নিচের চিত্রগুলো লক্ষ কর-
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় বিভিন্ন তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাই ভৌত জীববিজ্ঞান।
ফলিত জীববিজ্ঞান শাখায় রয়েছে জীবন-সংশ্লিষ্ট প্রয়োগিক বিষয়গুলো। চিকিৎসাবিজ্ঞান হলো মানবদেহ, রোগ, চিকিৎসা ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান যা প্রয়োগিক বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রায়োগিক বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উদ্দীপকের চিত্রের P জীবটি হলো মাশরুম। মাশরুম এর বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার রাজ্যগত অবস্থান সহজেই নির্ণয় করা সম্ভব। নিচে মাশরুমের বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করা হলো-
১. এদের অধিকাংশই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী।
২. দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত।
৩. এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত।
৪. কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত।
৫. খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে।
৬. ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত।
৭. হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবৃদ্ধি ঘটে।
৮. কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত, তাই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে না।
উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলো ফানজাই রাজ্যের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং মাশরুমের অবস্থান জীবজগতের ফানজাই রাজ্যে।
উদ্দীপকের চিত্র-Q হলো ব্যাকটেরিয়া এবং চিত্র-R হলো ডায়াটম। এরা যথাক্রমে মনেরা ও প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। উপরোক্ত জীব দুটির মধ্যে অ্যামিবা অধিক উন্নত। নিচে তা যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করা হলো-
মনেরা রাজ্যের সদস্যরা এককোষী, ফিলামেন্টাস (একটির পর একটি কোষ লম্বালম্বিভাবে যুক্ত হয়ে ফিলামেন্ট গঠন করে) কলোনিয়াল। কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নাই। এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই, কিন্তু রাইবোজোম আছে। কোষ বিভাজন দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। প্রধানত শোষণ-পদ্ধতিতে খাদ্যগ্রহণ করে। তবে কেউ কেউ ফটোসিনথেসিস বা সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে। ব্যাকটেরিয়া এ রাজ্যের সদস্য।
অন্যদিকে, প্রোটিস্টা রাজ্যের সদস্যরা এককোষী বা বহুকোষী, একক বা কলোনিয়াল (দলবদ্ধ) বা ফিলামেন্টাস এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট। কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA ও প্রোটিন থাকে। কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে। খাদ্য গ্রহণ শোষণ, গ্রহণ বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতিতে ঘটে। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে অর্থাৎ জৈবনিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগতভাবে এক, এইরূপ দুই গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে। কোনো ভ্রূণ গঠিত হয় না। অ্যামিবা এ রাজ্যের সদস্য। উপর্যুক্ত রাজ্যদ্বয়ের বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক আলোচনা থেকে বলা যায় যে, মনেরা রাজ্যের জীব ব্যাকটেরিয়া অপেক্ষা প্রোটিস্টা রাজ্যের জীব ডায়াটম বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে অধিক উন্নত।
