| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২২ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জটিল খাদ্যবস্তু বিভিন্ন এনজাইমের সহায়তায় ভেঙে জীবদেহের বিপাক ক্রিয়ায় ব্যবহারযোগ্য সরল দ্রবণীয় ও শোষণযোগ্য অবস্থায় পরিবর্তিত হয় তাই পরিপাক।
স্তন্যপায়ী প্রাণিদের মধ্যে দাঁতের সংখ্যা ও ধরন যে সংকেতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় তাকে দন্ত সংকেত বা ডেন্টাল ফর্মুলা বলে। মানুষের চোয়ালে চার ধরনের দাঁত থাকে। একটি সরল রেখার উপর ও নিচে বিভিন্ন প্রকার দাঁতের ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষর লিখে ঐ ধরনের দাঁত প্রতি চোয়ালের অর্ধাংশে কয়টি আছে তা লেখা হয়।
মানুষের দন্ত সংকেত হচ্ছে-
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' হলো অগ্ন্যাশয়। অগ্ন্যাশয় উদরগহ্বরের পাকস্থলির নিচে ডিওডেনাম ও প্লিহার সঙ্গে সমান্তরালভাবে অবস্থিত। অগ্ন্যাশয়কে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয় কারণ অগ্ন্যাশয় একাধারে বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। বহিঃক্ষরা গ্রন্থিরূপে এটি অগ্ন্যাশয় রস ক্ষরণ করে, তাতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাট জাতীয় খাদ্যের পরিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম থাকে। অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স থেকে ইনসুলিন, গ্লুকাগন, গ্যাসট্রিন ও সোমাটোস্ট্যাটিন হরমোন ক্ষরণ করে। দেহের শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণে এসব হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে 'A' নির্দেশিত গ্রন্থিটি হলো অগ্ন্যাশয়। এটি খাদ্য পরিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত এনজাইম সবধরনের খাবার পরিপাকে সহায়তা করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
অগ্ন্যাশয় একটি মিশ্র গ্রন্থি। এটি একদিকে বহিঃক্ষরা গ্রন্থি অপরদিকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয় রস ক্ষরিত হয়। অগ্ন্যাশয় রসে প্রোটিন, শর্করা ও লিপিড পরিপাককারী নানাবিধ এনজাইম থাকে।
শর্করা পরিপাক:
১. অ্যামাইলেজ এনজাইম স্টার্চ ও গ্লাইকোজেন জাতীয় জটিল শর্করাকে মল্টোজে পরিণত করে।
২. মল্টেজ এনজাইম মল্টোজ জাতীয় শর্করাকে গ্লুকোজে পরিণত করে।
আমিষ পরিপাক:
১. ট্রিপসিন: এ এনজাইম প্রোটিওজ ও পেপটোন জাতীয় আমিষ অণুকে পলিপেপটাইডে পরিণত করে।
২. কাইমোট্রিপসিন এনজাইম প্রোটিওজ ও পেপটোন জাতীয় আমিষ অণুকে পলিপেটাইডে পরিণত করে।
৩. কার্বক্সিপেপটাইডেজ এ এনজাইম পলিপেপটাইডের প্রান্তীয় লিঙ্কেজকে সরল পেপটাইড ও অ্যামিনো এসিডে রূপান্তরিত করে।
৪. অ্যামিনোপেপটাইডেজ এ এনজাইম পলিপেপটাইডকে ভেঙে অ্যামিনো এসিডে পরিণত করে।
৫. ট্রাইপেপটাইডেজ: এ এনজাইম ট্রাইপেপটাইডকে ভেঙে অ্যামিনো এসিডে পরিণত করে।
৬. ডাইপেপটাইডেজ এ এনজাইম ডাইপেপটাইডকে ভেঙে অ্যামিনো এসিডে পরিণত করে।
৭. কোলাজিনেজ এ এনজাইম কোলাজেন জাতীয় প্রোটিনকে সরল পেপটাইডে রূপান্তরিত করে।
৮. ইলাস্টেজ: এ এনজাইম যোজক টিস্যুর প্রোটিন ইলাস্টিনকে ভেঙে পেপটাইড উৎপন্ন করে।
লিপিড পরিপাক:
১. লাইপেজ এনজাইম চর্বি (লিপিড) কে ভেঙ্গে ফ্যাটি এসিডে রূপান্তরিত করে।
২. কোলেস্টেরল এস্টারেজ এনজাইম কোলেস্টেরল এস্টারকে ভেঙ্গে ফ্যাটি এসিডে পরিণত করে।