| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্র দুটি…’ সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ২০২৫ – উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিকাশ ও জীবনধারণের জন্য যেসব উপাদান (১৭টি পুষ্টি উপাদান) প্রয়োজন সেসব উপাদানকেই বলা হয় অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান।
শ্বসন প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ যে পরিমাণ ত্যাগ করে এবং যে পরিমাণ গ্রহণ করে তার অনুপাতকে শ্বসন হার বলে। বিভিন্ন শ্বসনিক বস্তুর শ্বসন হার বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় শ্বসনিক বস্তু যদি গ্লুকোজ হয় তবে এটি সবাত শ্বসনের মাধ্যমে। ছয় অণু ত্যাগ করে এবং ছয় অণু গ্রহণ করে কাজেই এর শ্বসনিক বা শ্বসন হার (R.Q) = শ্বসনিকহার
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র-A এবং চিত্র-B দ্বারা পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধের কৌশল দেখানো হয়েছে। পত্ররন্ধ্র বন্ধ ও খোলার কৌশল সম্পর্কে বিভিন্ন বিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে মতবাদ দিয়েছেন। এর মধ্যে বিজ্ঞানী স্যায়েরির মতবাদ উল্লেখযোগ্য। তাঁর মতে পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধের ক্রিয়াকৌশল pH দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
বিজ্ঞানী স্যায়েরি এর মতবাদ : শ্বেতসার ও চিনির আন্তঃপরিবর্তন কোষ রসের pH এর জন্য ঘটে থাকে। রাত্রিতে সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু শ্বসন চলতে থাকে। শ্বসনের ফলে সৃষ্ট রক্ষীকোষের কোষরসে দ্রবীভূত হয় এবং কার্বনিক অ্যাসিড সৃষ্টি করে, তাই pH কমে গিয়ে 5 হয় । কোষরসের pH কম হলে কোষস্থ দ্রবণীয় চিনি অদ্রবণীয় শ্বেতসারে পরিণত হয়।তখন রক্ষীকোষে পানির বহিঃঅভিস্রবণ ঘটে এবং রক্ষীকোষদ্বয় সংকোচিত হয়ে যায় । ফলে পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। দিনের বেলায় সূর্যালোকের কারণে আবার সালোকসংশ্লেষণ শুরু হয়, ফলে কোষরসে দ্রবীভূত ব্যবহৃত হয়ে যায় এবং pH বেড়ে গিয়ে 7 হয় । কোষরসস্থ pH বেড়ে গেলে চিনির পরিমাণ বাড়ে। তখন অন্তঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ার পানি রক্ষীকোষে প্রবেশ করে এবং রক্ষীকোষ স্ফীত হয় ফলে পত্ররন্ধ্র খুলে যায়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ক্ষুদ্রাঙ্গটি হলো উদ্ভিদের পাতায় অবস্থিত পত্ররন্ধ্র। উদ্ভিদ পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ জৈবনিক কার্যাদি সম্পাদনে ভূমিকা পালন করে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
এটি উদ্ভিদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। পত্ররন্ধ্র পাতার উপরিতলে অবস্থিত দুটি অর্ধচন্দ্রাকৃতির রক্ষীকোষ দিয়ে বেষ্টিত। পত্ররন্ধ্রের রক্ষীকোষে একটি সুস্পষ্ট নিউক্লিয়াস, বহু ক্লোরোপ্লাস্ট ও ঘন সাইটোপ্লাজম থাকে। রক্ষীকোষে প্রচুর ক্লোরোপ্লাস্ট থাকায় এটি খাদ্য তৈরি করে।এ অঙ্গের মাধ্যমে তিনটি শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয়।
প্রস্বেদন: পাতাই উদ্ভিদের প্রধান প্রস্বেদন অঙ্গ। প্রস্বেদনকে প্রয়োজনীয় অমঙ্গল বলা হয় । উদ্ভিদদেহ থেকে অতিরিক্ত পানি প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় বাষ্পাকারে বের করে দেয়া পত্ররন্ধ্রের প্রধান কাজ। এতে পরিবেশ শীতল থাকে। অতি তাপের ক্ষতি থেকে উদ্ভিদাঙ্গ রক্ষা পায়।
শ্বসন:পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে শ্বসন চলতে থাকে। এ সময়ে উদ্ভিদ অঙ্গ ও বায়ুমণ্ডলের মধ্যে গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে ও ত্যাগ করে বা গ্রহণ করে। এতে বায়োমন্ডলীয় ভারসাম্য বজায় থাকে।
সালোকসংশ্লেষণ: পত্ররন্ধ্রে বহু ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে। ক্লোরোপ্লাস্টই সালোকসংশ্লেষণ এর স্থান। এরা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্য তৈরী করে থাকে এবং উদ্ভিদ বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাই বলা যায়, উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় পত্ররন্ধ্রের গুরুত্ব অপরিসীম।