| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রের আলোকে…’ ঢাকা বোর্ড ২০২২ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
যখন দুটি ভিন্ন প্রজাতিভুক্ত জীব ঘনিষ্ঠভাবে সহাবস্থানের ফলে পরস্পরের কাছ থেকে উপকৃত হয়, তখন এ ধরনের সাহচর্যকে মিথোজীবিতা বলে। এ অবস্থায় জীবদুটিকে মিথোজীবী (symbiont) বলা হয় ।
ডিগবাজী চলন বা সমারসল্টিং (Somersaulting) Hydra-র সাধারণ ও দ্রুত চলন প্রক্রিয়া । এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমনের জন্য Hydra এর কয়েক ধরণের চলন রয়েছে। স্বল্প দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য Hydra সাধারণত সমারসল্টিং (Somersaulting) বা ডিগবাজী চলন অনুসরণ করে থাকে । চলনের শুরুতে Hydra দেহকে বাঁকিয়ে চলনের গতিপথে কর্ষিকাস্থিত গুটিন্যান্ট জাতীয় নেমাটোসিস্টের সাহায্যে গতিপথকে স্পর্শ করে, ফলে একটি লুপ বা ফাঁস তৈরি হয় । পরে পাদ-চাকতি বিমুক্ত করে কর্ষিকার উপর ভর দিয়ে দেহকে সোজা করে দেয় এবং পুনরায় দেহকে বাঁকিয়ে পাদ-চাকতির সাহায্যে গতিপথকে স্পর্শ করে, ফলে আরেকটি লুপ তৈরি হয় । এরপর কর্ষিকা মুক্ত করে পাদ-চাকতির উপর ভর করে দেহকে সোজা করে দেয় । বার বার এ প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে Hydra দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যায়।
খ চিত্রটি হলো পেশি-আবরণী কোষ (Musculo-Epithelial Cell) এর।
বৈশিষ্ট্যসমূহ : ১.পেশি-আবরণী কোষ (Musculo-Epithelial Cell) : এপিডার্মিসের অন্যান্য কোষের তুলনায় পেশি-আবরণী কোষগুলো আকারে বড় এবং সংখ্যায় অধিক । ২. কোষগুলো কোণাকার বা নাসপাতি আকৃতির এবং এপিডার্মিসের সম্পূর্ণ পুরুত্ব বরাবর মেসোগ্লিয়ার উপর অবস্থান করে । ৩. প্রতিটি কোষের একটি বড় নিউক্লিয়াস, অনেকগুলো গহ্বর এবং আদর্শ প্রাণিকোষে উপস্থিত সকল অঙ্গাণুই বর্তমান । ৪.প্রতিটি কোষের দুটি কার্যকরী অংশ থাকে, যেমন- (i) বাইরের দিকের প্রশস্ত মিউকাস দানাযুক্ত আবরণী অংশ এবং (ii) ভিতরের দিকের সরু দুটি পেশি প্রবর্ধন মায়োনিম (এক ধরনের নমনীয় 3 সঙ্কোচন-প্রসারণশীল তন্তু) সূত্রক সমৃদ্ধ পেশিময় অংশ ৫. কর্ষিকায় কোষগুলো বেশ বড় ও চাপা এবং কয়েকটি করে নিডোব্লাস্ট (পরিস্ফুটনরত নিডোসাইট) ধারণ করে । ৬.পেশি-আবরণী কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত "চ" অংশটি হলো Hydra-র নেমাটোসিস্ট। নিচে Hydra-র বিভিন্ন নেমাটোসিস্টের প্রকারভেদ বর্ণনা করা হলো-
১. স্টিনোটিল: হাইড্রার চার ধরনের নেমাটোসিস্টের মধ্যে এগুলোই বৃহত্তম। এদের সূত্রক লম্বা, ফাঁপা, শীর্ষ উন্মুক্ত, বাট প্রশস্ত এবং তিনটি বড় তীক্ষ্ম বার্ব ও তিন সারি সর্পিলাকারে সজ্জিত অতি ক্ষুদ্র বার্বিউল যুক্ত। এর ভেতরে হিপনোটক্সিন নামক বিষাক্ত তরল থাকে।
২. ভলভেন্ট : এগুলো অপেক্ষাকৃত ছোট কিন্তু সূত্রকটি খাটো, মোটা, স্থিতিস্থাপক, কাঁটাবিহীন এবং বন্ধ শীর্ষযুক্ত।
৩. স্ট্রেপটোলিন গ্লুটিন্যান্ট : এর সূত্রক লম্বা, দেহ সর্পিলাকারে সজ্জিত কাঁটাযুক্ত, বাট সুগঠিত নয় এবং শীর্ষদেশ উন্মুক্ত।
৪. স্ট্রেরিওলিন গ্লুটিন্যান্ট : এগুলো ক্ষুদ্রতম নেমাটোসিস্ট, সূত্রক লম্বা, অসংখ্য ও অতি ক্ষুদ্র কাঁটাযুক্ত, বাট সুগঠিত নয় এবং শীর্ষদেশ উন্মুক্ত।