিষ্ট্য নেমে দেওয়া হল।
নগ্নবীজী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য:
১. এরা সকলেই স্থলজ, মরুজ স্বভাবের। তবে জলজ বা উভচর সদস্য অনুপস্থিত।
২. এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং তা মূল, কান্ড ও পাতায় বিভক্ত এবং এটি বহুবর্ষজীবী এবং চিরসবুজ।
৩. স্পোরোফাইটিক দেহে উন্নত পরিবহণ টিস্যু বিদ্যমান। তবে ভেসেল ও সঙ্গীকোষ অনুপস্থিত। কাজের ভাস্কুলার বান্ডলগুলো সমপার্শ্বীয় ও মুক্ত এবং ভাস্কুলার বান্ডলগুলো একত্রে বলয়াকারে বিন্যস্ত থাকে।
৪. এদের পাতা দুই ধরনের। যথা: বাদামী বর্ণের শল্কপত্র এবং সবুজ বর্ণের পল্লবপত্র।
৫. এরা সকলে অসমরেণুপ্রসূ।
৬. পুষ্প একলিঙ্গিক এবং সরল, যা শুধুমাত্র মাইক্রোস্পোরোফিল বা মেগাস্পোরোফিলের সমন্বয়ে গঠিত।
৭. মেগাস্পোরেফিলের গাত্রে ডিম্বক অনাবৃত অবস্থায় সৃষ্টি হয়।
৮. গর্ভমুক্ত না থাকায় পরাগরেণুগুলো সরাসরি ডিম্বকের ডিম্বকরন্ধ্রে পতিত হয়।
৯. স্ত্রী গ্যামিটোফাইটে সস্য (এন্ডোস্পার্ম)
নিষেকের পূর্বেই সৃষ্টি হয়। তাই সস্য সর্বদাই হ্যাপ্লয়েড। দ্বিনিষেক ঘটে না।
১০. এদের ভ্রুণে বীজপত্রের সংখ্যা এক, দুটি বা ততোধিক।
১১. ডিম্বক গর্ভাশয় নামক কোন প্রকোষ্ঠে আবদ্ধ না থাকার কারণে ডিম্বক শুধু বীজ গঠন করে কিন্তু ফল সৃষ্টি হয় না।
১২. গর্ভাশয় নেই তাই এদের কোনো ফল সৃষ্টি হয় না।
১৩. সকলেই বায়ু পরাগী।
উদ্দীপকের চিত্র দ্বারা নির্দেশিত গোত্রের উদ্ভিদ সমূহ হচ্ছে আবৃতবীজী উদ্ভিদ। যা বিশ্বের খাদ্য চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে।
আবৃতবীজী উদ্ভিদের গর্ভাশয় থাকে এবং বীজ ফলাবরণ দ্বারা আবৃত থাকে। এরা দুই প্রকার যথা: একবীজপত্রী ও দিবীজপত্রী উদ্ভিদ। খাদ্য হিসেবে বিশ্বজুড়ে এর ব্যবহার দৈনন্দিন পরিলক্ষিত হয়ে থাকে।
খাদ্য হিসেবে ব্যবহার:
১. Oryza sativa (ধান): বাঙালির প্রধান খাদ্য ভাত আসে ধানের চাল হয় থেকে। চিড়া, মুড়ি সবই আসে ধান বা চাল থেকে।
২. Saccharum officiarum (আখ, ইক্ষু): আখ থেকে গুড়, চিনি, জ্বালানি ইত্যাদি পাওয়া যায়।
৩. Triticum aestivum (গম): আটা, সুজি, ময়দা ইত্যাদির জন্য চাষ করা হয়।
৪. Zea mays (ভুট্টা): ভুট্টা থেকে খই জাতীয় বিভিন্ন প্রকার খাদ্য তৈরি করা হয়।
৫. Hordeumvulgare (যব): যবের আটার জন্য চাষ করা হয়।
৬. Cymbopogon citratus (লেমন ঘাষ): লেবুর গন্ধযুক্ত ঘাস। সুপ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
৭. শিম, বরবটি, ঢেঁড়স, মটরশুঁটি ইত্যাদি সবজি চাষ করা হয়। ঢেঁড়স শারীরিক দুর্বলতা সারতে এবং বহুমূত্র রোগের নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়।
৮.আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, বরই ইত্যাদি ফল চাষ করা হয়।
উপরিউক্ত আলোচনার মাধ্যমে বলা যায় যে, আবৃতবীজী উদ্ভিদ বিশ্বজুড়ে খাদ্য চাহিদা মেটাতে সহায়তা করে। দৈনন্দিন জীবনে এ সকল পুষ্টিকর খাদ্য এজাতীয় উদ্ভিদের অন্তর্গত। খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা হিসেবে বিবেচিত। উক্ত গোত্রটি এক্ষেত্রে খাদ্য যোগানের মাধ্যম হিসেবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।