| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রের আলোকে…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২২ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
Cypriniformes বর্গভুক্ত Cyprinidae গোত্রের কঠিনাস্থি বিশিষ্ট মাছসমূহই হলো কার্প।
যেসব ধমনি ফুলকা হতে O₂ সমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করে তাদের ইফারেন্ট বা বহির্বাহী বা ইফারেন্ট ফুলকা ধমনি বলে। রুই মাছের ৪ জোড়া ফুলকা থেকে ৪ জোড়া বহির্বাহী বা ইফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনি সৃষ্টি হয় এবং ফুলকা হতে O₂ সমৃদ্ধ রক্ত সংগ্রহ করে। প্রত্যেক ফুলকা আর্চে একটি অ্যাফারেন্ট ও একটি ইফারেন্ট ফুলকা ধমনি থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো রুই মাছের পটকা বা বায়ুথলি, যা পানিতে মাছের দেহের ভারসাম্য রক্ষায় ও শ্বসনে ভূমিকা রাখে। নিচে বায়ুথলির অবস্থান ও গঠন বর্ণনা করা হলো-
অবস্থান: রুই মাছের মেরুদণ্ডের নিচে এবং পৌষ্টিক নালির ওপরে অবস্থিত পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট বায়ুপূর্ণ চকচকে সাদা লম্বা থলিকে বায়ুথলি বা পটকা বা সাঁতার থলি বলে। পৌষ্টিক নালির পৃষ্ঠীয় প্রাচীর থেকে বায়ুথলির উৎপত্তি ঘটে। এটি সিলোম গহ্বরে অবস্থিত।
গঠন : রুই মাছের বায়ুথলি একটি খাঁজ দ্বারা দুটি অসম প্রকোষ্ঠে বিভক্ত থাকে। সামনের প্রকোষ্ঠটি ছোট এবং পেছনের প্রকোষ্ঠটি বড়। গ্রাসনালি ও বায়ুথলির মাঝে একটি সংযোগকারী নালি উপস্থিত। একে ডাক্টাস নিউমেটিকাস বলে।
বায়ুথলির বাইরের দিক ঘনসন্নিবিষ্ট রক্তজালক সমৃদ্ধ। এর প্রাচীর দুটি স্তর দিয়ে গঠিত। বাইরের যোজক কলা দ্বারা গঠিত স্তর- টিউনিক এক্সটার্না এবং ভেতরের মসৃণ পেশি নির্মিত স্তর টিউনিকা ইন্টারনা। বায়ুথলির সম্মুখ প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীরের এপিথেলিয়াম সংলগ্ন একটি করে লাল বর্ণের গ্যাস গ্রন্থি থাকে। এর নাম রিটি মিরাবিলি। সামনের প্রকোষ্ঠের এ গ্রন্থি থেকে গ্যাস দ্বারা বায়ুথলি পূর্ণ হয়। কিন্তু পেছনের প্রকোষ্ঠে বিদ্যমান এ গ্রন্থি গ্যাস শোষণ করে। বায়ুথলির গ্যাসে বিভিন্ন উপাদান থাকতে পারে। বায়ুথলিতে বিদ্যমান গ্যাসের অধিকাংশই অক্সিজেন (O₂)। এতে সামান্য পরিমাণ নাইট্রোজেন (N2) এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) থাকে। রুই মাছের বায়ুথলি ঘনিষ্ঠভাবে অন্তঃকর্ণের সাথে যুক্ত। ভেবেরিয়ান অস্থিমালা নামক একসারি ক্ষুদ্র অস্থি দ্বারা এ সংযোগ স্থাপিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো রুই মাছের পটকা বা বায়ুথলি, যা পানিতে মাছের দেহের ভারসাম্য রক্ষায় ও শ্বসনে ভূমিকা রাখে।
নিচে অজাটির বিশেষত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
১. প্লবতা রক্ষা: বায়ুথলি প্লবতা রক্ষাকারী অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। এটি ভিতরের গ্যাসের পরিমাণ বাড়িয়ে বা কমিয়ে মাছের দেহের আপেক্ষিক গুরুত্ব নিয়ন্ত্রণ করে।
২. অভিযোজনক্ষম ভাসাল: বায়ুথলি মাছের ভাসাল অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। পানির যেকোনো গভীরতায় বায়ুথলি পরিবর্তিত হয়ে পরিবেশ উপযোগী হতে পারে এবং সক্রিয়ভাবে সাঁতারে সহায়তা করে।
৩. শ্বসন অঙ্গ হিসেবে: বায়ুথলি O₂ এর আধার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পানিতে O₂ এর ঘাটতি দেখা দিলে বায়ুথলিতে বিদ্যমান গ্যাস সে ঘাটতি পূরণ করে মাছের শ্বসনে সহায়তা করে।
৪. শ্রবণ অঙ্গ হিসেবে: বায়ুথলি পানিতে উৎপন্ন শব্দের প্রতিধ্বনি। সৃষ্টি করতে পারে যা ভেবেরিয়ান অসিকল দিয়ে অন্তঃকর্ণে যায়, ফলে মাছ শব্দ শুনতে পায়।
৫. শব্দ তৈরির অঙ্গ হিসেবে: বায়ুথলি শব্দ উৎপাদনেও সহায়তা করে। বায়ুথলির নিউম্যাটিক নালি দিয়ে বেরিয়ে আসা বাতাস শব্দ উৎপাদন করে। শব্দের মাধ্যমে এরা শত্রুকে ভয় দেখায় এবং সঙ্গীকে আকৃষ্ট করে।
৬. চাপা নিয়ন্ত্রক হিসেবে: পানিতে বিভিন্ন গভীরতায় ওঠা-নামা করার সময় মাছের দেহে চাপের সাম্যাবস্থা বজায় রাখতে বায়ুথলি চাপ গ্রাহক ও নিয়ন্ত্রক অঙ্গ হিসেবে প্রয়োজন অনুযায়ী সঙ্কুচিত বা প্রসারিত হয়।