| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রের আলোকে…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২২ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
আদর্শ দৈহিক ওজনের ২০% বা তারও বেশি পরিমাণ মেদ দেহে সঞ্চিত হয়ে অস্বাভাবিকভাবে মুটিয়ে যাওয়াকে স্থূলতা বলে।
পাকস্থলির প্রাচীরে অবস্থিত গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি কোষ থেকে যে রস নিঃসৃত হয় তাকে গ্যাস্ট্রিক রস বলে। গ্যাস্ট্রিক জুসে পানির পরিমাণ ৯৯.৪৫% এবং অজৈব (০.১৫%) ও জৈব পদার্থ (০.৪০%) ০.৫৫% বিদ্যমান থাকে। গ্যাস্ট্রিক জুস আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ দিনে প্রায় ২ লিটার গ্যাস্ট্রিক জুস তৈরি করে।
উদ্দীপকের P চিত্রটি হলো অগ্ন্যাশয় যা মিশ্র গ্রন্থি নামে পরিচিত।
নিচে অগ্ন্যাশয়ের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো-
১. ক্ষরণকারী কোষ দিয়ে গঠিত ও কেন্দ্রীয় গহ্বরযুক্ত লোবিউল বা অ্যাসিনাস উপস্থিত।
২. লোবিওলের ফাঁকে ফাঁকে আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামক কোষপুঞ্জ বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থিত।
৩. কোষগুলোর মধ্যে রক্তনালি ও অগ্ন্যাশয় নালি আছে।
৪. অ্যাসিনাসগুলোর ফাঁকে ফাঁকে যোজক টিস্যু দেখা যায়।
৫. যোজক টিস্যু নির্মিত লোবিওলার ঝিল্লি বিদ্যমান।
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্রের P ও Q দ্বারা অগ্ন্যাশয় ও যকৃতকে বুঝানো হয়েছে। যকৃত ও অগ্ন্যাশয় শর্করা সঞ্চয়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
যকৃত দেহের প্রধান সঞ্চয় কেন্দ্র। ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে হেপাটিক পোর্টাল শিরার মাধ্যমে গ্লুকোজ যকৃতে প্রবেশ করে। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি হলে যকৃত অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা রাখে। যকৃতে প্রায় ১০০ gm গ্লাইকোজেন সঞ্চিত থাকে। অগ্ন্যাশয়-এর আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন প্রক্রিয়াটিকে উদ্দীপ্ত করে। ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমায়। রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে গেলে পুনরায় গ্লাইকোজেনকে গ্লুকোজে পরিণত করে। ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত হয়। ইনসুলিনের অভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজ মূত্রের মাধ্যমে দেহ থেকে বের হয়ে যায়। সাধারণত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি কমে গেলে তাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে। আবার রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে তাকে হাইপার গ্লাইসেমিয়া বলে। রক্তে স্বাভাবিক গ্লুকোজের মাত্রা <7.8 mmol/l
১. রক্ত অমসৃণ তল বা বিনন্ট টিস্যুকোষ বা বাতাসের সংস্পর্শে এলে রক্তের অণুচক্রিকা ভেঙ্গে থ্রম্বোপ্লাস্টিন তৈরি হয়, ফলে রক্ত তথ্যনের সূত্রপাত ঘটে। কিন্তু রক্তনালির অন্তর্গাত্র মসৃণ হওয়ায় এবং রক্ত বাতাসের সংস্পর্শে না আসায় অণুচক্রিকা থেকে থ্রম্বোপ্লাস্টিন উৎপন্ন হয় না, ফলে রক্ত তঞ্চনের সূত্রপাত ঘটে না।
২. রক্তনালির ভিতর রক্তের গতি রক্ত তথানের সহায়ক নয়।
৩. রক্তে হেপারিন নামক একধরনের তথ্যন নিরোধক পদার্থ বা অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট (anticoagulant) থাকে। হেপারিন রক্তের বেসোফিল ও যোজক টিস্যুর মাস্টকোষ থেকে নিঃসৃত হয়। হেপারিন প্রোথ্রম্বিন থেকে থ্রম্বিনের উৎপাদনে বাধা দিয়ে রক্ত তঞ্চন রোধ করে।