| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ…’ ঢাকা কলেজ ২০২৬ – কোষ বিভাজন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ করো :
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
Hepaticae শ্রেণির সদস্যদের সাধারণভাবে লিভারওয়ার্ট বলা হয় কারণ এদের থ্যালাসের গঠন অনেকটা মানুষের লিভার বা যকৃতের মতো। যেমন- Riccia।
বাধ্যতামূলক পরজীবী বলতে এমন জীবকে বুঝায়, যারা তাদের জীবনচক্র সম্পন্ন করার জন্য অবশ্যই একটি উপযুক্ত পোষক জীবদেহের ওপর নির্ভরশীল। এরা পোষক ছাড়া স্বাধীনভাবে বাঁচতে বা বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। ভাইরাস এর একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ভাইরাসের নিজস্ব কোনো কোষীয় কাঠামো বা বিপাকীয় ব্যবস্থা নেই। তাই এরা পোষক কোষের বাইরে নিষ্ক্রিয় থাকে এবং কোষের ভিতরে প্রবেশ করেই পোষক কোষের উপকরণ ব্যবহার করে নিজেদের বংশবৃদ্ধি করে।
উদ্দীপকের চিত্র-X প্রক্রিয়াটি হলো কোষচক্র। বিজ্ঞানী হাওয়ার্ড ও পেল্ক ১৯৫৩ সালে কোষচক্র আবিষ্কার করে। কোষচক্র দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়। যথা- ইন্টারফেজ এবং এম. ফেজ বা মাইটোটিক ফেজ। নিচে কোষচক্রের ধাপগুলো বর্ণনা করা হলো-
১. ইন্টারফেজ বা প্রস্তুতিমূলক দশা তিন ভাগে বিভক্ত-
i. দশা ( Gap1, phase): একটি কোষ পরবর্তীতে বিভাজন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে কিনা, তার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় উপপর্যায়। -এর প্রথমেই সাইক্লিন নামক এক প্রকার প্রোর্টিন তৈরি হয় যা CDK এর সাথে যতুক্ত হয়ে সমগ্র প্রক্রিয়ার গতি ত্বরান্বিত ও নিয়ন্ত্রক করে। CDK ফসফোরাইলেশন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রোটিন, RNA এবং DNA রেপ্লিকেশনের সকল উপাদান তৈরি হয়। যে কোষটি আর বিভাজিত হবে না তা এক সপ্তাহ বা এক বছর অর্থাৎ আমৃত্যু উপপর্যায়েই আবদ্ধ হয়ে যায়। মোট কোষ চক্রের ৩০-৪০% সময় এ উপপর্যায়ে ব্যয় হয়।
ii. দশা: এ উপর্যায়ের প্রধান কাজ হলো, নিউক্লিয়াসে ক্রোমোসোমস্থ DNA সূত্রের রেপ্লিকেশন। পরবর্তী উপ-পর্যায়ে প্রবেশের আগেই DNA রেপ্লিকেশন সম্পন্ন হয়। এ উপ-পর্যায়ে সময় ব্যয় হয় মোট সময়ের ৩০-৫০ ভাগ। DNA সংশ্লেষণ ঘটে দশায়।
iii. দশা (Gap2, phase): এটি হলো M-phase-এ (মাইটোসিস দশা) প্রবেশ করার প্রস্তুতি পর্যায়। এ উপপর্যায়ের প্রধান কাজ হলো মাইক্রোটিউবিউল গঠনকারী পদার্থ সংশ্লেষণ যা দিয়ে মাইটোসিস পর্যায়ে স্পিন্ডল তন্তু তৈরি হয়। একটি সেন্ট্রোসোম থেকে দুটি সেন্ট্রোসোম-এ পরিণত হয়। সেন্ট্রোসোম মাইক্রোটিউবিউল তৈরি সূচনা করে। এ উপপর্যায়ে মোট সময়ের ১০-২০ ভাগ সময় ব্যয় হয়।
২. M-phase বা মাইটোটিক ফেজ: কোষচক্র ফেজ থেকে -মাইটোসিস বা বিভাজন পর্যায়ে প্রবেশ করে। একটি জটিল প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াসের বিভাজন ও পুনঃগঠন, সাইটোপ্লাজমের নতুন দুই কোষে গমন, সেলমেমব্রেন এবং উদ্ভিদ কোষে কোষপ্রাচীর গঠনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টির মধ্যদিয়ে M-phase সমাপ্ত হয়। কোষ চক্রের মোট সময়ের মাত্র ৫-১০ ভাগ সময় ব্যয় হয় মাইটোটিক ফেজের জন্য। এভাবেই ইন্টারফেজ → M-ফেজ্ঞ ইন্টারফেজ চক্রাকারে চলতে থাকে।
উদ্দীপকের চিত্র-X প্রক্রিয়াটি হলো কোষচক্র। ইন্টারফেজ ও মাইটোটিক কোষ বিভাজন পর্যায়ক্রমিকভাবে এসে কোষচক্র সম্পন্ন করে। জীবের জীবনে কোষচক্রের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. কোষচক্র না হলে এককোষী বা বহুকোষী কোনো জীবেরই বংশবৃদ্ধি হবে না। মা
২. কোষচক্রের ইন্টারফেজের প্রস্তুতির কারণেই মাইটোসিস হয়, আর মাইটোসিস বহুকোষী জীবের বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটায়, প্রজনন অঙ্গ তৈরি করে এবং ক্ষয়পূরণ করে।
৩. প্রতিটি জীবে স্বাভাবিক কোষচক্র ঐ জীবের স্বাভাবিক বৃদ্ধি সম্পন্ন করে।
৪. অস্বাভাবিক অর্থাৎ অনিয়ন্ত্রিত কোষচক্র জীবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত করে। এমনকি ক্যান্সার রোগও সৃষ্টি করে থাকে।