নিচের চিত্রটি লক্ষ করো-
যে প্রক্রিয়ায় সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ও ইলেকট্রন উৎপন্ন হয় তাই ফটোলাইসিস।
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান নিয়ামক হলো । বাতাসে এর পরিমাণ ০.০৩% এবং পানিতে এর পরিমাণ ০.৩%। যেহেতু পাতাশেওলা জলজ উদ্ভিদ সেজন্য সরাসরি পানি থেকে প্রয়োজনীয় গ্রহণ করতে পারে, যা সালোকসংশ্লেষণের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু স্বর্ণলতা একটি পরজীবী উদ্ভিদ, যার কোনো পাতা বা ক্লোরোফিল নেই। যেহেতু স্বর্ণলতার পাতা বা ক্লোরোফিল নেই, তাই এটি সালোকসংশ্লেষণ করতে পারে না। এটি পোষক উদ্ভিদ থেকে পরোক্ষভাবে পুষ্টি গ্রহণ করে। এ কারণেই পাতাশেওলার সালোকসংশ্লেষণের হার স্বর্ণলতা উদ্ভিদের থেকে বেশি।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'A' প্রক্রিয়াটি হলো সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া। সালোকসংশ্লেষণ একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়াকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়। পর্যায় দুটি হলো আলোকনির্ভর ও আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়। নিচে সালোকসংশ্লেষণের আলোকনির্ভর পর্যায়টি ব্যাখ্যা করা হলো-
আলোকনির্ভর পর্যায়ের জন্য আলো অপরিহার্য। এ পর্যায়ে সৌরশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এ প্রক্রিয়ায় mathrm{ATP}, mathrm{NADPH}+mathrm{H}^{+} উৎপন্ন হয়। এই রূপান্তরিত শক্তি ATP-এর মধ্যে সঞ্চিত হয়। এই বিক্রিয়ায় ক্লোরোফিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্লোরোফিল অণু আলোকরশ্মির ফোটন শোষণ করে এবং শোষণকৃত ফোটন থেকে শক্তি সঞ্চয় করে ADP (অ্যাডিনোসিন ডাইফসফেট) অজৈব ফসফেট (Pi = inorganic phosphate)-এর সাথে মিলিত হয়ে ATP তৈরি করে। ATP তৈরির এই প্রক্রিয়াকে ফটোফসফোরাইলেশন বলে।
সূর্যালোক এবং ক্লোরোফিলের সাহায্যে পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন , হাইড্রোজেন আয়ন ( ) ও ইলেকট্রন ( ) উৎপন্ন হয়। এ হাইড্রোজেন আয়ন ও ইলেকট্রনের সহায়তায় NADP বিজারিত হয়ে উৎপন্ন করে ।
উদ্দীপকের চিত্র 'A' ও 'B' দ্বারা যথাক্রমে সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন প্রক্রিয়াকে বুঝানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়া দুটি একে অপরের পরিপূরক। নিচে বিষয়টি মূল্যায়ন করা হলো-
উদ্দীপকের চিত্র ‘E’ ও ‘F’ দ্বারা যথাক্রমে সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন প্রক্রিয়াকে বুঝানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়া দুটি একে অপরের পরিপূরক। নিচে বিষয়টি মূল্যায়ন করা হলো-
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সবুজ উদ্ভিদে ঘটে থাকে। দিনের বেলায় সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ও এর রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদের পাতায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি হয়। অর্থাৎ শর্করা তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো ও । কাজেই এর অনুপস্থিতিতে সবুজ উদ্ভিদ এ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করতে পারে না। কিন্তু সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত এ CO2 শ্বসনের ফলে তৈরি হয়। সকল সজীব কোযে দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টাই শ্বসন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। শ্বসন ক্রিয়ায় শর্করা তথা গ্লুকোজ অক্সিজেনের মাধ্যমে জারিত হয়ে শক্তি ও উৎপন্ন হয়। শ্বসনে ব্যবহৃত এ শর্করা (গ্লুকোজ) ও সালোকসংশ্লেষণেই তৈরি হয়ে থাকে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে সালোকসংশ্লেষণে শর্করা এবং তৈরি না হলে শ্বসন ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতো। আবার শ্বসন ক্রিয়ার ফলে তৈরি না হলে সালোকসংশ্লেযণেও ব্যাঘাত ঘটতো।
পরিশেষে বলা যায় যে. প্রক্রিয়া দুটি অর্থাৎ সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন একে অপরের পরিপূরক।
