নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-
মানবদেহের যে জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেহ বিপাক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থগুলো নিষ্কাশিত হয় তাই রেচন।
মানবদেহে পানির সমতা বজায় রাখার প্রক্রিয়াকে অসমোরেগুলেশন বলে। শারীরবৃত্তীয় কাজ সম্পাদনের জন্য দেহে পরিমিত পানি থাকা অপরিহার্য। শরীরে কোনো কারণে পানির পরিমাণ বেড়ে গেলে মূত্রের মাধ্যমে অপসারিত হয়ে যায়। আবার কোনো কারণে পানির পরিমাণ কমে গেলে নেফ্রনের মাধ্যমে পুনঃশোষণ প্রক্রিয়ায় দেহে পানির সমতা বজায় রাখে। এভাবে অসমোরেগুলেশনের মাধ্যমে দেহে পানির সমতা বজায় থাকে।
উদ্দীপকের অঙ্গটি হলো বৃক্ক যা রেচনতন্ত্রের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। নিচে বৃক্কের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো-
উদ্দীপকে উল্লিখিত তন্ত্রটি হলো মানব রেচনতন্ত্র। রেচনতন্ত্র মানবদেহের ক্ষতিকর নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ। নিষ্কাশনে সাহায্য করে মানবদেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রেচনতন্ত্রের মাধ্যমে রেচন ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। রেচন মানবদেহের একটি জৈবিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে দেহে বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থগুলো নিষ্কাশিত হয়। এ সকল বর্জ্য পদার্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ও বিভিন্ন ধরনের লবণ। এ পদার্থগুলো শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত। কোনো কারণে এ বিষাক্ত পদার্থগুলো শরীরে জমতে থাকলে নানা ধরনের অসুখ দেখা দেয় এবং পরবর্তীতে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। কিন্তু বৃক্কস্থিত নেফ্রন একটি জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রমাগতভাবে মূত্র উৎপন্ন করে। মূত্রের সঙ্গে নাইট্রোজেনঘটিত বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থগুলো এবং তার সাথে অতিরিক্ত পানি, খনিজ লবণ, ভিটামিন ও গ্লুকোজ সংগ্রাহী নালিকার মাধ্যমে পেলভিসে এবং সেখান থেকে ইউরেটার হয়ে মূত্রথলিতে জমা হয়। মূত্রত্যাগের ইচ্ছা হলে মূত্রথলির নিচের দিকে অবস্থিত ছিদ্রের মাধ্যমে মূত্র দেহের বাইরে নির্গত হয়। এভাবে উদ্দীপকের প্রদর্শিত রেচনতন্ত্র মূত্রত্যাগের মাধ্যমে দেহ থেকে বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থ তথা ক্ষতিকারক পদার্থ নিষ্কাশনে সাহায্য করে মানবদেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
