নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
Bacillus thuringiensis (Bt) নামক ব্যাকটেরিয়ার জিন শস্যে প্রবেশ করানোর কারণে জেনেটিকভাবে পরিবর্তিত শস্যসমূহই Bt corn |
জীবপ্রযুক্তির বিশেষ রূপ হিসেবে কোষকেন্দ্রের জিনকণার পরিবর্তন ঘটিয়ে জীবদেহের গুণগত রূপান্তর ঘটানো হলো জিন প্রকৌশল বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা, নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টির জন্য কোনো জীবের পরিবর্তন ঘটানো হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পদ্ধতিটি হলো টিস্যু কালচার। এই পদ্ধতির মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদগুলো সংরক্ষণ করা যায়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
টিস্যু কালচার প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের বিভাজনক্ষম টিস্যু, যেমূন- কাণ্ডের শীর্ষাগ্র, মূলের অগ্রভাগ ইত্যাদি এক্সপ্লান্ট হিসেবে নির্বাচন করা হয়। এরপর এক্সপ্লান্টগুলোকে অটোক্লেভ যন্ত্রে জীবাণুমুক্ত করে কাচের পাত্রে রাখা আবাদ মাধ্যমে স্থাপন করা হয়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ এক্সপ্লান্ট থেকে ক্যালাস বা অণুচারা তৈরি হতে দেখা যায়। পরবর্তীতে অণুচারাগুলো মূল উৎপাদনকারী আবাদ মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। মূল তৈরি হওয়ার পর চারাগুলো টেস্টটিউব বা কাচের পাত্র থেকে সযত্নে বের করে পানিতে ধুয়ে টবের মাটিতে লাগানো হয়। এভাবে টিস্যুকালচারের মাধ্যমে উদ্ভিদের যেকোনো বিভাজনক্ষম টিস্যু থেকে মাতৃ উদ্ভিদের অনুরূপ চারা তৈরি করা সম্ভব। আর এভাবে টিস্যু কালচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ অর্থাৎ বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদগুলো সংরক্ষণ করা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত Y প্রযুক্তিটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। এটি সর্বাধুনিক জীবপ্রযুক্তি। চিকিৎসা ও পরিবেশ সুরক্ষায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। এর মাধ্যমে নতুন ও উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সমাধান করা যাচ্ছে। চিকিৎসা ও পরিবেশ রক্ষায় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভিন্ন ধরনের অবদান রেখেছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে ইস্ট নামক ছত্রাক থেকে হেপাটাইটিস বি-ভাইরাসের টিকা তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া এই প্রযুক্তিতে E. coli ব্যাকটেরিয়া এবং ইস্ট হতে বাণিজ্যিকভাবে ইনসুলিন তৈরি করা হচ্ছে, যা ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
পাশাপাশি এই দুটো প্রাণী থেকে মানববৃদ্ধি হরমোন এবং গ্রানোলুসাইট ম্যাক্রোফাজ কলোনি উদ্দীপক উপাদান তৈরি করে বেটেত্ব, ভাইরাসজনিত রোগ, ক্যান্সার, AIDS ইত্যাদি চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে। আবার জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে নতুন এক জাতের Pseudomonas ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করা হয়েছে। যা পরিবেশের তেল ও হাইড্রোকার্বনকে দ্রুত নষ্ট করে পরিবেশকে দূষণমুক্ত করতে সক্ষম। এছাড়া শিল্পক্ষেত্রের বর্জ্যশোধন, পয়ঃনিষ্কাশন, কয়লাখনি এলাকার দূষণমুক্ত করতে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।
