| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রগুলো লক্ষ…’ ২০২৬ – প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রগুলো লক্ষ করো:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১
মাছ বা কর্ডাটা পর্বের প্রাণীদের মেরুদণ্ডের দুই পাশে অবস্থিত ইংরেজি 'V' আকৃতির মাংসপেশিগুচ্ছকে মায়োটোম বলে।
তিমি দেখতে মাছের মতো এবং পানিতে বাস করলেও এটি আসলে একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী। কারণ, মাছের মতো তিমির শরীরে কোনো আঁইশ থাকে না এবং এরা ফুলকার বদলে ফুসফুসের সাহায্যে বাতাস থেকে অক্সিজেন নিয়ে শ্বাসকার্য চালায়। এছাড়া তিমির হৃদপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট, এবং এরা সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে ও সন্তানকে বুকের দুধ পান করায়, যা স্তন্যপায়ী প্রাণীর প্রধান বৈশিষ্ট্য। এ সকল কারণেই তিমিকে মাছের অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।
উদ্দীপকের 'B' চিহ্নিত প্রাণীটি হলো ব্রাঙ্কিওস্টোমা, যা সেফালো কর্ডাটা উপপর্বের অন্তর্ভুক্ত। উদ্দীপক ও বইয়ের তথ্য মিলিয়ে এই
উপপর্বের বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো-
১. এদের দেহ লম্বা, পার্শ্বীয়ভাবে চাপা এবং স্বচ্ছ।
২. এদের দেহের উভয় প্রান্ত সরু বা সুচালো।
৩. এদের দেখতে অনেকটা বল্লম বা বর্ষার ফলার মতো বলে এদের ল্যান্সলেট বলা হয়।
৪. এদের দেহে কর্ডাটার তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য (নটোকর্ড, নার্ভকর্ড ও ফুলকারন্দ্র) আজীবন স্থায়ী থাকে।
৫. নটোকর্ড ও নার্ভকর্ড (স্নায়ুরজ্জু) দেহের সম্মুখ প্রান্ত থেকে পশ্চাৎ প্রান্ত পর্যন্ত প্রসারিত থাকে।
৬. এদের দেহের সম্মুখ প্রান্তে ওরাল হুড থাকে যা ওরাল সিরি দ্বারা আবৃত থাকে।
৭. এদের গলবিলে অসংখ্য ফুলকা রন্ধ্র উপস্থিত থাকে।
৮. এই ফুলকা রন্দ্রগুলো অ্যাট্রিয়াম নামক প্রকোষ্ঠে উন্মুক্ত হয়।
৯. এদের দেহের দুই পাশে ইংরেজি '>' বা 'V' আকৃতির মায়োটোম পেশিগুলো পর্যায়ক্রমে সজ্জিত থাকে।
১০. এই পেশিগুলোর সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমেই এরা পানিতে চলাচল করে।
১১. এদের দেহে কোনো প্রকৃত মস্তিষ্ক বা করোটি গঠিত হয় না।
১২. এরা সাধারণত সামুদ্রিক এবং বালুময় অগভীর তলদেশে বাস করে।
১৩. এদের রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ প্রকৃতির কিন্তু কোনো হৃদপিণ্ড থাকে না।
১৪. এদের পৌষ্টিক নালি সরল এবং অন্ত্রের সাথে একটি হেপাটিক সিকাম যুক্ত থাকে।
১৫. এদের দেহের উপরিভাগে একক পৃষ্ঠীয় পাখনা এবং পেছনের দিকে পুচ্ছ পাখনা থাকে।
১৬. কর্ডাটার আদি ও সরলতম রূপ হিসেবে এই উপপর্বটি বিবর্তনের ধারায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকের চিত্র 'A' হলো ইউরোকর্ডাটা (অ্যাসিডিয়া), 'B' হলো সেফালো কর্ডাটা (ব্রাঙ্কিওস্টোমা) এবং 'C' হলো ভার্টিব্রাটা (পাখি)। 'C' (পাখি) উন্নত হওয়ার প্রধান কারণ হলো এটি ভার্টিব্রাটা উপপর্বের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে 'A' ও 'B' আদি কর্ডাটা। এদের পার্থক্যের মূল জায়গাগুলো হলো-
মেরুদণ্ড ও কঙ্কাল: 'A' ও 'B' এর দেহে কেবল নমনীয় নটোকর্ড থাকে। কিন্তু 'C' এর ক্ষেত্রে ভূণীয় নটোকর্ড পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় শক্ত মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়, যা দেহকে মজবুত কাঠামো দান করে।
মস্তিষ্ক ও করোটি: 'B' এর কোনো প্রকৃত মস্তিষ্ক বা করোটি নেই। অন্যদিকে 'C' এর মস্তিষ্ক অধিক উন্নত এবং এটি অস্থিময় করোটির মধ্যে সুরক্ষিত থাকে। A
রক্ত সংবহনতন্ত্র: 'B' এর দেহে কোনো হৃদপিণ্ড নেই। কিন্তু 'C' বা পাখির হৃদপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট এবং এদের রক্ত সংবহন অত্যন্ত উন্নত ও জটিল।
উন্নত অঙ্গসংস্থান : 'A' ও 'B' এর কোনো জোড় উপাঙ্গ বা জটিল সংবেদী অঙ্গ নেই। বিপরীতে, 'C' এর ডানা, পা এবং অত্যন্ত প্রখর দৃষ্টিশক্তি ও উন্নত স্নায়ুতন্ত্র রয়েছে।
বিবর্তনীয় অবস্থান: সেফালো কর্ডাটাকে কর্ডাটার আদি ও সরল রূপ বলা হয়, যেখানে ভার্টিব্রাটা হলো বিবর্তনের ধাঁরায় কর্ডাটা পর্বের চূড়ান্ত ও সবচেয়ে উন্নত রূপ।
যেহেতু 'C' (পাখি) এর নটোকর্ড মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত হয়েছে এবং এর অঙ্গসংস্থানিক ও শারীরবৃত্তীয় সকল প্রক্রিয়া 'A' (অ্যাসিডিয়া) ও 'B' (ব্রাঙ্কিওস্টোমা) এর তুলনায় কয়েক গুণ বেশি জটিল ও কার্যকর, তাই বলা যায় 'C' (পাখি) নিশ্চিতভাবেই উন্নত।