| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৫ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে শাখায় স্থূলতার কারণ, প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার সম্বন্ধে আলোচনা করা হয় তাকে বেরিয়াট্রিকস বলে।
পিত্তরসে অবস্থিত পিত্ত লবণ-এর প্রভাবে চর্বির ক্ষুদ্র বিন্দুগুলো ভেঙে অতিক্ষুদ্র কণায় পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াই হলো ইমালসিফিকেশন। পিত্তলবণ ফ্যাট পরিপাককারী এনজাইম লাইপেজকে সক্রিয় করে স্নেহজাতীয় খাদ্যের ইমালসিফিকেশন ঘটিয়ে ফ্যাট পরিপাকে সহায়তা করে।
সেই উদ্দীপকের 'খ' অঙ্গটি হলো পাকস্থলি। নিচে পাকস্থলিতে খাদ্য পরিপাক পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো-
খাদ্যবস্তু অন্ননালি হতে পাকস্থলিতে প্রবেশের পর প্রতি ১৫-২০ সেকেন্ড পরপর পাকস্থলির প্রাচীরে পেরিস্ট্যালটিক সঞ্চালনের ফলে খাদ্যবস্তু পাকস্থলির গ্রন্থি নিঃসৃত পরিপাক রসের সাথে মিশ্রিত হয় এবং নরম, পিচ্ছিল ও হ্রাসপ্রাপ্ত খাদ্যপিণ্ড কাইমে পরিণত হয়।পাকস্থলির পরিপাক রসে বিদ্যমান HCI দ্বারা খাদ্য জীবাণুমুক্ত এবং অম্লীয় হয়। পাকস্থলিতে শর্করা বিশ্লেষী কোনো এনজাইম থাকে না। এজন্য এখানে শর্করাজাতীয় খাদ্যের কোনো পরিপাক ঘটে না। চিবানো ও লালা মিশ্রিত আমিষ খাদ্য পাকস্থলির গহ্বরে পৌঁছালে পাকস্থলির প্রাচীর হতে গ্যাস্ট্রিন নামক হরমোন ক্ষরিত হয়। এর প্রভাবে পাকস্থলির প্রাচীরে বিদ্যমান গ্যাস্ট্রিন গ্রন্থি হতে গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসৃত হয়। এ রসে পেপসিনোজেন নামক নিষ্ক্রিয় প্রোটিওলাইটিক এনজাইম থাকে। এ নিষ্ক্রিয় এনজাইম গ্যাস্ট্রিক রসের HCI-এর সাথে বিক্রিয়া করে পেপসিন নামক সক্রিয় এনজাইমে পরিণত হয়। পেপসিন অম্লীয় মাধ্যমে জটিল আমিষকে আর্দ্র বিশ্লেষণ করে প্রোটিওজ ও পেপটোনে পরিণত করে। এছাড়া পাচকরসের জিলেটিনেজ নামক এনজাইম জিলেটিন নামক আমিষকে আংশিক পরিপাক করে পেপটোন ও পলিপেপটাইড উৎপন্ন করে।
এছাড়া এখানে লাইপেজ লিপিডকে ভেঙ্গে মনোগ্লিসারাইড, ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে।
উদ্দীপকের "ক" অংশটি হলো মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি যকৃৎ। যকৃৎ বিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. শর্করা বিপাক : যকৃৎ গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেন এবং ইনসুলিন নিঃসরণের মাধ্যমে শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
২. প্রোটিন বিপাক: যকৃৎ ডিঅ্যামিনেশন এবং প্লাজমা প্রোটিন উৎপাদনের মাধ্যমে প্রোটিন বিপাকে অংশগ্রহণ করে।।
৩. ফ্যাট বিপাক : যকৃৎ অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটকে ফ্যাটে রূপান্তর করে এবং রক্ত থেকে ক্লোলেস্টেরল সরিয়ে ফ্যাট বিপাকে অংশগ্রহণ করে।
৪. তাপ উৎপাদন : যকৃতের অভ্যন্তরে নানা ধরনের বিক্রিয়া সংঘটিত হওয়ায় এখানে প্রচুর তাপ উৎপাদিত হয়। এই তাপ দেহের সমগ্র সঞ্চালিত হয়ে তাপমাত্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
৫. টক্সিন বা বিষ অপসারণ : যকৃৎ কোষের অভ্যন্তরে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় এই বিষ প্রশমিত করে।
৬. হরমোন ভাঙ্গন: যকৃৎ বিভিন্ন হরমোনের কর্মকাণ্ডে স্থায়ী অভ্যন্তরীণ পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে হরমোন ভাঙ্গন নিয়ন্ত্রণ করে।
এছাড়া যকৃৎ লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন ও ভাঙ্গন, হিমোগ্লোবিনের ভাঙ্গন, কোলেস্টেরল উৎপাদন, পিত্ত উৎপাদন এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিপাকীয় ভূমিকায় অংশগ্রহণ করে।