| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্র দুটি…’ শহিদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ ২০২৫ – কোষ ও এর গঠন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
পুষ্পপুট হলো এমন একটি অবস্থা যখন ফুলের বৃতি ও দলকে আকৃতি ও বর্ণে পৃথক করা যায় না অর্থাৎ দেখতে একই রকম মনে হয়।
C4 উদ্ভিদের পাতার বান্ডলসিথের চারদিকে ঘিরে ক্ষুদ্র ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত মেসোফিল কোষের পৃথক এক বা একাধিক স্তর মালার মতো অবস্থান করে। এ ধরনের অন্তর্গঠনকে ব্র্যাঞ্জ অ্যানাটমি (Kranz anatomy) বলে। "Kranz" জার্মান শব্দ, এর অর্থ হচ্ছে মালা। এরা উদ্ভিদকে অল্প পরিমাণ এর উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র-'B' হলো DNA। DNA জীবে বহুসংখ্যায় উপস্থিত থেকে প্যাঁচানো সূত্র গঠন করে। নিচে DNA. অণুর ভৌত গঠন বর্ণনা করা হলো-
DNA এর ভৌত গঠন:
১. দুটি পলিনিউক্লিওটাইড সূত্র পরস্পরের সাথে লোহার সিঁড়ির মতো ডানদিকে প্যাঁচানো থেকে একটি জোড় কুন্ডলী বা ডাবল হেলিক্স গঠন করে। এ সিড়ির দুদিকের হাতল নির্মিত হয় ডি-অক্সিরাইবোজ সুগার ও ফসফেট এর পর্যায়ক্রমিক সংযুক্তির মাধ্যমে এবং ধাপগুলো দুটি নাইট্রোজেন বেস দিয়ে গঠিত।
২. একটি নিউক্লিওটাইডের সুগারের ৫ম কার্বন অণুর সাথে ফসফেট যুক্ত থাকলে অপর নিউক্লিওটাইডের সুগার ৩য় কার্বন অণুর সাথে ফসফেট যুক্ত হয়। নাইট্রোজেন বেসটি সব সময় সুগারের ১ম কার্বনের সাথে যুক্ত থাকে।
৩. সিঁড়ির মতো প্যাচানো সূত্রদুটি একটি কাল্পনিক মধ্য অক্ষকে ঘিরে থাকে। সূত্র দুটি পরস্পরের সামান্তরালে কিন্তু বিপরীতমুখী হয়ে অবস্থান করে। অর্থাৎ একটি সূত্র 5'3' মুখী এবং অন্যটি 3'5' কার্বনমুখী অবস্থান থাকে ।
৪. বেসগুলো হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে যুক্ত হয়। কাজেই সিঁড়ির বাইরের দিকে থাকে ফসফেট এবং ভেতরের দিকে নাইট্রোজেন বেস। একটি সূত্রের গুয়ানিন অপর সূত্রের সাইটোসিনের সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে যুক্ত হয় এবং এক সূত্রের অ্যাডেনিন অপর সূত্রের থাইমিনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে সংযুক্ত থাকে।
৫. হেলিক্সের ব্যাস 20Å । দৈর্ঘ্য বিভিন্ন হতে পারে।
৬. একটি পূর্ণাঙ্গ, প্যাচ প্রতি 34Å দূরত্বে সম্পন্ন হয়। প্যাচটি হয় ডান থেকে বাঁদিকে। দশ নিউক্লিওাইড জোড়ের পর একেকটি প্যাচ সম্পন্ন হয়। প্রতি প্যাঁচে থাকে প্রায় ২৫টি হাইড্রোজেন বন্ড।
৭. বেস জোড়গুলো পরস্পর থেকে 3.4Å দূরত্বে অবস্থিত।
৮. DNA-র দৈর্ঘ্য বিভিন্ন হতে পারে, যেমন- মানুষের দেহেকোষের DNA-র দৈর্ঘ্য 174cm এবং ব্যাকটেরিয়ার DNA-র দৈর্ঘ্য 1.4 mm। DNA-র আণবিক ওজন 10-10° হতে পারে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'A' চিত্রটি হলো নিউক্লিয়াস যার 'X' ও 'Y' হলো যথাক্রমে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এবং নিউক্লিওলাস। সাধারণত নিউক্লিয়াসের গঠন অর্থাৎ নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাসের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর ভিত্তি করে জীবের কোষকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ১. আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ এবং ২. প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ। আদিকোষ ও প্রকৃতকোষের মধ্যে যথেষ্ট কোষীয় পার্থক্য বিদ্যমান। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. যেসব কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস অর্থাৎ নিউক্লিয়ার মেমব্রেন, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিওজালক থাকে না তাদেরকে আদিকোষ বলে। অন্যদিকে, যেসব কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস অর্থাৎ নিউক্লিয়ার মেমব্রেন, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিওজালক থাকে তাদেরকে প্রকৃতকোষ বলে।
২. আদিকোষে কোনো আবরণীবেষ্টিত অঙ্গাণু যেমন- মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বস্তু, লাইসোজোম ইত্যাদি থাকে না। কিন্তু প্রকৃতকোষে এসব অঙ্গাণু উপস্থিত।
৩. আদিকোষের নিউক্লিয়াসে শুধু একটিমাত্র ক্রোমাটিন বডি বা বৃত্তাকার এবং প্রান্তহীন DNA থাকে, কোনো ক্রোমোসোম গঠিত হয় না। অন্যদিকে প্রকৃতকোষের ক্রোমোসোম লম্বা, একাধিক ও দুই প্রান্তবিশিষ্ট এবং DNA সূত্রাকার।
৪. আদিকোষে অ্যামাইটোসিস বা দ্বি-বিভাজন কোষ বিভাজন দেখা যায় । কিন্তু প্রকৃতকোষে মাইটোসিস ও মায়োসিস কোষ বিভাজন দেখা যায় ৷
৫. ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া বা নীলাভ সবুজ শৈবাল, মাইকোপ্লাজমা ইত্যাদি আদিকোষের উদাহরণ । অন্যদিকে উন্নত সব ধরনের উদ্ভিদকোষ ও সকল প্রাণিকোষ প্রকৃতকোষের উদাহরণ।