| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্র দুটি…’ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ ২০২৬ – মানবদেহের প্রতিরক্ষা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্র দুটি লক্ষ করো :
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১০
ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে উদ্ভূত ভিসেরাল পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা আবৃত দেহ গহ্বরকে সিলোম বলে।
মানুষের পেলভিক গার্ডেলের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো-
মানবদেহে শ্বসন গ্যাস (অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড) রক্তে সরাসরি বুদবুদ আকারে বা মুক্ত গ্যাসরূপে পরিবাহিত হতে পারে না, কারণ এতে রক্তের স্বাভাবিক চাপ ও পিএইচ (pH) ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাই এগুলো মূলত বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগ বা দ্রবীভূত অবস্থায় পরিবাহিত হয়। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো-
১. অক্সিজেন পরিবহণ : অক্সিজেন রক্তে মূলত দুইভাবে পরিবাহিত হয়। যথা-
অক্সিজেন-হিমোগ্লোবিন যৌগ হিসেবে : রক্তে থাকা লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অস্থায়ী অক্সিহিমোগ্লোবিন - গঠন করে। এভাবে প্রায় ৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয়।
ভৌত দ্রবণ হিসেবে : মাত্র ২% অক্সিজেন রক্তরসে (প্লাজমা) দ্রবীভূত অবস্থায় পরিবাহিত হয়। এটি মুক্ত গ্যাসরূপে থাকে না, বরং তরলে মিশ্রিত থাকে।
২. কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিবহণ : কার্বন ডাইঅক্সাইড রক্তে তিনভাবে পরিবাহিত হয় যা প্রমাণ করে এটি মুক্ত অবস্থায় থাকে না।
বাইকার্বোনেট হিসেবে : সবচেয়ে বেশি পরিমাণ (প্রায় ৭০%) লোহিত রক্তকণিকা ও প্লাজমায় সোডিয়াম ও পটাশিয়াম বাইকার্বোনেট যৌগ হিসেবে পরিবাহিত হয়।
কার্বামিনো যৌগ হিসেবে : প্রায় ২৭% হিমোগ্লোবিন ও প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে কার্বামিন্যেহিমোগ্লোবিন ও কার্বামিনোপ্রোটিন গঠন করে পরিবাহিত হয়।
কার্বনিক এসিড হিসেবে : মাত্র ৩% পানির সাথে বিক্রিয়া করে কার্বনিক এসিড তৈরি করে যা রক্তরসে দ্রবীভূত থাকে।
উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড শরীরের কোষ ও ফুসফুসের মধ্যে যাতায়াতের সময় সর্বদা কোনো না কোনো রাসায়নিক বন্ধন বা ভৌত দ্রবণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্ত থাকে। তাই উদ্দীপকের উক্তিটি সঠিক যে, এই গ্যাসগুলো মানবদেহে কখনো মুক্ত অবস্থায় পরিবাহিত হতে পারে না।
উদ্দীপকের P চিহ্নিত চিত্রটি নির্দেশ করে অ্যান্টিবডি। নিচে এর প্রকারভেদ আলোচনা করা হলো-
মানবদেহে কাজের ধরন এবং ভারী চেইনের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে অ্যান্টিবডি বা ইমিউনোগ্লোবিউলিনকে প্রধানত পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
IgG: এটি রক্ত ও লসিকায় সবচেয়ে বেশি পরিমাণে (প্রায় ৭৫%) থাকে। এটিই একমাত্র অ্যান্টিবডি যা গর্ভফুলের মাধ্যমে মায়ের শরীর থেকে ভূণে প্রবেশ করে শিশুর জন্মগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
IgA : এটি মূলত শরীরের বিভিন্ন নিঃসরণ যেমন- লালা, চোখের পানি এবং মায়ের শালদুধে থাকে (প্রায় ১৫%)। এটি শ্বাসতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের প্রবেশপথে জীবাণুকে বাধা দেয়।
IgM: এটি আকারে সবচেয়ে বড় এবং রক্তে ৫-১০% থাকে। শরীরে কোনো নতুন সংক্রমণ ঘটলে সবার আগে এই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে জীবাণুকে দলা পাকিয়ে ফেলে।
IgD: এটি রক্তে খুব সামান্য (১% এর কম) থাকে। এটি প্রধানত বি-লিম্ফোসাইট কোষকে সক্রিয় করার কাজে নিয়োজিত থাকে।
IgE: এটি রক্তে খুবই বিরল (০.১%)। এটি মূলত অ্যালার্জি জনিত প্রতিক্রিয়া এবং কৃমি বা পরজীবী সংক্রমণে শরীরকে সুরক্ষা প্রদান করে। সুতরাং, দেহের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় উদ্দীপকের এই পাঁচ ধরনের অ্যান্টিবডি একেকটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে আমাদের সুস্থ রাখে।