| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্র দুটি…’ সিলেট বোর্ড ২০২৫ – জীবপ্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১১
জীবের হ্যাপ্লয়েড ক্রোমোসোমে বিদ্যমান DNA-এর সমষ্টিকে জিনোম বলে।
জনন পদ্ধতিতে দাতা কোষের DNA-এর মাধ্যমে তার হুবহু প্রতিচ্ছবি সম্পন্ন নতুন প্রজন্ম সৃষ্টি করার কৌশল হলো রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং। ডলি নামক ভেড়ার সৃষ্টি এ পদ্ধতিতে করা হয়েছে। একটি ভেড়ার স্তন গ্রন্থি থেকে কোষ নিয়ে (একটি দাতাকোষ বা দাতা ভেড়া) তাকে আবাদ মাধ্যমে সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। পরে একটি ভেড়ার ডিম্বাণু কোষ (গ্রহীতা কোষ) নিয়ে তা থেকে নিউক্লিয়াস সরিয়ে তদস্থলে দাতা কোষের নিউক্লিয়াস প্রবেশ করানো হয়। ডিম্বাণুটি দাতা কোষের নিউক্লিয়াস নিয়ে বিভাজিত হয়ে ভ্রূণ সৃষ্টির পর্যায়ে পৌঁছায়। এ ভ্রূণ তৃতীয় একটি ভেড়ার জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। তৃতীয় ভেড়াটি নির্দিষ্ট সময় পর দাতা ভেড়ার চেহারা সম্পন্ন একটি বাচ্চার জন্ম দেয়। এরই নাম দেওয়া হয় ডলি।
উদ্দীপকের প্রক্রিয়া-M দ্বারা টিস্যু কালচারকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে টিস্যু কালচার প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো-
১. এক্সপ্লান্ট নির্বাচন: অবশ্যই নীরোগ ও উৎকৃষ্ট বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত উদ্ভিদ হতে এক্সপ্লান্ট নির্বাচন করতে হবে।
২. কালচার মিডিয়াম তৈরি: উদ্ভিদের পুষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য কালচার মিডিয়াম প্রস্তুত করা হয়। বিভিন্ন ধরনের মুখ্য ও গৌণ উপাদান ভিটামিন, সুক্রোজ, ফাইটোহরমোন প্রভৃতি এ মিডিয়ামে থাকা দরকার।
৩. জীবাণুমুক্তকরণ: কালচার মিডিয়াম জীবাণু মুক্ত রাখার জন্য পাত্রটিকে নির্জীবকরণ যন্ত্র দিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হয়।
৪. মিডিয়ামে এক্সপ্ল্যান্ট বা টিস্যু স্থাপন: এক্সপ্ল্যান্ট নির্জীব করে সম্পূর্ণ নির্জীব অবস্থায় কাচপাত্রে রাখা মিডিয়ামে স্থাপন করতে হবে।
৫. ক্যালাস সৃষ্টি ও সংখ্যা বৃদ্ধি: মিডিয়ামে এক্সপ্ল্যান্ট তথা টিস্যু বৈদ্যুতিক আলো ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বারবার বিভাজিত হয়ে একটি কোষীয় মণ্ডে পরিণত হয়। এই কোষীয় মণ্ডকে ক্যালাস বলে। ক্যালাস থেকে একসময়ে অসংখ্য মুকুল সৃষ্টি হয়।
৬. চারা উৎপাদন: মুকুলগুলোকে সাবধানে কেটে নিয়ে মূল উৎপাদনকারী মিডিয়ামে রাখা হলে সেখানে প্রতিটি মুকুল, মূল সৃষ্টি করে পূর্ণাঙ্গ চারায় পরিণত হয়।
৭. চারা টবে স্থানান্তর: উপযুক্ত সংখ্যক সুগঠিত মূল সৃষ্টি হলে সাম পূর্ণাঙ্গ চারাগাছ কালচার করা পাত্র থেকে সরিয়ে নিয়ে ধীর প্রক্রিয়ায় সাবধানতার সাথে টবে স্থানান্তর করা হয়। এভাবে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে চারাগাছ উৎপাদন কাজ সম্পন্ন করা হয়।
৮. প্রাকৃতিক পরিবেশ তথা মাঠ পর্যায়ে স্থানান্তর: টবে রোপিত চারাগাছগুলো কক্ষের বাইরে রেখে মাঝে মাঝে বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে সজীব ও সবল হয়ে উঠলে সেগুলোকে এক পর্যায়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে মাটিতে লাগানো হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত "M" ও "N" প্রক্রিয়া দুটি হলো যথাক্রমে টিস্যু কালচার প্রযুক্তি এবং রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি। নতুন জাত উদ্ভাবনে প্রক্রিয়া দুটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
টিস্যু কালচারের ভূমিকা:
১. দ্রুত গুণগতমান সম্পন্ন জাত তৈরি: একই গুণসম্পন্ন অনেক গাছ অল্প সময়ে তৈরি হয়।
২. রোগমুক্ত নতুন জাত উদ্ভাবন: মেরিস্টেম কালচারের মাধ্যমে রোগমুক্ত গাছ উৎপাদন সম্ভব।
৩. দুর্লভ বা বিলুপ্ত প্রায় জাত সংরক্ষণ: টিস্যু কালচারের মাধ্যমে বিলুপ্ত প্রায় জাতকে সংরক্ষণ করে নতুনভাবে ব্যবহার করা যায়।
৪. জিনতাত্ত্বিক একরূপতা: কৃত্রিমভাবে সব চারা একই বৈশিষ্ট্যের হয়, যা নতুন জাত তৈরিতে সাহায্য করে।
জিন প্রযুক্তির ভূমিকা:
১. চাহিদা অনুযায়ী বৈশিষ্ট্য যুক্তকরণ: যেমন- শুষ্কতা সহ্য করা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি
২. ট্রান্সজেনিক ফসল তৈরি: অন্য জীবের জিন এনে নতুন জাত উদ্ভাবন করা (যেমন: Bt Brinjal বা বিটি বেগুন)।
৩. উচ্চ ফলনশীল জাত তৈরি: উন্নত জিন সন্নিবেশ করে আধক ফলনশীল জাত তৈরি করা যায়।
৪. রোগ ও কীট প্রতিরোধী জাত: পোকামাকড় বা ভাইরাস প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনে সহায়তা করে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, নতুন জাত উদ্ভাবনে টিস্যু কালচার উদ্ভিদের গুণগত সংরক্ষণ ও দ্রুত বংশ বিস্তারে সাহায্য করে, আর জিন প্রযুক্তি উদ্ভিদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য উন্নত করে। তাই এই দুটি প্রযুক্তি একত্রে কৃষিতে বিপ্লব ঘটাতে পারে।