| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
মাছের দেহত্বক যেসব পাত-সদৃশ পাতলা অস্থিময় গঠনে আবৃত যা মাছের দেহকে রক্ষা করে এবং পানিতে চলাচল সহজ করে, তাদেরকে আঁইশ বলে।
যে সংবহনে রক্ত একবার মাত্র হৃৎপিণ্ডে প্রবেশ করে একটি মাত্র চক্র সম্পন্ন করে তাকে একচক্রী রক্ত সংবহন বলে। যেমন- মাছের ক্ষেত্রে হৃৎপিণ্ড থেকে যুক্ত রক্ত অন্তর্বাহী বা অ্যাফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনির মাধ্যমে ফুলকায় যায়, যেখানে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় গ্যাসের বিনিময় হয় এবং যুক্ত রক্ত বহির্বাহী বা ইফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনি দিয়ে দেহ কোষে পৌছে। দেহে বিপাকীয় কাজের পর উৎপন্ন যুক্ত রক্ত শিরাতন্ত্রের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে। এক্ষেত্রে রক্ত একটি চক্রে আবর্তিত হয়। হৃৎপিণ্ড শুধু যুক্ত রক্ত বহন করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রাণীটি হলো রুই মাছ এবং প্রথম অঙ্গটি হলো হৃৎপিণ্ড। নিচে রুই মাছের হৃৎপিণ্ডের গঠন বর্ণনা করা হলো-
গঠন:
১. সাইনাস ভেনোসাস: এটি পাতলা প্রাচীর বিশিষ্ট উপপ্রকোষ্ঠ যা হৃৎপিণ্ডের পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত।
২. অ্যাট্রিয়াম: এটি পেরিকার্ডিয়াল গহ্বরের সম্মুখ পৃষ্ঠভাগে অবস্থিত পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট বৃহত্তম প্রকোষ্ঠ।
৩. ভেন্ট্রিকল: এটি হৃৎপিন্ডের সর্বশেষ প্রকোষ্ঠ। পেরিকার্ডিয়াল গহ্বরের অঙ্কীয় দেশে অবস্থিত।
৪. বাম্বাস আর্টারিওসাস: বুই মাছের হৃৎপিণ্ডে কোনাস আর্টারিওসাস নেই। তার পরিবর্তে বাল্বাস আর্টারিওসাস নামক একটি গঠন দেখা অ্যাওর্টার স্ফীত হওয়া যায় যা মূলত ভেন্ট্রাল গোড়া বা মূল। এটি হৃৎপিণ্ড থেকে ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টায় রক্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। রুইমাছের উপপ্রকোষ্ঠ ও প্রকোষ্ঠগুলোর সংযোগ ছিদ্রে কপাটিকা থাকে। কপাটিকাগুলো হলো-
১. সাইনো-অ্যাট্রিয়াল কপাটিকা: সাইনাস ভেনোসাস ও অ্যাট্রিয়ামের মাঝে অবস্থিত ছিদ্রপথে এ কপাটিকা থাকে।
২. অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার কপাটিকা: অ্যাট্রিয়াম ও ভেন্ট্রিকলের মাঝে অবস্থিত অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার ছিদ্রপথে এ কপাটিকা অবস্থান করে।
৩. ভেন্ট্রিকুলো-বাশ্বাস কপাটিকা: এটি ভেন্ট্রিকল ও বাল্বাস অ্যাওর্টার মাঝে অবস্থিত কপাটিকা।
উদ্দীপকে উল্লেখিত অঙ্গটি হলো রুই মাছের হৃৎপিণ্ড। রুই মাছ বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় মাছ। তাই প্রাকৃতিক পরিবেশে রুই মাছ সংরক্ষণে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। নিচে প্রাকৃতিক পরিবেশে রুই মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো-
রুই মাছ বাংলাদেশের অতি পরিচিত, সুস্বাদু এবং জনপ্রিয় মাছ। এক সময় আমাদের দেশের প্রাকৃতিক জলাশয়সহ পুকুর, দীঘিতে প্রচুর রুই মাছ পাওয়া গেলেও এখন আর তা পাওয়া যায় না। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষি জমির প্রসার, জলাভূমি কেটে ভরাট, বাঁধ নির্মাণ, যত্রতত্র কীটনাশক ওষুধের ব্যবহার, পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ আহরণ ইত্যাদি 'নানাবিধ কারণে রুইজাতীয় মাছের প্রাকৃতিক জলজ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব কারণে বর্তমানে প্রাকৃতিক পরিবেশের রুই মাছ খুব একটা পাওয়া যায় না। হ্যাচারিতে কৃত্রিমভাবে বুই মাছ উৎপাদন করা হলেও তা প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন নয়। হ্যাচারিতে সীমিত ও নির্দিষ্ট মাছের মধ্যে আন্তঃপ্রজনন ঘটানোর ফলে রুই মাছের ভালো গুণাবলি হারিয়ে যাচ্ছে। জিনগত বৈচিত্র্য - বিনষ্ট হচ্ছে, রোগাক্রান্ত মাছের আধিক্য দেখা দিচ্ছে এবং স্বাদবিহীন মাছের প্রাচুর্যে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। হ্যাচারির মাছ কখনোই প্রাকৃতিক মাছের প্রতিনিধিত্ব করে না। এ অবস্থায় মাছের প্রাকৃতিক গুণাবলি, জিনগত বৈশিষ্ট্য বজায় রাখার জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশে রুই মাছকে 'বড় হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। পরিবেশগত, প্রজাতিগত ও জিনগত বৈচিত্র্যের দিকে লক্ষ রেখে মাছের প্রজাতি বৈচিত্র্য রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।
উপরের আলোচনার আলোকে সুস্পষ্টভাবে বলা যায়, রুই মাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া অতীব জরুরী। যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রুই মাছ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন করে তুলতে হবে।