| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ…’ ২০২৬ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ করো:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
পেরিস্ট্যালসিম হলো এক প্রকার শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যাতে পৌষ্টিকনালি গাত্রের পেশিয় পর্যায়ক্রমিক সংকোচন ও প্রসারণের ফলে খাদ্যদ্রব্য পৌষ্টিকনালির ভিতরে সামনের দিকে অগ্রসর হয়।
মুখবিবরের মেঝেতে অবস্থিত মাংসল, সঞ্চারনশীল ও সংবেদন অঙ্গটিকে জিহ্বা বলে। জিহ্বা আবরণী কলা, পেশি ও গ্রন্থি নিয়ে গঠিত। এর পৃষ্ঠতলে থাকে ফ্লাক্স আকৃতির স্বাদকুঁড়ি। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জিহ্বায় সাধারণত ২০০০ থেকে ১০,০০০ স্বাদকুঁড়ি থাকে। স্বাদকুঁড়িগুলো খাদ্যে অবস্থিত বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক বস্তর প্রতি সংবেনশীল, কিন্তু কিছু বিশেষ জায়গা বিশেষ স্বাদ ভালো গ্রহণ করে। যেমন- জিহ্বার অগ্রপ্রান্তে মিষ্টতা, অগ্রভাগের দুপাশে লবণাক্ততা পশ্চাৎভাগের দু'পাশে টক বা অম্লতা, পিছন দিকে তিক্ততা এবং কেন্দ্রীয় অংশ সুস্বাদ গ্রহণ করে। ঝাল জাতীয় খাবারের জন্য কোনো স্বাদ কুঁড়ি নেই। তবে ঝাল জাতীয় খাদ্য জিহ্বায় জ্বালা ঘটায়। স্বাদকুঁড়িগুলো কোনো স্থায়ী গঠন নয় বরং পাঁট থেকে দশ দিনের মধ্যে এগুলো নষ্ট বা ছিন্ন হয়ে যায় এবং নতুন গঠন দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'X' অংশটি হলো ক্ষুদ্রান্ত্র। চর্বি বা লিপিড জাতীয় খাবার ক্ষুদ্রান্ত্রের মাধ্যমে পরিপাক হয়। লিপিড জাতীয় খাবার পরিপাক হয়ে ফ্যাটি এসিড, গ্লিসারল, মনোগ্লিসারাইড, ফসফোলিপিড ও কোলেস্টেরলে পরিণত হয়। স্নেহজাতীয় বা চর্বি জাতীয় খাবারগুলো ক্ষুদ্রান্ত্রে নিম্নোক্তভাবে পরিপাক হয়-
ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল পরিপাকের প্রয়োজন হয় না কারণ সমস্ত ফ্যাটই ক্ষুদ্রান্ত্রে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল রূপে শোষিত হয়। আর বাকি উপাদানগুলো আমাদের পরিপাকনালিতে পাচিত হয়। গ্লিসারল পানিতে দ্রবণীয় হওয়ায় সরাসরি ভিলাইয়ের প্রাচীর ভেদ করে পোর্টাল শিরায় প্রবেশ করে। কিন্তু ফ্যাটি অ্যাসিড শোষণ একটি জটিল প্রক্রিয়া।
উদ্দীপকের উল্লেখিত Y চিহ্নিত অঙ্গটি হলো মানব-দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি যকৃৎ। যকৃৎ বিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. শর্করা বিপাক : যকৃৎ গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেন এবং ইনসুলিন নিঃসরণের মাধ্যমে শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
২. প্রোটিন বিপাক: যকৃৎ ডিঅ্যামিনেশন এবং প্লাজমা প্রোটিন উৎপাদনের মাধ্যমে প্রোটিন বিপাকে অংশগ্রহণ করে।
৩. ফ্যাট বিপাক : যকৃৎ অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটকে ফ্যাটে রূপান্তর করে এবং রক্ত থেকে ক্লোলেস্টেরল সরিয়ে ফ্যাট বিপাকে অংশগ্রহণ করে।
৪. তাপ উৎপাদন : যকৃতের অভ্যন্তরে নানা ধরনের বিক্রিয়া সংঘটিত হওয়ায় এখানে প্রচুর তাপ উৎপাদিত হয়। এই তাপ দেহের সমগ্র সঞ্চালিত হয়ে তাপমাত্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
৫. টক্সিন বা বিষ অপসারণ: যকৃৎ কোষের অভ্যন্তরে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় এই বিষ প্রশমিত করে।
৬. হরমোন ভাঙ্গন: যকৃৎ বিভিন্ন হরমোনের, কর্মকাণ্ডে স্থায়ী অভ্যন্তরীণ পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে হরমোন ভাঙ্গন নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া যকৃৎ লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন ও ভাঙ্গন, হিমোগ্লোবিনের ভাঙ্গন, কোলেস্টেরল উৎপাদন, পিত্ত উৎপাদন এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিপাকীয় ভূমিকায় অংশগ্রহণ করে।