| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রের আলোকে…’ যশোর বোর্ড ২০২২ – শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকের সংক্রমণে বা এলার্জিজনিত কারণে সাইনাসের মিউকাস পর্দায় যে প্রদাহের সৃষ্টি হয় তাকেই সাইনুসাইটিস বলে ।
কোন কারণে যেমন- বৈদ্যুতিক শক লাগা, অক্সিজেনের অভাব, কার্বন মনোঅক্সাইড-এর বিষক্রিয়া, পানিতে ডোবা, ভূমিকম্প, জলোচ্ছাস, ঘাড়ে বা মাথায় ইনজুরি ইত্যাদি কারণে শ্বাস-প্রশ্বাস ক্রিয়া অথবা হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে এমন জরুরী পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ব্যক্তির মুখ বা নাক দিয়ে যান্ত্রিক বা কায়িক ছন্দোময় প্রক্রিয়ায় বাতাস অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়ে বা বের করে দিয়ে পুনরায় শ্বাস-প্রশ্বাস বা হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক করে তুলে ভুক্তভোগি ব্যক্তিকে বাঁচিয়ে তোলার নামই কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস। তবে এ কাজটি করতে হবে একজন প্রশিক্ষিত ব্যক্তিকে দিয়ে। দুর্ঘটনায় কারো শ্বাস-প্রশ্বাস বা হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'P' ও 'Q' প্রশ্বাস বা শ্বাস গ্রহণ (ফুসফুসে অক্সিজেন প্রবেশ) এবং নিঃশ্বাস বা শ্বাস ত্যাগ (ফুসফুস থেকে বের হয়ে যাওয়া) কে বুঝানো হয়েছে। নিচে তা বর্ণনা করা হলো-
শ্বাস গ্রহণকালে গৃহীত অক্সিজেন ফুসফুসে থাকে। ফুসফুসের অ্যালভিওলাস থেকে আগত রক্তে -এর চাপ থাকে 40mmHg। সুতরাং ফুসফুস থেকে অক্সিজেন () ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ফুসফুসীয় ঝিল্লি ভেদ করে রক্তে প্রবেশ করে। রক্তে দুভাবে পরিবাহিত হয় যথা- ভৌত দ্রবণরূপে ও রাসায়নিক যৌগ রূপে।
প্রতি 100 মি. লি. রক্তে 0.2 মি. লি. অক্সিজেন ভৌত দ্রবণরূপে পরিবাহিত হয়। বাকি অক্সিজেন রাসায়নিক যৌগরূপে পরিবাহিত হয় রক্তে প্রবেশের পর তা লোহিত কণিকায় অবস্থিত হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন গঠন করে । পরবর্তীতে এ অক্সিজেন হিমোগ্লোবিন থেকে পৃথক হয়ে কলাকোষে প্রবেশ করে।
আবার, জীবদেহে কোষের বিপাকীয় কাজের ফলে কোষে সৃষ্টি হয়। এই তিনটি ভিন্ন পদ্ধতিতে রক্তে পরিবাহিত হয়। কিছু পরিমাণ (৫%) রক্তের প্লাজমার পানির সাথে বিক্রিয়া করে কার্বনিক এসিড (H₂CO₃) রূপে পরিবাহিত হয়।
কিছু পরিমাণ কার্বোমিনো যৌগরূপে পরিবাহিত হয়। এই - প্রক্রিয়ায় লোহিত কণিকায় প্রবেশ করে হিমোগ্লোবিনের প্রোটিন অংশের অ্যামিনো গ্রুপের (-) সাথে যুক্ত হয়ে কার্বোমিনো হিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে।
-এর বেশিরভাগই (৬৫%) রক্তে বাইকার্বনেটরূপে পরিবাহিত হয়। এটি রূপে প্লাজমার মাধ্যমে এবং রূপে লোহিত কণিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। এভাবে শিরারক্ত থেকে ফুসফুসের অ্যালভিওলাসে প্রবেশ করে এবং দেহের বাহিরে নির্গত হয়। এভাবে ফুসফুসে ও এর গমনাগমন বা গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বদ অভ্যাসটি হলো ধূমপান। এর দ্বারা ফুসফুস বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
ধূমপান শ্বসনতন্ত্র ও শ্বসন প্রক্রিয়ার উপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে যার ফলশ্রুতিতে শ্বসনতন্ত্রের ও শ্বসনজনিত বিভিন্ন জটিল রোগ সৃষ্টি হয়।
একটি সিগারেটের শলায় প্রায় ৪ হাজার বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ থাকে। সিগারেটে যে রাসায়নিক পদার্থ থাকে তার মধ্যে রয়েছে নিকোটিন, আর্সেনিক, মিথেন, কার্বন মনোক্সাইড ইত্যাদি। ধূমপানের ফলে সৃষ্ট নিকোটিন এবং অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান একজন ধূমপায়ীকে যেমন ক্ষতি করে তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করে তার সংস্পর্শে থাকা অধূমপায়ী ব্যক্তির। সিগারেটের ধোঁয়ার নিকোটিন ও টার ফুসফুসে ক্যান্সার সৃষ্টি করে। সিগারেটের ধোঁয়ার ট্রাকিয়া ও ব্রঙ্কাসের সিলিয়াকে অবশ করে দেয়। আর সিলিয়া অবশ হয়ে গেলে ট্রাকিয়ায় মিউকাস জমে প্রদাহের সৃষ্টি হয় যা ব্রঙ্কাইটিস নামে পরিচিত। সিগারেটের ধোঁয়ায় অ্যালভিওলাসের প্রাচীরে যে ক্ষতি হয় তার ফলে অ্যালভিওলাসের আয়তন বেড়ে যায় এবং কোনো কোনো স্থান ফেটে গিয়ে ফুসফুসে ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি করে। এ অবস্থাকে এমফাইসেমা বলে। ফলে দেখা যায় ধূমপানের পরোক্ষ ক্ষতিটা অনেক বেশি। কিছু অসচেতন মানুষের এ ধরনের বদ অভ্যাস ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে।