নিচের চিত্রটি লক্ষ করো-
পাশাপাশি অবস্থিত কোষসমূহের সাথে সংযোগ সৃষ্টিকারী আণুবীক্ষণিক নালিই হচ্ছে প্লাজমোডেজমাটা।
নিউক্লিয়াসকে কোষেল প্রাণকেন্দ্র বা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র বলা হয়। নিউক্লিয়াস কোষের যাবতীয় কার্যাবলি যেমন, কোষের গঠনগত ও শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের নিয়ন্ত্রণ, RNA ও রাইবোজোম গঠন, প্রোটিন সংশ্লেষণ, বংশগতির স্থানান্তর, বংশগতির বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক ক্রোমোজোম ধারণ, কোষ বিভাজনে অংশ গ্রহণ সবই নিয়ন্ত্রণ করে। তাই জীবকোষের সার্বিক কার্য সম্পাদনে জড়িত বলে নিউক্লিয়াসকে কোষের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বলে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'X' অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। নিচে ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-
ক্লোরোপ্লাস্ট দুই স্তর বিশিষ্ট। বাইরের দিকের স্তরটিকে বহিঃস্তর এবং ভেতরের দিকের স্তরটিকে অন্তঃস্তর বলা হয়। ক্লোরোপ্লাস্টে গ্রানাম চাকতি নামক এক প্রকার স্তরীভূত অঙ্গ থাকে যেখানে সূর্যের আলো আবদ্ধ হয়। গ্রানা সংখ্যায় একের অধিক এবং এরা পরস্পর গ্রানাম ল্যামেলি নামক নালিকা দিয়ে সংযুক্ত।
এছাড়াও ভেতরে ম্যাট্রিক্স থাকে। ম্যাট্রিক্সে স্ট্রোমা ছড়ানো অবস্থায় থাকে। স্ট্রোমা থেকে সালোকসংশ্লেষণের প্রয়োজনীয় উৎসেচক নিঃসৃত হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'X' ও 'Y' হলো যথাক্রমে ক্লোরোপ্লাস্ট ও মাইটোকন্ড্রিয়া। উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় শক্তির জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট ও মাইটোকন্ড্রিয়া-এর কাজ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। নিচে তা মূল্যায়ন করা হলো-
ক্লোরোপ্লাস্ট সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড। এটি গাছের সবুজ পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে পাওয়া যায়। ক্লোরোপ্লাস্টের সাহায্যে সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে এবং বায়ুস্থ কার্বন ডাইঅক্সাইড ও কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। এ প্রস্তুতকৃত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবনিক কাজে শক্তি যোগায়।
অন্যদিকে, জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ। ক্লোরোপ্লাস্টে উৎপাদিত শর্করা জাতীয় খাদ্যকে জারণের মাধ্যমে কোষের বিপাকীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি অর্থাৎ ATP উৎপাদনে মাইটোকন্ড্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শ্বসনের গুরুত্বপূর্ণ দুটি পর্যায় ক্রেবস চক্র ও ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম মাইটোকন্ড্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। কারণ, ক্রেবস চক্রে অংশগ্রহণকারী সব উৎসেচক মাইটোকন্ড্রিয়াতে উপস্থিত থাকে। আর এই ক্রেবস চক্রেই সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপাদিত হয়। এজন্যই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলা হয়।
অর্থাৎ মাইটোকন্ড্রিয়ার যাবতীয় কার্যক্রম ক্লোরোপ্লাস্টে উৎপন্ন শর্করার উপর নির্ভর করে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা ও অক্সিজেন তৈরি না হলে শ্বসন ঘটবে না। ফলে উদ্ভিদ যাবতীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পাবে না। অর্থাৎ এরা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
