| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ…’ ২০২৫ – পৃথিবীর গঠন, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
লালমাই পাহাড়ের আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার।
পর্বতের পাদদেশে একদিকে উপকূলীয় অঞ্চল বা সমভূমি এবং অপরদিকে খাড়া ঢালবিশিষ্ট উঁচু টেবিলাকৃতির ভূমিকে পাদদেশীয় মালভূমি বলে। পর্বতের পাদদেশে সৃষ্টি হয় বলে এরূপ নামকরণ করা হয়। পাদদেশীয় মালভূমির উৎপত্তি ভঙ্গিল পর্বত গঠনের সাথে জড়িত।
চিত্রে নির্দেশিত বলতে বরেন্দ্রভূমি এবং বলতে মধুপুর গড়কে বোঝানো হয়েছে। উক্ত দুটি স্থান সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো-
বরেন্দ্রভূমি: বঙ্গ অববাহিকায় প্লাইস্টোসিনকালের বৃহত্তম সোপান হচ্ছে ৯.৩২৪ বর্গ কি.মি. আয়তনবিশিষ্ট বরেন্দ্রভূমি। এর পূর্বে করতোয়া এবং পশ্চিমে মহানন্দা নদী অবস্থিত। প্লাবনভূমি থেকে এটি ৬-১২ মিটার উঁচু। পুনর্ভবা, আত্রাই ও ছোট যমুনা এ চত্বরকে চার অংশে বিভক্ত করেছে। এর মধ্যে তিন অংশ বাংলাদেশে এবং এক অংশ পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত।
মধুপুর গড়: মধুপুর গড় উত্তরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র এবং দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত। এর আয়তন ৪.১০৫ বর্গ কি.মি.। উত্তরাংশে পার্শ্ববর্তী প্লাবনভূমি থেকে অনেক উঁচু এবং প্রান্তভাগ খাড়া ঢালবিশিষ্ট। মধুপুর সোপান এলাকার উত্থানের সাথে এ চ্যুতির সম্পর্ক রয়েছে। বানার, বংশী, তুরাগ, লক্ষা, বালু প্রভৃতি প্রধান নদী গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ জুড়ে অবস্থিত।
সুতরাং বলা যায় যে, উক্ত স্থান দুটি বাংলাদেশের দুই অংশে অবস্থিত।
চিত্রের নির্দেশিত স্থানটি বলতে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহের অন্তর্গত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। নিচে উক্ত স্থানের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
মূলত ওই স্থানটি রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাঞ্চল অন্তর্ভুক্ত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার এবং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের অবস্থানও ওই অঞ্চলে। পশ্চিম দিক থেকে পূর্বদিকের পাহাড়গুলোর উচ্চতা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব পাহাড় শেলপাথর, বেলেপাথর এবং কাদামাটি দিয়ে গঠিত। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহের গুরুত্ব অপরিসীম। জীবজগতের এক বৃহৎ পরিসরের সবুজ ও বাহারি গাছপালা, বিভিন্ন প্রজাতি এবং বিভিন্ন ভাষা, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিগতভাবে বিচিত্র সম্প্রদায়ের মানুষ পর্বতগুলোর আশপাশে বসতি স্থাপন করে জীববৈচিত্র্য গড়ে তুলে প্রকৃতিসৃষ্ট পর্বতগুলোকে যেন মিতালীর বন্ধনে জড়িয়ে রেখেছে। এছাড়া এই পাহাড়িয়া অঞ্চলে গাছপালা রয়েছে যা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
সুতরাং বলা যায় যে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ যা ভৌগোলিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলছে।