নিচের চিত্রটি লক্ষ করো-
পাইরুভিক এসিডের সংকেত হলো- .
যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় কোনো শ্বসনিক বস্তু অক্সিজেনের সাহায্য ছাড়াই কোষের ভিতরের এনজাইম দিয়ে আংশিকরূপে জারিত হয়ে বিভিন্ন প্রকার জৈব যৌগ, এবং সামান্য পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে, তাকে অবাত শ্বসন বলে। কেবলমাত্র কিছু অণুজীবে যেমন-ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট ইত্যাদিতে অবাত শ্বসন হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে A দ্বারা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার আলোক পর্যায়ে উৎপন্ন ATP (অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট) এবং (বিজারিত নিকোটিনামাইড অ্যাডিনিন ডাই নিউক্লিওটাইড ফসফেট) কে বুঝানো হয়েছে। এদেরকে আত্তীকরণ শক্তিও বলা হয়। নিচে এ উপাদান দুটি তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হলো-
আলোকনির্ভর পর্যায়ে সৌরশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।-এ প্রক্রিয়ায় ATP এবং NADPH উৎপন্ন হয়। এ রূপান্তরিত শক্তি ATP-এর মধ্যে সঞ্চিত হয়। ATP ও NADPH + সৃষ্টিতে ক্লোরোফিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ক্লোরোফিল অণু আলোকরশ্মির ফোটন শোষণ করে এবং শোষণকৃত ফোটন থেকে শক্তি সঞ্চয় করে ADP এর সাথে অজৈব ফসফেট মিলিত হয়ে ATP তৈরি করে।
সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ও ইলেকট্রন উৎপন্ন হয়। এ প্রক্রিয়াকে পানির ফটোলাইসিস বলা হয়। ফটোফসফোরাইলেশন প্রক্রিয়ায় ATP উৎপন্ন হয় এবং ইলেকট্রন NADP-কে বিজারিত করে NADPH উৎপন্ন করে, এভাবেই আত্তীকরণ শক্তি ATP এবং NADPH + তৈরি করে।
উদ্দীপকের চিত্রে A হচ্ছে আত্তীকরণ শক্তি। এই আত্তীকরণ শক্তি উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটলে উদ্ভিদের উপর যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে তা নিচে যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করা হলো:
জীবন পরিচালনার জন্য জীবকোষে প্রতিনিয়ত হাজারো রকমের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া চলে। এসব বিক্রিয়ার জন্য শক্তির প্রয়োজন। শক্তির মূল উৎস সূর্য। সূর্যের এই শক্তিকে সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরির মাধ্যমে নিজের দেহে আবদ্ধ করে। উদ্দীপকে উল্লেখিত আত্তীকরণ শক্তিই হলো উদ্ভিদদেহে আবদ্ধ রাসায়নিক শক্তি যা পরবর্তীতে উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায়। পরবর্তীতে সালোকসংশ্লেষণের কার্বন বিজারণ পর্যায়ে এ শক্তি শর্করা ও অন্যান্য জৈব যৌগের অণুর রাসায়নিক বন্ধনীতে সঞ্চিত বা আবদ্ধ হয়। উদ্ভিদদেহে সঞ্চিত এ স্থিতি শক্তি শ্বসনের সময় তাপরূপে উদ্ভূত হয়ে রাসায়নিক শক্তিরূপে (ATP) মুক্ত হয় এবং উদ্ভিদের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায়। জৈব সংশ্লেষণ, পরিবহণ ও অন্যান্য বিপাকীয় কাজে শক্তির প্রয়োজন হলে ATP ভেঙে ADP ও AMP তৈরি হয় এবং শক্তি উৎপন্ন হয়। কাজেই সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করতে না পারলে উদ্ভিদদেহে প্রয়োজনীয় শক্তির সংবন্ধন ঘটবে না। এতে করে উদ্ভিদ বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিপাকীয় প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে পারবে না। এর ফলে প্রয়োজনীয় আত্তীকরণ শক্তির অভাবে উদ্ভিদ দেহের সমস্ত জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলো আর চলতে পারবে না। পরিশেষে উদ্ভিদের খাদ্য প্রস্তুত, বৃদ্ধি, পরিবহণ, প্রজনন ইত্যাদি -প্রক্রিয়াগুলো বন্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট উদ্ভিদের মৃত্যু ঘটবে।
