| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্র দুটি…’ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ ২০২৬ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্র দুটি লক্ষ করো:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
রুই মাছের ডিম পাড়ার উপযুক্ত পরিবেশের অভাব হলে পরিপক্ব ডিমগুলো এদের দেহ কর্তৃক শোষিত হওয়ার ঘটনাকে অ্যাটরেশিয়া বলে।
দ্বিপদ নামকরণের প্রধান নিয়ম হলো প্রতিটি বৈজ্ঞানিক নাম অবশ্যই ল্যাটিন ভাষায় হতে হবে এবং এতে দুটি অংশ (গণ ও প্রজাতি) থাকবে। ছাপার সময় নামগুলো ইটালিক অক্ষরে লিখতে হয় এবং হাতে লেখার সময় গণ ও প্রজাতির নামের নিচে আলাদাভাবে দাগ দিতে হয়। এছাড়া গণের প্রথম অক্ষর বড় হাতের এবং প্রজাতির সব অক্ষর ছোট হাতের হওয়া আবশ্যক।
উদ্দীপকের N চিত্রটি মানুষের শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষার প্রধান অঙ্গ কর্ণ বা কানকে নির্দেশ করছে। এর গঠন ও কাজ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
গঠন: মানুষের কান প্রধান তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা-
বহিঃকর্ণ : এটি পিনা, বহিঃঅডিটরি মিটাস এবং টিম্প্যানিক মেমব্রেন নিয়ে গঠিত। এটি শব্দ তরঙ্গ সংগ্রহ করে ভেতরে পাঠায়।
মধ্যকর্ণ : এটি একটি বায়ুপূর্ণ গহ্বর যা ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস নামক তিনটি ক্ষুদ্র হাড় এবং ইউস্টেশিয়ান নালি নিয়ে গঠিত।
অন্তঃকর্ণ: এটি ভেস্টিবুলার অ্যাপারেটাস এবং ককলিয়া নিয়ে গঠিত। ককলিয়া শ্রবণ উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং ভেস্টিবুলার অংশ ভারসাম্য রক্ষা করে।
কাজ:
শ্রবণ ক্রিয়া: পিনা শব্দ তরঙ্গ সংগ্রহ করে টিম্প্যানিক মেমব্রেনে আঘাত করে, যা মধ্যকর্ণের হাড়গুলোর মাধ্যমে ককলিয়ায় পৌঁছায় এবং মস্তিষ্কে শ্রবণ অনুভূতি পাঠায়।
ভারসাম্য রক্ষা: অন্তঃকর্ণের অর্ধবৃত্তাকার নালি এবং অটোলিথ অঙ্গ দেহের চলন ও অবস্থানের পরিবর্তন শনাক্ত করে মস্তিষ্ককে সিগন্যাল পাঠিয়ে দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।
সুতরাং, উদ্দীপক N অঙ্গটি আমাদের শোনার পাশাপাশি চলাফেরা ও শরীরের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপক M-এ বর্ণিত ঘটনাটি মেন্ডেলের ২য় সূত্র বা স্বাধীনভাবে বিন্যাস সূত্রকে নির্দেশ করছে। এই সূত্র অনুযায়ী, দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটালে প্রথম অপত্য বংশে () কেবল প্রকট বৈশিষ্ট্যগুলোই প্রকাশিত হবে; কিন্তু জননকোষ উৎপাদনের সময় বৈশিষ্ট্যগুলো জোড়া ভেঙে পরস্পর থেকে স্বতন্ত্র বা স্বাধীনভাবে বিন্যস্ত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন জননকোষে প্রবেশ করবে। নিচে উদ্দীপকটির জিনতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করা হলো-
জিনতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা:
মনে করি, মেন্ডেলের ডাই-হাইব্রিড ক্রসের ক্ষেত্রে-
বীজের গোল আকারের জিন (প্রকট) এবং কুঞ্চিত আকারের জিন। (প্রচ্ছন্ন)।
বীজের হলুদ বর্ণের জিন = Y (প্রকট) এবং সবুজ বর্ণের জিন = y (প্রচ্ছন্ন)।
বিশুদ্ধ গোলাকার-হলুদ বীজবিশিষ্ট উদ্ভিদের জিনোটাইপ = RRYY
এবং বিশুদ্ধ কুঞ্চিত-সবুজ বীজবিশিষ্ট উদ্ভিদের জিনোটাইপ = rryy
নিচে চেকার বোর্ডের মাধ্যমে জনুর ফলাফল দেখানো: হলো-
চেকার বোর্ডের মাধ্যমে দেখা যায় যে, জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত হবে ৯: ৩: ৩: ১। অর্থাৎ, ৯টি গোল-হলুদ, ৩টি গোল- সবুজ, ৩টি কুঞ্চিত-হলুদ এবং ১টি কুঞ্চিত-সবুজ উদ্ভিদ পাওয়া যাবে। এই পরীক্ষা থেকে প্রমাণিত হয় যে, জননকোষ সৃষ্টির সময় বৈশিষ্ট্যের জিনগুলো একে অপরের ওপর নির্ভর না করে স্বাধীনভাবে ভিন্ন ভিন্ন জননকোষে প্রবেশ করে, যা উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।