| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ…’ ২০২৬ – সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ করো:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৮
রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু ও বিজাতীয় পদার্থের বিরুদ্ধে দেহ যে প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে তাই অনাক্রম্যতা।
অ্যাড্রিনাল কর্টেক্সের অতি সক্রিয়তার ফলে দেহে বিশেষ করে মুখমণ্ডল, গ্রীবা ও নিতম্বদেশে অতিরিক্ত মেদ সঞ্চিত হয়, এ অবস্থাকে কুশিং সিনড্রোম বলে। এই রোগের ফলে পেশি ক্ষীণ ও শিথিল হয়। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং মূত্রে গ্লুকোজ রেচন ঘটে। এ রোগ হলে উদর ঝোলানো হয় এবং ঘা সারতে দেরি হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'A' অংশটি হলো মানব কর্ণের মধ্যকর্ণ। মধ্যকর্ণে যে রোগটি হয় তা হলো ওটাইটিস মিডিয়া। নিচে মধ্যকর্ণের সংক্রমণ ওটাইটিস মিডিয়া এর কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার উল্লেখ করা হলো-
কারণ: প্রধানত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া কিংবা ছত্রাকের সংক্রমণে এ রোগ হয়।
১. মধ্যকর্ণের সাথে নাকের সংযোগস্থল ফুলে বন্ধ হয়ে গেলে।
২. কোনো কারণে শিশুদের অ্যাডিনয়েড ফুলে গেলে।
৩. মাতৃদুগ্ধ পান না করালে বা কম করালে।
৪. শিশুদের ঠান্ডা লাগলে বা কানে সংক্রমণ হলে।
লক্ষণ: শিশুদের ক্ষেত্রে:
১. কানে ব্যথা হয় এবং কান টানতে থাকে।
২. মাথাব্যথা হয় ফলে অতিরিক্ত কান্নাকাটি করে।
৩. নাক দিয়ে পানি পরে, কান থেকে দুর্গন্ধযুক্ত তরল পদার্থ বের হয়।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে:
১. কানে ব্যথা হয় এবং কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ করে।
২. মাথা ঝিম ঝিম করে এবং প্রচণ্ড মাথাব্যথা হয়।
৩. কাশি হয় ও নাক দিয়ে পানি ঝরে।
৪. কানে কম শোনে, খাবারে রুচি থাকে না।
প্রতিকার:
১. প্রাথমিক অবস্থায় কান পরিষ্কার রাখা।
২. কান দিয়ে গুঁজ পড়া বন্ধ না হলে অবশ্যই ডাক্তারের স্নাপন্ন হওয়া।
৩. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক ওষুধ, কানে ড্রপ দেয়া ইত্যাদি মেনে চলা।
৪. টনসিল বা অ্যাডিনয়েড ফুলে গেলে অপারেশন করে ফেলে দিতে হবে।
৫. অ্যালার্জি থাকলে অ্যান্টিহিস্টামিন খেতে হবে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'B' চিহ্নিত অংশটি দ্বারা মানুষের অন্তঃকর্ণকে বুঝানো হয়েছে। মানুষের অন্তঃকর্ণের ইউট্রিকুলাস, স্যাকুলাম ও কলিয়ার সমন্বয়ে শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষা হয়। নিচে শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষায় অন্তঃকর্ণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো-
শ্রবণ কৌশল: বহিঃকর্ণের পিনায় সংগৃহীত শব্দতরঙ্গ বহিঃঅডিটরি মিটাসে প্রবেশ করে টিমপেনিক পর্দাকে আঘাত করলে তা কেঁপে উঠে। কাঁপনের ফলে মধ্যকর্ণে অবস্থিত ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস অস্থি তিনটি এমনভাবে আন্দোলিত হয় যার ফলে প্রথমে ফেনেস্ট্রা ওভালিসের পর্দা ও পরে অন্তঃকর্ণের ককলিয়ার পেরিলিম্ফে কাঁপন সৃষ্টি হয়। পেরিলিম্ফে কাঁপন হলে ককলিয়ার অর্গান অব কর্টির সংবেদী রোম কোষগুলো উদ্দীপ্ত হয়ে স্নায়ু আবেগের সৃষ্টি করে। এ আবেগ অডিটরি স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের শ্রবণকেন্দ্রে বাহিত হলে মানুষ শুনতে পায়। এরপর বাকি শব্দ তরঙ্গ ফেনেস্ট্রা রোটান্ডা পর্দার মাধ্যমে মধ্যকর্ণে চলে আসে এবং প্রশমিত হয়ে যায়।
ভারসাম্য রক্ষা: মানুষের অন্তঃকর্ণের ইউট্রিকুলাসের অর্ধবৃত্তাকার নালিসমূহ, ইউট্রিকুলাস ও স্যাকুলাস (ককলিয়া ব্যতীত) ভারসাম্য সংবেদী অঙ্গ গঠন করে। অন্তঃকর্ণের ইউট্রিকুলাস ও স্যাকুলাসের নানা জায়গায় কতকগুলো সংবেদী কোষগুচ্ছ থাকে। কোষগুলো থেকে সংবেদী রোম বের হয়। রোমগুলোর চারদিকে এন্ডোলিম্ফে ভাসমান ওটোলিথ নামে অনেকগুলো চুনময় পদার্থ সংবলিত জেলির মতো কোণাকার ক্যুপুলায় আবৃত থাকে। মানুষের মাথা কোনো এক তলে হেলে গেলে ঐ পাশের ওটোলিথগুলো ক্যুপুলার সংবেদী রোমের সংস্পর্শে আসে, ফলে সংবেদী কোষগুলো উদ্দীপ্ত হয়। এ উদ্দীপনা স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছালে মানুষ দেহের আপেক্ষিক 'অবস্থান বুঝতে পারে। তখন মস্তিষ্কের নির্দেশে প্রয়োজনীয় পেশির সংকোচনে মাথা আবার স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে আসে। সঙ্গে সঙ্গে দেহের ভারসাম্য রক্ষিত হয়।