| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্র দুটি…’ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ ২০২৫ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জটিল খাদ্যবস্তু বিভিন্ন এনজাইমের সহায়তায় ভেঙে জীবদেহের বিপাক ক্রিয়ায় ব্যবহারযোগ্য সরল দ্রবণীয় ও শোষণযোগ্য অবস্থায় পরিবর্তিত হয় তাই পরিপাক।
মানুষের ৭ম সারভাইকেল কশেরুকা বা ভার্টিব্রা প্রমিন্যান্স এর চিহ্নিত চিত্র নিচে দেয়া হলো-
উদ্দীপকের "A" অঙ্গটি হলো যকৃত। এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি। যকৃতে নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। যকৃত দেহের সঞ্চয়ী ও বিপাকীয় ভূমিকা পালন করে বলে যকৃতকে জৈব রসায়নাগার বলা হয়। যকৃত প্রায় পাঁচ শতাধিক জৈবনিক কাজ সম্পন্ন করে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। নিচে যকৃতের বিপাকীয় ও সঞ্চয়ী ভূমিকা বর্ণনা করা হলো-
যকৃতের বিপাকীয় ভূমিকা:
১. শর্করা বিপাক: যকৃৎ গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেন এবং ইনসুলিন নিঃসরণের মাধ্যমে শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
২. প্রোটিন বিপাক: যকৃৎ ডিঅ্যামিনেশন এবং প্লাজমা প্রোটিন উৎপাদনের মাধ্যমে প্রোটিন বিপাকে অংশগ্রহণ করে।
৩. ফ্যাট বিপাক: যকৃৎ অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটকে ফ্যাটে রূপান্তর করে এবং রক্ত থেকে ক্লোলেস্টেরল সরিয়ে- ফ্যাট বিপাকে অংশগ্রহণ করে।
৪. তাপ উৎপাদন: যকৃতের অভ্যন্তরে নানা ধরনের বিক্রিয়া সংঘটিত হওয়ায় এখানে প্রচুর তাপ উৎপাদিত হয়। এই তাপ দেহের সমগ্র সঞ্চালিত হয়ে তাপমাত্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
৫. টক্সিন বা বিষ অপসারণ: যকৃৎ কোষের অভ্যন্তরে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় এই বিষ প্রশমিত করে।
যকৃতের সঞ্চয়ী ভূমিকা:
১. গ্লাইকোজেন সঞ্চয়: গ্লুকোজ যকৃতে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত থাকে।
২. রক্তসঞ্চয়: যকৃৎ রক্তের ভাণ্ডার হিসাবে কাজ করে। ১৫০০ সি. সি. রক্ত এতে জমা থাকে। প্রয়োজনে রক্তের অভাব পূরণ করে।
৩. ভিটামিন সঞ্চয়: যকৃৎ স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিনসমূহ , পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (B ও C), নিকোটিনিক অ্যাসিড এবং ফলিক অ্যাসিড সঞ্চয় করে।
৪. চর্বি ও অ্যামিনো অ্যাসিড সঞ্চয়: শর্করাকে চর্বিতে পরিণত করে এবং অ্যামিনো অ্যাসিড ও চর্বি সঞ্চয় করে যকৃত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৫. খনিজদ্রব্য সঞ্চয়: সুস্থ দেহের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ; যেমন- কপার, জিংক, কোবাল্ট, মলিবডেনাম প্রভৃতিসহ আয়রন ও পটাশিয়াম যকৃতে সঞ্চিত থাকে।
উদ্দীপকের B চিত্রটি হলো মাছ যা মাবনদেহের আমিষ জাতীয় খাদ্য উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নিচে আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিপাক পদ্ধতি বিশ্লেষণ করা হলো-
আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিপাক পাকস্থলিতে শুরু হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে শেষ হয়। মুখবিবরের লালারসে আমিষ পরিপাককারী এনজাইম না থাকায় মুখবিবরে আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিপাক ঘটে না। বরং খাদ্য চিবানোর সময় লালারস মিশে খাদ্যকে পিচ্ছিল ও নরম করে। পাকস্থলিতে পাচকরসের পেপসিনোজেন নামক নিষ্ক্রিয় প্রোটিওলাইটিক জাইমোজেন HCI-এর উদ্দীপনায় সক্রিয় হয়ে পেপসিন নামক সক্রিয় উৎসেচকে পরিণত হয়। পেপসিন অম্লীয় মাধ্যমে জটিল আমিষকে আর্দ্র বিশ্লেষণ করে প্রোটিওজ ও পেপটোনে পরিণত করে। এ অপরিপাককৃত খাদ্য অম্লীয় কাইমে পরিণত হয় এবং ধীরে ধীরে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। ডিওডেনামের ক্ষারীয় মাধ্যমে এন্টারোকাইনেজ নামক উৎসেচকের প্রভাবে আন্ত্রিক রস ও অগ্ন্যাশয় রসের নিষ্ক্রিয় প্রোটিওলাইটিক জাইমোজেন ট্রিপসিনোজেন সক্রিয় এনজাইম ট্রিপসিনে পরিণত হয়। ট্রিপসিন প্রোটিওজ ও পেপটোন নামক আমিষকে ভেঙে অ্যামাইনো অ্যাসিড ও ডাইপেপটাইডে পরিণত করে। এরপর খাদ্য ইলিয়ামে প্রবেশ করে। ইলিয়ামে প্রায় পরিপাককৃত খাবার পৌঁছালে এর প্রাচীর থেকে এন্টেরোক্রিনিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। এর প্রভাবে ইলিয়ামের প্রাচীর থেকে নিঃসৃত ইরেপসিন নামক সক্রিয় প্রোটিওলাইটিক উৎসেচক ডাইপেপটাইড সমূহকে ভেঙে অ্যামিনো এসিডে পরিণত করে। ইলিয়ামের ভিলাইসমূহ কর্তৃক অ্যামিনো অ্যাসিড শোষিত হয়।