নিচের চিত্রগুলো লক্ষ কর-
খাদ্যজাল: অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় বাস্তুতন্ত্রের খাদ্য শিকলে একই - খাদক বিভিন্ন স্তরে স্থান পেতে পারে। এভাবে বেশ কয়েকটি খাদ্য শিকল একত্রিত হয়ে একটি জালের মতো গঠন তৈরি করে। একে খাদ্যজাল বলা হয়।
বাজপাখি শক্তি পিরামিডে সবার উপর থাকে কারণ বাস্তুসংস্থানে এদের অবস্থান এবং শক্তি প্রবাহের নিয়ম। বাজপাখি তৃতীয় স্তরের খাদক বা সর্বোচ্চ খাদক। বাজপাখি অন্য প্রাণীদের শিকার করে খায় কিন্তু বাস্তুসংস্থানে বাজপাখিকে শিঙ্কার করার মতো কোনো প্রাণী নেই। একারণে শক্তি প্রবাহের নিয়ম অনুসারে বাজপাখি শক্তি পিরামিডের সংকীর্ণতম অংশ বা চূড়ায় বা সবার উপরে থাকে।
উদ্দীপকে চিত্র-P প্রক্রিয়াটি হলো রিকধিনেন্ট DNA প্রযুক্তি। নিম্নে ট্রান্সজেনিক জীব তৈরিতে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির ধাপসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো-
i. প্রথমে দাতা জীব থেকে কাঙ্খিত জিনসহ ডিএনএ অণুকে পৃথক করা হয়। এরপর.এই জিনের বাহক বা ক্যারিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার জন্য ব্যাকটেরিয়ার প্লাজমিড ডিএনএ পৃথক করা হয়।
ii. এ ধাপে প্লাজমিড ডিএনএ এবং দাতা ডিএনএকে রেস্ট্রিকশন এনজাইম বা উৎসেচক দিয়ে খন্ডিত করা হয়।
iii. এ. ধাপে লাইগেজ নামক এক ধরনের এনজাইম দিয়ে দাতা ডিএনএকে প্লাজমিড ডিএনএ-এর কাটা প্রান্ত দুটোর মাঝখানে স্থাপন করা হয়। এর ফলে নির্দিষ্ট জিনসহ রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্লাজমিড তৈরি হয়।
iv. এখন এই রিকম্বিনেন্ট প্লাজমিডকে ব্যাকটেরিয়ার ভিতরে প্রবেশ করানো হয়। খন্ডিত ডিএনএ গ্রাহক কোষে প্রবেশ করানোর পদ্ধতিকে ট্রান্সফরমেশন বলে
v. এবার নির্দিষ্ট জিন বহনকারী রিকম্বিনেন্ট প্লাজমিড ধারণ করা ব্যাকটেরিয়াকে শনাক্ত করে আলাদা স্বা হয়। এরপর নির্দিষ্ট জিন বহনকারী ব্যাকটেরিয়াগুলোর ব্যাংশবৃদ্ধি ঘটানো হয়। এই পদ্ধতিতে জিন তৈরি করাকে ২০ হয় জিন ক্লোনিং। জিনকে ব্যবহার করার জন্য প্লাজমিডকে আবার আলাদা করে নেয়া হয়
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র-Q হলো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া ও চিত্র-R হলো টিস্যু কালচার প্রক্রিয়া। অল্প সময়ে মাতৃ উদ্ভিদের গুণসম্পন্ন চারা তৈরিতে R অর্থাৎ টিস্যু কালচার প্রক্রিয়াই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার তুলনায় অনেক বেশি দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে চারা উৎপাদন নিশ্চিত করে।
প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় সাধারণত চারা তৈরি হয় বীজ, কলম বা গুটি কলমের মাধ্যমে যা সময় সাপেক্ষ এবং অনেক সময় চীরার গুণগত মান মাতৃ উদ্ভিদের মতো নাও হতে পারে। এছাড়া প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় রোগজীবাণুর সংক্রমণ, আবহাওয়ার প্রভাব এবং উৎপাদন সীমিত হওয়ার মতো বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকে।
অন্যদিকে, টিস্যু কালচার প্রযুক্তিতে উদ্ভিদের একক কোষ, টিস্যু বা অঙ্গাংশকে বিশেষ পুষ্টিকর মাধ্যম ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশে রেখে অল্প সময়ের মধ্যেই অনেকগুলো গুণসম্পন্ন চারা উৎপাদন করা যায়। এ পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারাগুলো মাতৃউদ্ভিদের অনুরূপ হয়, রোগমুক্ত থাকে এবং একই সাথে বিপুল পরিমাণে উৎপাদন সম্ভব হয়। এছাড়া পরীক্ষাগারে জীবাণুযুক্ত পরিবেশে উৎপাদনের কারণে চারাগুলো রোগ ও পোকামাকড়মুক্ত হয়। যে সব গাছ প্রাকৃতিকভাবে সহজে জনো না, তাদের ও বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন সম্ভব।
সর্বোপরি, টিস্যু কালচার প্রযুক্তি কৃষিতে এক বৈপ্লবিক উদ্ভাবন, যা অল্প সময়ে, সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের ও উচ্চ গুণমানসম্পন্ন চারা উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা রাখছে। তাই, - মাতৃউদ্ভিদের গুণসম্পন্ন চারা তৈরির ক্ষেত্রে টিস্যু কালচার প্রযুক্তিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
