নিচের চিত্রগুলো লক্ষ কর-
মধ্যচ্ছদা: মানবদেহের বক্ষগহ্বর ও উদরগহ্বর পৃথককারী পেশিবহুল পর্দাই হলো মধ্যচ্ছদা।
অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হলে কোষ শক্তি উৎপাদন করতে পারে না, বিশেষ করে প্রথমেই মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৩-৪ মিনিটের বেশি অক্সিজেন না পেলে, মস্তিষ্ক ও হৃদপিন্ডের কার্যক্রম থেমে গিয়ে মৃত্যু ঘটে।
উদ্দীপকের চিত্র 'A' তে উল্লিখিত তন্ত্রটি হলো শ্বসনতন্ত্র। এই তন্ত্রের মাধ্যমে গ্যাসীয় বিনিময় বলতে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড বিনিময়কে বুঝায়। গ্যাসীয় বিনিময় দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত। নিম্নে তা বর্ণনা করা হলো-
অক্সিজেন শোষণ: ফুসফুসের বায়ুথলি বা অ্যালভিওলি ও রক্তের চাপের
পার্থক্যের জন্য অক্সিজেন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় রক্তে প্রবেশ করে। ফুসফুস থেকে ধমনির রক্তে অক্সিজেন প্রবেশ করার পর রক্তে অক্সিজেন দু'ভাবে পরিবাহিত হয়। সামান্য পরিমাণ অক্সিজেন রক্তরসে দ্রবীভূত হয়ে পরিবাহিত হয়। বেশির ভাগ অক্সিজেনই হিমোগ্লোবিনের লৌহ অংশের সাথে হালকা বন্ধনের মাধ্যমে অক্সিহিমোগ্লোবিন নামে একটি অস্থায়ী যৌগ গঠন করে। অক্সিহিমোগ্লোবিন থেকে অক্সিজেন সহজে বিচ্ছিন্ন ' হতে পারে।
হিমোগ্লোবিন + অক্সিজেন → অক্সিহিমোগ্লোবিন (অস্থায়ী যৌগ)
অক্সিহিমোগ্লোবিন → মুক্ত অক্সিজেন + হিমোগ্লোবিন
রক্ত কৈশিকনালিতে পৌঁছার পর অক্সিজেন পৃথক হয়ে প্রথমে লোহিত রক্তকণিকার আবরণ ও পরে কৈশিকনালির প্রাচীর ভেদ করে লসিকাতে প্রবেশ করে। অবশেষে লসিকা থেকে কোষ আবরণ ভেদ করে কোষে পৌঁছে।
কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন: খাদ্য জারণ বিক্রিয়ায় কোষে কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়। এই CO₂ প্রথমে কোষ আবরণ ভেদ করে আন্তঃকোষীয় তরল লসিকাতে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে কৈশিকনালির প্রাচীর ভেদ করে রক্তরসে প্রবেশ করে। CO₂ প্রধানত সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO3) রূপে রক্তরসের মাধ্যমে এবং পটাশিয়াম বাইকার্বনেট (KHCO3) রূপে লোহিত রক্তকণিকা দিয়ে পরিবাহিত হয়ে ফুসফুসে আসে, সেখানে কৈশিকনালি ও বায়ুথলি ভেদ করে দেহের বাইরে নির্গত হয়।
উদ্দীপকের চিত্র 'B' এ উল্লিখিত অঙ্গ হলো ফুসফুস। সব ধরনের ক্যান্সারের মধ্যে ফুসফুস ক্যান্সারের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। নিম্নে ফুসফুস ক্যান্সার হওয়ার কারণ ও প্রতিকার বিশ্লেষণ করা হলো:
কারণ:
ফুসফুস ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ ধূমপান। বায়ু ও পরিবেশ দূষণ এবং বাসস্থান অথবা কর্মক্ষেত্রে দূষণ ঘটতে পারে এমন সব বস্তুর (যেমন: এ্যাসবেস্টাস, আর্সেনিক, ক্রোমিয়াম, নিকেল, কঠিন ধাতুর গুঁড়া ইত্যাদি) সংস্পর্শে আসার কারণেও ফুসফুসে ক্যান্সার হয়।
প্রতিরোধ:
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যান্সার প্রতিরোধে নিম্নলিখিত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, যথা:
i. ধূমপান ও মদ্যপান না করা।
ii. অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাদ্য না খাওয়া।-
iii. নিয়মিত ব্যায়াম করা।
iv. পরিমাণ মতো শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।
