নিচের চিত্রটি লক্ষ করো-
একই প্রজাতির বিভিন্ন সদস্যের মধ্যে জিনগত বা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের পার্থক্যকে প্রকরণ বলা হয়।
মিয়োসিস কোষ বিভাজনকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয়। কারণ এ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃতকোষ বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভক্ত হয়ে চারটি অপত্য কোষে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস দু'বার এবং ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়, ফলে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়। এ বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পায় বলে এ প্রক্রিয়াকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলে।
উদ্দীপকের চিত্রে 'S' হলো সূর্য এবং সূর্যের উপর নির্ভরশীল P প্রক্রিয়াটি হলো সালোকসংশ্লেষণ। সালোকসংশ্লেষণ একটি জটিল এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়াকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়। পর্যায় দুটি হলো আলোকনির্ভর পর্যায় ও আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়। নিচে সালোকসংশ্লেষণের আলোকনির্ভর ধাপের বর্ণনা করা হলো-
আলোকনির্ভর পর্যায়ের জন্য আলো অপরিহার্য। এ পর্যায়ে সৌরশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এ প্রক্রিয়ায় ATP, উৎপন্ন হয়। এই রূপান্তরিত শক্তি ATP-এর মধ্যে সঞ্চিত হয়। এই বিক্রিয়ায় ক্লোরোফিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্লোরোফিল অণু আলোকরশ্মির ফোটন শোষণ করে এবং শোষণকৃত ফোটন থেকে শক্তি সঞ্চয় করে ADP (অ্যাডিনোসিন ডাইফসফেট) অজৈব ফসফেট (Pi = inorganic phosphate)-এর সাথে মিলিত হয়ে ATP তৈরি করে। ATP তৈরির এই প্রক্রিয়াকে ফটোফসফোরাইলেশন বলে।
সূর্যালোক এবং ক্লোরোফিলের সাহায্যে পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন , হাইড্রোজেন আয়ন ও ইলেকট্রন উৎপন্ন হয়। এ হাইড্রোজেন আয়ন ও ইলেকট্রনের সহায়তায় NADP বিজারিত হয়ে উৎপন্ন করে।
উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি হলো সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হতে বাহ্যিক প্রভাবক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যেমন- আলো, কার্বন ডাইঅক্সাইড, তাপমাত্রা, পানি এবং অক্সিজেন। এই প্রভাবকগুলোর মাত্রা একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সালোকসংশ্লেষণের হার বাড়াতে পারে, তবে অতিরিক্ত বা অপর্যাপ্ততা প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। নিচে সালোকসংশ্লেষণে বাহ্যিক প্রভাবকের ভূমিকা যুক্তিসহ মতামত দেয়া হলো-
আলো: সালোকসংশ্লেষণের জন্য আলো অপরিহার্য। কারণ এটি ক্লোরোফিলের সাহায্যে আলোকশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। আলোর তীব্রতা একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হার বৃদ্ধি পায় কিন্তু অতিরিক্ত আলো হলে প্রক্রিয়াটি বন্ধও হয়ে যেতে পারে।
কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2): এটি সালোকসংশ্লেষণের একটি প্রধান কাঁচামাল। এর ঘনত্ব বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হারও বাড়ে।
তাপমাত্রা: এই প্রক্রিয়ার জন্য একটি অনুকূল তাপমাত্রা প্রয়োজন, যা সাধারণত ২২° সেলসিয়াস থেকে ৩৫° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। তাপমাত্রা এই সীমার বাইরে গেলে প্রক্রিয়ার হার কমে যায়। রোবব
পানি: সালোকসংশ্লেষণে পানি অত্যাবশ্যকীয়, কারণ এটি H+ আয়ন সরবরাহ করে এবং পত্ররন্দ্র খোলা রাখতে সাহায্য করে, যা CO2 প্রবেশে সহায়তা করে। পানির অভাবে পত্ররন্দ্র বন্ধ হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হয়। এছাড়া পানি সালোকসংশ্লেষণে উৎপন্ন অক্সিজেন এর উৎসও বটে।
অক্সিজেন : সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার একটি উপজাত হলো অক্সিজেন। তবে, বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের ঘনত্ব বেড়ে গেলে তা সালোকসংশ্লেষণের হার কমিয়ে দেয়।
এছাড়া বিভিন্ন খনিজ পদার্থ (নাইট্রোজেন, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা) এবং রাসায়নিক পদার্থ (ক্লোরোফর্ম, হাইড্রোজেন সালফাইড, মিথেন বা কোনো বিষাক্ত গ্যাস) ইত্যাদির কারণেও সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায় বা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়।
