নিচের চিত্র দুটি লক্ষ করো-
মাইটোকন্ড্রিয়ার ক্রিস্টির গায়ে বৃন্তযুক্ত গোলাকার যে বস্তু থাকে তাকে অক্সিজোম বলে।
যেসব গ্রন্থি নালিবিহীন, ক্ষরণ সরাসরি রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে বাহিত হয়ে দূরবর্তী সুনির্দিষ্ট অঙ্গে ক্রিয়াশীল হয়, সেসব গ্রন্থিকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলে। এসব গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রসকে হরমোন বা প্রাণরস বলে। যেমন- পিটুইটারি গ্রন্থি, থাইরয়েড গ্রন্থি ইত্যাদি।
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র-B অঙ্গাণুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া, যা কোষের শক্তিঘর বা পাওয়ার হাউস নামে পরিচিত। নিচে মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-
১. মাইটোকন্ড্রিয়া গোলাকার বা দণ্ডাকার হয়ে থাকে।
২. মাইটোকন্ড্রিয়া দুই স্তরবিশিষ্ট আবরণী বা ঝিল্লি দিয়ে ঘেরা।
৩. এর ভিতরের স্তরটি ভিতরের দিকে ভাঁজ হয়ে থাকে। এদের ক্রিস্টি বলে।
৪. ক্রিস্টির গায়ে বৃন্তযুক্ত গোলাকার বস্তু থাকে। এদের অক্সিজোম বলে।
৫. অক্সিজোমে উৎসেচকগুলো সাজানো থাকে।
৬. মাইটোকন্ড্রিয়নের (এক বচন) ভিতরে থাকে ম্যাট্রিক্স।
৭. জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ।
৮. শ্বসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ক্রেবস চক্রের বিক্রিয়াগুলো মাইটোকন্ড্রিয়াতে সম্পন্ন হয়।
৯. মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের 'শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র' বা 'পাওয়ার হাউজ' বলা হয়।
উদ্দীপকের চিত্র- 'A' হলো নিউরন বা স্নায়ুকোষ। মানবদেহের এবং উচ্চতর প্রাণীতে এই নিউরন বা স্নায়ুকোষ থাকার কারণেই মস্তিষ্কের ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সমন্বয় সাধন করতে পারে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
একটি আদর্শ নিউরনের তিনটি অংশ থাকে, কোষদেহ, ডেনড্রাইট এবং অ্যাক্সন। কোষদেহের চারদিকে ক্ষুদ্রক্ষুদ্র শাখা বের হয় তাদেরকে ডেনড্রাইট বলা হয়। নিউরনের কোষদেহ থেকে একটি লম্বা স্নায়ুতন্ত্র বের হয় তাকে বলে অ্যাক্সন। একটি নিউরনের একটি মাত্র অ্যাক্সন থাকে। পরপর দুটি নিউরনে প্রথমটির অ্যাক্সন এবং পরেরটির ডেনড্রাইটের মধ্যে একটি স্নায়ুসন্ধি গঠিত হয়, তাকে সিন্যাপস বলে। সিন্যাপসের মধ্য দিয়েই একটি নিউরন থেকে উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে পরিবাহিত হয়। স্নায়ু টিস্যু উদ্দীপনা গ্রহণ করে মস্তিষ্কে প্রেরণ করে এবং মস্তিষ্ক তাতে সাড়া দেয়। উচ্চতর প্রাণীতে স্নায়ু টিস্যু স্মৃতি সংরক্ষণ করাসহ দেহের বিভিন্ন অঙ্গের সাথে যেমন ঘ্রান, দর্শন, তাপ, স্পর্শ, চাপ, শ্রবণ ও দেহের ভারসাম্য রক্ষা, স্বাদ গ্রহণ, পাকস্থলী ও ফুসফুসের কার্যকারিতা ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ এবং তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে থাকে।
