নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
ক্রোমোজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাই হলো লোকাস।
অনুকূল (বা অভিযোজনমূলক) প্রকরণ সমন্বিত জীবেরা অন্যদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার প্রক্রিয়াকে প্রাকৃতিক নির্বাচন বলে। এরা প্রকৃতি দ্বারা নির্বাচিত হয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যায় বেঁচে থাকে এবং অত্যধিক হারে বংশবিস্তার করে। অপরদিকে প্রতিকূল প্রকরণসম্পন্ন জীবেরা প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারে না, ফলে অবলুপ্ত হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র 'M' হলো RNA। নিচে RNA-এর গঠন চিত্রসহ বর্ণনা করা হলো-
RNA হলো রাইবোনিউক্লিক এসিড। অধিকাংশ RNA তে একটি পলিনিউক্লিওটাইডের সূত্র থাকে। এতে পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা, অজৈব ফসফেট এবং নাইট্রোজেন বেস (এডিনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও ইউরাসিল) থাকে। RNA ভাইরাসের ক্রোমোজোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে RNA পাওয়া যায়। কিছু সংখ্যক ভাইরাসের - ক্ষেত্রে (যেমন- TMV, Tobacco Mosaic Virus) DNA অনুপস্থিত। অর্থাৎ যে সমস্ত ভাইরাস DNA দ্বারা গঠিত নয় তাদের
নিউক্লিক এসিড হিসেবে থাকে RNA। এসব ক্ষেত্রে RNA-ই বংশগতির বস্তু হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকের চিত্র 'N' হলো ক্রোমোজোম। মানব সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে ক্রোমোজোম তথা সেক্স ক্রোমোজোমের ভূমিকা অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
জীবের লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোজোমকে সেক্স ক্রোমোজোম বলে। সেক্স ক্রোমোজোম দুটি এবং নামে পরিচিত। স্ত্রীলোকের ডিপ্লয়েড কোষে দুটি সেক্স ক্রোমোজোমই ক্রোমোজোম অর্থাৎ । কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে দুটির মধ্যে একটি এবং অপরটি ক্রোমোজোম অর্থাৎ । এবং উভয় ধরনের সেক্স ক্রোমোজোমই আকৃতিতে লম্বা এবং রডের 'মতো তবে ক্রোমোজোম ক্রোমোজোমের তুলনায় কিছুটা ছোট। স্ত্রীলোকদের ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু সৃষ্টির সময় যখন মিয়োসিস বিভাজন ঘটে তখন প্রতিটি ডিম্বাণু অন্যান্য ক্রোমোজোমের সাথে একটি ক্রোমোজোম লাভ করে। অপরপক্ষে পুরুষে শুক্রাণু সৃষ্টির সময় অর্ধেক সংখ্যক শুক্রাণু একটি করে এবং অর্ধেক সংখ্যক শুক্রাণু একটি করে ক্রোমোজোম লাভ করে। ডিম্বাণু পুরুষের বা ক্রোমোজোমবাহী শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত 'হতে পারে। ফলে জাইগোটটি দুটি অথবা একটি এবং একটি ক্রোমোজোম বিশিষ্ট হতে পারে। দুটি নিয়ে যে শিশু জন্মাবে সে হবে একটি মেয়ে অর্থাৎ আর যে শিশু একটি এবং একটি অর্থাৎ নিয়ে জন্মাবে সে হবে একটি ছেলে।
অর্থাৎ মানব সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে ক্রোমোজোমের ভূমিকাই মুখ্য।
