নিচের চিত্র দুটি লক্ষ করো-
সময়ের সাথে সাথে কম বৈচিত্র্যপূর্ণ পূর্বের জীব থেকে সুশৃঙ্খল ও অনুক্রমিক পদ্ধতিতে পর্যায়ক্রমিকভাবে বৈচিত্র্যময় জীবের বিকাশকে অভিব্যক্তি বলে।
যে জৈব অভিব্যক্তির মাধ্যমে নতুন প্রজাতির উদ্ভবকালে দেখা যায় অনেক প্রজাতি কালের গর্ভে হারিয়ে যায়। উদাহরণ হিসেবে ডাইনোসরের কথা বলা যায়। দেখা গেছে যে, সময়ের সাথে যে প্রজাতিটির টিকে থাকার ক্ষমতা যত বেশি সে অভিব্যক্তির ধারায় তত বেশিদিন টিকে থাকতে পারে। অর্থাৎ যে পরিবেশ, জীবনপ্রবাহ ও জনমিতির মানদণ্ডে জৈব অভিব্যক্তিকে যে যত বেশি খাপ খাওয়াতে পারবে সেই প্রজাতিটি টিকে থাকবে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র-X. হলো ক্রোমোজোমের প্রধান রাসায়নিক উপাদান DNA DNA একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংখ্যা বৃদ্ধি করে তা হলো DNA অনুলিপন। নিচে DNA অনুলিপন প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করা হলো-
DNA অনুলিপন প্রক্রিয়ায় একটি DNA অণু থেকে আর একটি নতুন DNA অণু তৈরি হয় বা সংশ্লেষিত হয়। DNA অর্ধ-রক্ষণশীল পদ্ধতিতে অনুলিপিত হয়। এ পদ্ধতিতে DNA সূত্র দুটির হাইড্রোজেন বন্ধন ভেঙে গিয়ে আলাদা হয়ে যায়। তখন কোষের ভিতর ভাসমান নিউক্লিওটাইডগুলো থেকে A-এর সাথে T, T এর সাথে A, C এর G এবং G এর সাথে C যুক্ত হয়ে সূত্র দুটি তার পরিপূরক নতুন সূত্র সৃষ্টি করে। DNA এর দুটি সূত্রের ভিতর একটি পুরাতন সূত্র রয়ে যায়, তার সাথে একটি নতুন সূত্র সংযুক্ত হয়ে DNA অণুর সৃষ্টি হয়। একটি পুরাতন মাতৃ সূত্রক এবং একটি নতুন সূত্রকের সমন্বয়ে গঠিত বলে একে অর্ধ-রক্ষণশীল পদ্ধতি বলে। এভাবেই জীবদেহে একটি ডিএনএ থেকে নতুন ডিএনএ (দুই সেট) তৈরি হয়ে থাকে।
উদ্দীপকের চিত্র- এর তথ্য মতে, রোগটি হলো থ্যালাসেমিয়া।
এ রোগটি বংশ পরম্পরায় হয়ে থাকে। এ রোগটি হওয়ার জন্য মা-বাবাই দায়ী থাকে। জিন হলো বংশগতির ধারক ও বাহক। মা-বাবা দুজনই তাদের পূর্ববর্তী বংশধর থেকে থ্যালাসেমিয়ার জিন পায়, যা পরবর্তীতে তাদের সন্তানের শরীরে থ্যালাসেমিয়া জিন প্রবেশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিচে বাবা-মা থেকে সুস্থ, অসুস্থ কিংবা বাহক শিশু জন্ম গ্রহণের সম্ভাবনার অনুপাত বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্দীপকের তথ্যমতে, থ্যালাসেমিয়ার জিন = M
এবং সুস্থ জিন = m
সুতরাং বাহক বাবা এবং বাহক মায়ের সন্তানদের মধ্যে সুস্থ শিশু জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা চার ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ২৫%, সুস্থ কিন্তু বাহক শিশু জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা চার ভাগের ২ ভাগ অর্থাৎ ৫০% এবং অসুস্থ বা থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা চার ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ২৫%।
সুতরাং সন্তানদের সুস্থ, বাহক ও অসুস্থ হওয়ার অনুপাত = ১:২:১।
