| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ…’ ঢাকা কলেজ ২০২৫ – কোষ ও এর গঠন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
জিন হলো ক্রোমোসোমের লোকাসে অবস্থিত DNA অণুর সুনির্দিষ্ট সিকুয়েন্স যা জীবের একটি নির্দিষ্ট কার্যকর সংকেত আবদ্ধ করে এবং প্রোটিন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটায়।
জেনেটিক কোডের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
১. জেনেটিক কোডের ভিত্তি হলো DNA তে অবস্থিত জিন।
২. এটি একটি 3-Letter (তিনটি বেস) কোড।
৩. DNA-তে অবস্থিত 3-Letter কোডন হিসেবে সজ্জিত হয়।
৪. জেনেটিক কোড দ্বারা সঠিক অনুক্রমে অ্যামিনো এসিড নির্বাচিত হয়।
উদ্দীপকের 'A' দ্বারা DNA কে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে এর গঠন বর্ণনা করা হলো-
সজীব কোষে অবস্থিত স্বপ্রজননশীল, পরিব্যক্তিক্ষম, সকল প্রকার জৈবনিক কার্যের নিয়ন্ত্রক এবং বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক যে নিউক্লিক অ্যাসিড তাকে DNA বলে। DNA হলো জীবের বংশগত। বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক। DNA হলো জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক। যা জীবনের আণবিক ভিত্তি।
DNA এর ভৌত গঠন:
১. দুটি পলিনিউক্লিওটাইড সূত্র পরস্পরের সাথে লোহার সিঁড়ির মতো ডানদিকে প্যাঁচানো থেকে একটি জোড় কুন্ডলী বা ডাবল হেলিক্স গঠন করে। এ সিড়ির দুদিকের হাতল নির্মিত হয় ডি-অক্সিরাইবোজ সুগার ও ফসফেট এর পর্যায়ক্রমিক সংযুক্তির মাধ্যমে এবং ধাপগুলো দুটি নাইট্রোজেন বেস দিয়ে গঠিত।
২. একটি নিউক্লিওটাইডের সুগারের ৫ম কার্বন অণুর সাথে ফসফেট যুক্ত থাকলে অপর নিউক্লিওটাইডের সুগার ৩য় কার্বন অণুর সাথে ফসফেট যুক্ত হয়। নাইট্রোজেন বেসটি সব সময় সুগারের ১ম কার্বনের সাথে যুক্ত থাকে।
৩. সিঁড়ির মতো প্যাচানো সূত্রদুটি একটি কাল্পনিক মধ্য অক্ষকে ঘিরে থাকে। সূত্র দুটি পরস্পরের সামান্তরালে কিন্তু বিপরীতমুখী হয়ে অবস্থান করে। অর্থাৎ একটি সূত্র 5'3' মুখী এবং অন্যটি 3'5' কার্বনমুখী অবস্থান থাকে ।
৪. বেসগুলো হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে যুক্ত হয়। কাজেই সিঁড়ির বাইরের দিকে থাকে ফসফেট এবং ভেতরের দিকে নাইট্রোজেন বেস। একটি সূত্রের গুয়ানিন অপর সূত্রের সাইটোসিনের সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে যুক্ত হয় এবং এক সূত্রের অ্যাডেনিন অপর সূত্রের থাইমিনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে সংযুক্ত থাকে।
৫. হেলিক্সের ব্যাস 20Å । দৈর্ঘ্য বিভিন্ন হতে পারে।
৬. একটি পূর্ণাঙ্গ, প্যাচ প্রতি 34Å দূরত্বে সম্পন্ন হয়। প্যাচটি হয় ডান থেকে বাঁদিকে। দশ নিউক্লিওাইড জোড়ের পর একেকটি প্যাচ সম্পন্ন হয়। প্রতি প্যাঁচে থাকে প্রায় ২৫টি হাইড্রোজেন বন্ড।
৭. বেস জোড়গুলো পরস্পর থেকে 3.4Å দূরত্বে অবস্থিত।
৮. DNA-র দৈর্ঘ্য বিভিন্ন হতে পারে, যেমন- মানুষের দেহেকোষের DNA-র দৈর্ঘ্য 174cm এবং ব্যাকটেরিয়ার DNA-র দৈর্ঘ্য 1.4 mm। DNA-র আণবিক ওজন 10-10° হতে পারে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত B তথা mRNA সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া তথা ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়া নিচে বর্ণনা করা হলো-
ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াকে প্রধানত তিন ধাপে ভাগ করা যায়। যথা-
১. সূচনা বা প্রারম্ভিক ধাপ: এধাপে DNA, প্রোমোটার নামক বিশেষ বেস সিকোয়েন্স অংশ ট্রান্সক্রিপসন ফ্যাক্টর ও RNA- পলিমারেসকে নির্দেশ দেন DNA অনুর কোন সূত্রে ট্রান্সক্রিপশন ঘটাবে এবং ট্রান্সক্রিপশন কোথা থেকে শুরু হবে। প্রোমোটারের সংযুক্ত হওয়ার পর প্রথমে RNA- পলিমারেজ DNA অনুর অংশ বিশেষের পাক খুলে দেয় এবং হাইড্রোজেন বন্ড ভেঙে সূত্র দুটি কে আলাদা করে ফেলে।
২. সূত্র বর্ধিতকরণ বা দীর্ঘায়ন ধাপ: RNA পলিমারেজ-II এনজাইম ATP, GTP, UTP, CTP থেকে টেমপ্লেটের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নিউক্লিয়টাইড যুক্ত করতে হয়। এভাবে সূচনা স্থান থেকে mRNA এর সূত্র বর্ধিতকরণ চলতে থাকে (5'->3' অভিমুখে) এবং RNA- পলিমারেজ অগ্রসর হতে থাকে। RNA- পলিমারেজ অগ্রসর হওয়ার পর DNA অনুর পাক খুলে যাওয়া অংশে আবার পাক তৈরি হয়।
৩. সমাপ্তি করন বা সমাপন ধাপ: RNA সূত্র বর্ধিতকরণ শেষে RNA- পলিমারেজ সমাপ্তি স্থানে পৌঁছালে এনজাইমটি মুক্ত হয়ে যায় এবং ট্রান্সক্রিপশনের সমাপ্তি ঘটে।