| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ…’ যশোর বোর্ড ২০২৫ – শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
ধূমপানের ফলে ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ফেটে গিয়ে শ্বসন তল কমে যায়। এ অবস্থাই হচ্ছে এমফাইসেমা।
শ্বসন প্রক্রিয়ায় শ্বাসরঞ্জক একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মানব দেহের প্রধান শ্বাসরঞ্জক হলো হিমোগ্লোবিন। এটি রক্তের লোহিত কণিকায় উপস্থিত একটি লাল বর্ণের প্রোটিনধর্মী পদার্থ। শ্বাসরঞ্জকের প্রধান কাজ হলো শ্বসন গ্যাস অক্সিজেন পরিবহন। ফুসফুস থেকে অক্সিজেন দেহের প্রতিটি কোষে এবং শ্বসনে উৎপন্ন কার্বন ডাইঅক্সাইড কোষ থেকে ফুসফুসে পরিবহনে হিমোগ্লোবিন মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত অঙ্গটি হলো ফুসফুস। মানবদেহে ফুসফুস প্রধানত শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে, যা মূলত অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগের মাধ্যমে ঘটে। এই প্রক্রিয়াটি দুটি প্রধান ধাপে বিভক্ত: প্রশ্বাস এবং নিশ্বাস।
প্রশ্বাস: যখন আমরা শ্বাস গ্রহণ করি, তখন মধ্যচ্ছদা সংকুচিত হয়ে নিচের দিকে নামে এবং ইন্টারকোস্টাল পেশিগুলো সংকুচিত হয়ে বক্ষগহ্বর বাইরের দিকে প্রসারিত হয়। এর ফলে ফুসফুসের আয়তন বেড়ে যায় এবং ফুসফুসের ভেতরের বায়ুর চাপ বাইরের বায়ুমণ্ডলীয় চাপ থেকে কমে যায়। চাপের এই পার্থক্যের কারণে বাইরে থেকে অক্সিজেন-সমৃদ্ধ বায়ু শ্বাসনালি ও ব্রঙ্কাই দিয়ে ফুসফুসের অ্যালভিওলাই বা বায়ুথলিতে প্রবেশ করে। এখানে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় রক্তজালকের রক্তের সঙ্গে অ্যালভিওলাসের বায়ুর আদান-প্রদান ঘটে।
নিঃশ্বাস: প্রশ্বাসের পর মধ্যচ্ছদা শিথিল হয়ে উপরের দিকে ওঠে এবং ইন্টারকোস্টাল পেশিগুলোও শিথিল হয়ে বক্ষগহ্বর পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে। এতে ফুসফুসের আয়তন কমে যায় এবং ফুসফুসের ভেতরের বায়ুর চাপ বাইরের বায়ুমণ্ডলীয় চাপ থেকে বেড়ে যায়। ফলে কার্বন ডাইঅক্সাইড সমৃদ্ধ বায়ু ফুসফুস থেকে শ্বাসনালি হয়ে বাইরে বেরিয়ে যায়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত অঙ্গটি হলো ফুসফুস। ফুসফুসের এক্স-রে ধূমপায়ী ও অধূমপায়ী ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভিন্ন দেখায় কারণ ধূমপানের ফলে ফুসফুসের গঠনে স্থায়ী পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তনগুলো এক্স-রে চিত্রে ধরা পড়ে। নিচে ধূমপায়ী ও অধূমপায়ী মানুষের এক্স-রের ভিন্নতার কারণ বিশ্লেষণ করা হলো-
১. এক্স-রে ফিল্মের রঙ ভিন্ন হয়। অধূমপায়ীর সুস্থ ফুসফুস বায়ুপূর্ণ। থাকায় এক্স-রে ফিল্মে কালো দেখায়, কারণ বায়ু এক্স-রে রশ্মি কম শোষণ করে। কিন্তু ধূমপায়ীর ফুসফুসে জমে থাকা টার, শ্লেষ্মা এবং প্রদাহের কারণে কিছু অংশ সাদাটে দেখায়, যা এক্স-রে রশ্মি বেশি শোষণ করে।
২. ধূমপানের কারণে ফুসফুসে পানি জমা বা Pleural effusion হতে পারে, যা এক্স-রেতে স্পষ্ট ধরা পড়ে। এই লক্ষণ সাধারণত অধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে দেখা যায় না।
৩. অ্যালভিওলাইয়ের স্বচ্ছতা ও সংখ্যায় পার্থক্য থাকে। ধূমপানের ফলে অ্যালভিওলাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সংখ্যায় কমে যায়, কারণ এগুলো পুনর্গঠিত হয় না। ফলে ধূমপায়ীর এক্স-রেতে সুষম স্বচ্ছতা দেখা যায় না'। অন্যদিকে, অধূমপায়ীর ফুসফুসের. অ্যালভিওলাই সুস্থ থাকায় সুষম স্বচ্ছতা পরিলক্ষিত হয়।
৪. ধূমপায়ীদের ফুসফুসের ভেতরের দিকের সিলিয়া (ক্ষুদ্র লোম) অকার্যকর হয়ে পড়ে, ফলে ধূলিকণা ও বিষাক্ত পদার্থ ফুসফুসে জমা হয়, যা এক্স-রেতে ধরা পড়তে পারে। অধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে সিলিয়া কার্যকর থাকায় ফুসফুস পরিষ্কার থাকে।
৫. ধূমপানের ফলে অ্যালভিওলাসের প্রাচীর পাতলা ও দুর্বল দেখায়, যা এক্স-রেতে ধরা পড়ে। ব্রঙ্কিওলের মিউকাস গ্রন্থিগুলোতেও স্ফীতি দেখা যায়।
৬. ধূমপায়ীদের এক্স-রেতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টিউমার বা উপবৃদ্ধির চিহ্ন দেখা যেতে পারে, যা ফুসফুসের ক্যান্সারের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। অধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে এই ধরনের অস্বাভাবিকতা সাধারণত অনুপস্থিত থাকে।
উপরোক্ত পরিবর্তনগুলোর ফলেই ফুসফুসের এক্স-রে চিত্রে ধূমপায়ী ও অধূমপায়ীর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।