| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ…’ ২০২৬ – মানব জীবনের ধারাবাহিকতা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ করো:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৯
AIDS-Acquired Immune Deficiency Syndrome একটি রোগ যা HIV ভাইরাসের সংক্রমণে হয়ে থাকে।
নিষেকের পর ৬ থেকে ৯ দিনের মধ্যে যে প্রক্রিয়ায় জাইগোটটি ব্লাস্টোসিস্ট অবস্থায় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে সংস্থাপিত হয় তাকে ইমপ্ল্যান্টেশন বলে।
উদ্দীপকের X দ্বারা স্পার্মাটোজেনেসিস প্রক্রিয়াকে বুঝানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় শুক্রাণু সৃষ্টি হয়। নিচে শুক্রাণুর গঠনরূপ ব্যাখ্যা করা হলো-
একটি শুক্রাণুদেহ নিচে বর্ণিত চারটি প্রধান অংশে বিভক্ত। এসব অংশের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ-
১. মাথা : মাথা হচ্ছে শুক্রাণুর সামনের অংশ যা দেখতে স্ফীতকায়, কোণাকৃতি বা লেন্সের, মতো। শুক্রাণুর সম্পূর্ণ মাথা একটি পাতলা সাইটোপ্লাজমীয় স্তরে আবৃত থাকে। মাথার সাইটোপ্লাজমের অধিকাংশ জুড়ে থাকে একটি ডিম্বাকৃতি নিউক্লিয়াস। এর সামনের অর্ধেক অংশের উপরে নিউক্লিয়াসকে ঢেকে থাকে অ্যাক্রোসোম। অ্যাক্রোসোম একটি থলি বিশেষ।
২. গ্রীবা: গ্রীবা হচ্ছে শুক্রাণুর মাথার ঠিক পেছনে মাথা ও মধ্যখণ্ডের মাঝখানে অবস্থিত একটি সরু, স্বচ্ছ সংযোগস্থল। এখানে পরস্পরের সাথে সমকোণে দুটি সেন্ট্রিওল থাকে।
৩. মধ্য খন্ড: সাইটোপ্লাজম, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অক্ষীয় সূত্রে গঠিত অংশটি হচ্ছে শুক্রাণুর মধ্য খণ্ড। এর মধ্যে মাইটোকন্ড্রিয়ার অংশই বেশি।
৪. লেজ বা ফ্ল্যাজেলাম: শুক্রাণুর মধ্যখণ্ডের সাইটোপ্লাজম ও মাইটোকন্ড্রিয়া সমাপ্তির অংশ থেকে শুরু করে পেছনের সবটুকুই লেজ বা ফ্ল্যাজেলাম। এটি শুক্রাণুর দীর্ঘতম অংশ। এতে অক্ষীয় সূত্রের এক অংশ একটি স্থূল আবরণে আবৃত থাকে, বাকি অংশ থাকে অনাবৃত। এদের যথাক্রমে মূলখণ্ড ও শেষখণ্ড বলা হয়।
উদ্দীপকে X হলো স্পার্মাটোজেনেসিস ও Y হলো উওজেনেসিস। স্পার্মাটোজেনেসিস ও উওজেনেসিস প্রক্রিয়ায় যথাক্রমে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়। এ শুক্রাণু ও ডিম্বাণু স্বাভাবিকভাবে মিলিত না হলে কৃত্রিমভাবে গর্ভধারণ সম্ভব। আর এ কৃত্রিম গর্ভধারণ পদ্ধতিকে IVF বলা হয়ে থাকে। নিচে IVF পদ্ধতির ধাপসমূহ বর্ণনা করা হলো-
ধাপ-১: IVF-এর প্রথম ধাপে স্ত্রীর স্বাভাবিক রজঃচক্র দমিয়ে রাখতে একটি ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। ওষুধটি ইনজেকশন হিসেবে কিংধা নাকের ভেতর স্প্রে করে দেওয়া হয়।
ধাপ-২: নারীদেহে ডিম্বাণুর সংখ্যা বাড়াতে F.S.H হরমোন ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়।
ধাপ-৩: ডিম্বাণু চোষক প্রক্রিয়া বিশেষ যন্ত্রের দ্বারা ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়। এভাবে কয়েকটি পরিপক্ক ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।
ধাপ-৪: বাবা বা ডোনার থেকে স্পার্ম বা শুক্রাণু নমুনা গ্রহণ করা হয় এবং পরে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুস্থ ও সক্রিয় শুক্রাণুগুলোকে নির্বাচন করা হয়।
ধাপ-৫: প্রায় ১৬-২০ ঘণ্টা শুক্রাণু ও ডিম্বাণুগুলোকে নিষেকের জন্য পেট্রিডিসে রাখা হয়। একটি সুস্থ সবল ভূণ সাধিত হয়েছে কি-না সে বিষয়ে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়। অনেক সময় আন্তঃসাইটোপ্লাজমিক শুক্রাণু ইনজেকশনের দ্বারা ডিম্বাণুর ভিতর শুক্রাণুকে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়।
ধাপ-৬: সাধারণত ডিম্বাণু সংগ্রহের ২-৩ দিনের মধ্যে নারীর দেহের জরায়ুতে তা স্থাপন করা হয়।
পুরুষ ও নারীর প্রজনন অক্ষমতা বা বন্ধ্যাত্ব দূর করে পিতৃ ও মাতৃত্বের বাসনা পূর্ণ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে আইভিএফ পদ্ধতি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে মাতৃত্বের বাসনা পূর্ণ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। ডিম্বনালি ক্ষতিগ্রস্ত থাকলেও এ পদ্ধতিতে গর্ভধারণ সম্ভব। এটি নিরাপদ ও সহজ পদ্ধতি।