নিচের চিত্র দুটি লক্ষ করো-
ক্রোমোজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাই হলো লোকাস।
কয়েক হাজার বছর সময়ের ব্যাপকতায় জীব প্রজাতির পৃথিবীতে আবির্ভাব ও টিকে থাকার জন্য যে পরিবর্তন ও অভিযোজন প্রক্রিয়া চলে তাকে অভিব্যক্তি বলে। পৃথিবীতে বর্তমানে যত জীব রয়েছে তারা বিভিন্ন সময়ে এ ভূমণ্ডলে আবির্ভূত হয়েছে। আবার অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী সময়ের আবর্তে লুপ্ত হয়েছে। এছাড়াও কোনো কোনো জীব ধীর পরিবর্তন ঘটিয়ে এখনও টিকে আছে। এ চলমান প্রক্রিয়াই বিবর্তন।
উদ্দীপকের চিত্র: A হলো ক্রোমোজোমের প্রধান রাসায়নিক উপাদান DNA। নিচে DNA অণুর গঠন বর্ণনা করা হলো-
DNA ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান। DNA সাধারণত দ্বি-সূত্রকবিশিষ্ট পলিনিওক্লিওটাইডের সর্পিলাকার গঠন। একটি সূত্রক অন্যটির পরিপূরক। এতে পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট শর্করা, নাইট্রোজেনঘটিত বেস ও অজৈব ফসফেট থাকে। এ তিনটি উপাদানকে একত্রে "নিউক্লিওটাইড” বলে। DNA ক্রোমোজোমের স্থায়ী পদার্থ। নাইট্রোজেন বেসগুলো দু'ধরনের। যথা- পিউরিন ও পাইরিমিডিন। এডিনিন (A) ও গুয়ানিন (G) হলো পিউরিন এবং সাইটোসিন (C) ও থায়ামিন (T) বেস হলো পাইরিমিডিন। একটি সূত্রের এডিনিন (A) অন্য সূত্রের থায়ামিন (T) এর সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ড দ্বারা যুক্ত (A = T) থাকে এবং একটি সূত্রের গুয়ানিন (G) অন্য সূত্রের সাইটোসিনের (C) সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ড দ্বারা (G = C) যুক্ত থাকে। অর্থাৎ এ বন্ধন একটি পিউরিন ও পাইরিমিডিনের মধ্যে হয়ে থাকে। সুতরাং দুটি সূত্রের একটি অন্যটির পরিপূরক কিন্তু এক রকম নয়। হেলিক্সের প্রতিটি পূর্ণ ঘূর্ণন ৩৪ Å দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট এবং একটি পূর্ণ ঘূর্ণনের মধ্যে ১০টি নিউক্লিওটাইড থাকে। সুতরাং পার্শ্ববর্তী দুটি নিউক্লিওটাইডের দূরত্ব ৩.৪ Å। DNA ডাবল হেলিক্সের ব্যাস সর্বত্র ২০Å।
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র: B দ্বারা মানুষের ক্রোমোজোমকে বুঝানো হয়েছে। মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে সেক্স ক্রোমোজোমের (XX এবং XY) ভূমিকা অপরিসীম। নিচে লিঙ্গ নির্ধারণে সেক্স ক্রোমোজোমের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো-
মানবদেহে ক্রোমোজোম সংখ্যা ৪৬টি বা ২৩ জোড়া। এর মধ্যে ৪৪ টিকে বা ২২ জোড়াকে অটোজোম এবং এক জোড়াকে সেক্স ক্রোমোজোম বলা হয়। সেক্স ক্রোমোজোম দুটি X এবং Y নামে পরিচিত। জীবের লিঙ্গ নির্ধারণে এই সেক্স ক্রোমোজোম মুখ্য ভূমিকা পালন করে। স্ত্রীলোকের ডিপ্লয়েড কোষে দুটি সেক্স ক্রোমোজোমই X ক্রোমোজোম অর্থাৎ XX। কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে দুটির মধ্যে একটি X এবং অপরটি Y ক্রোমোজোম অর্থাৎ XY। স্ত্রীলোকদের ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু সৃষ্টির সময় যখন মিয়োসিস বিভাজন ঘটে তখন প্রতিটি ডিম্বাণু অন্যান্য ক্রোমোজোমের সাথে একটি X ক্রোমোজোম লাভ করে। অপরপক্ষে, পুরুষে শুক্রাণু সৃষ্টির সময় অর্ধেক সংখ্যক শুক্রাণু একটি করে X এবং অর্ধেক সংখ্যক শুক্রাণু একটি করে Y ক্রোমোজোম লাভকরে। ডিম্বাণু পুরুষের X বা Y ক্রোমোজোমবাহী শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হতে পারে। ফলে জাইগোটটি দু'টি X অথবা একটি X এবং একটি Y ক্রোমোজোম বিশিষ্ট হতে পারে। দুটি X নিয়ে যে শিশু জন্মাবে সে হবে একটি মেয়ে (XX) আর যে শিশু একটি X এবং একটি Y অর্থাৎ XY নিয়ে জন্মাবে সে হবে একটি ছেলে (XY)।
এভাবেই ক্রোমোজোমের মাধ্যমে লিঙ্গ নির্ধারিত হয় অর্থাৎ লিঙ্গ নির্ধারণে ক্রোমোজোম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
