| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
যে প্রক্রিয়ায় পরিপাককৃত খাদ্যসার আন্ত্রিক এপিথেলিয়ামের মাধ্যমে রক্ত প্রবাহ ও লসিকায় প্রবেশ করে তাই শৌষণ।
স্থূলতাকে ব্যাধি বলা হয়, কারণ এটি শরীরের স্বাভাবিক কার্যপ্রণালিকে ব্যাহত করে এবং বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক রোগের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। স্থূলতার কারণে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, হাঁটু ও কোমরের ব্যথা ইত্যাদি হতে পারে। শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার কারণে ওজন বৃদ্ধি পায়, চলাফেরা ও কাজকর্মে ব্যঘতি ঘটে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত "P" অঙ্গটি হলো পাকস্থলি। পাকস্থলির কার্যকারিতায় স্নায়ুতন্ত্রের ভূমিকা নিচে আলোচনা করা হলো-
লালারস ক্ষরণ: মুখ গহ্বরে অবস্থিত লালাগ্রন্থি থেকে লালারস ক্ষরণ দু'ধরনের প্রতিবর্তী ক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়-
১. সহজাত প্রতিবর্তী: খাদ্য দ্রব্য মুখগহ্বরে প্রবেশের সাথে সাথে সহজাত প্রতিবর্তী ক্রিয়া শুরু হয়। জিহ্বার স্বাদকুড়ির স্নায়ুগ্রন্থিগুলো বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের স্বাদের সংস্পর্শে আসে উদ্দীপ্ত হয় এবং সংবেদী স্নায়ু এ উদ্দীপনাকে মস্তিষ্কে প্রেরণ করে। মস্তিষ্কে উদ্দীপনা পৌঁছানোমাত্র লালরস নিঃসৃত হয়। প্রতিবর্তী ক্রিয়াটি মস্তিষ্ক হয়ে অতিক্রম করে বলে একে ক্রেনিয়াল প্রতিবর্তী ক্রিয়া বলে।
২. অর্জিত প্রতিবর্তী: খাদ্য দেখে ঘ্রাণ নিয়ে বা মুখে পুরে নেওয়ার চিন্তা করলে লালাগ্রন্থি থেকে রস নিঃসৃত হয়। এটি অর্জিত প্রতিবর্তী ক্রিয়া। বিজ্ঞানী প্যাভলভ এটি প্রমাণ করেন।
গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরণ: এটি তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়।
১. স্নায়ু পর্যায়: এর স্থায়ীকাল এক ঘণ্টা। মুখগহ্বরে খাদ্যবস্তুর উপস্থিতি, ঘ্রাণ, স্বাদ, দর্শন এবং গলাধঃকরণ এক প্রকার স্নায়ু উদ্দীপনা সৃষ্টি করে যা মস্তিষ্কের ভেগাস স্নায়ু হতে পাকস্থলিতে পৌছে এবং গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসৃত হয়।
২. গ্যাস্ট্রিন পর্যায়: এটি পাকস্থলিতে সম্পন্ন হয়। এ সময় স্নায়ু ও হরমোন উভয়ে সম্পৃক্ত হয়। উভয়বিধ ক্রিয়ার ফলে HCI সমৃদ্ধ গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসরণ প্রায় চার ঘণ্টা যাবৎ চলতে থাকে।
৩. আন্ত্রিক পর্যায়: খাদ্যকণা বা কাইম ডিওডেনামে প্রবেশ করে এর প্রাচীরের সংস্পর্শে আসে তখন হরমোনাল ও স্নায়ুবিক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। এই উদ্দীপনা মস্তিষ্কে পৌছালে গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরণ বন্ধ হয় এবং কাইমের প্রবেশ ধীরগতি হয় এবং খাদ্য পাকস্থলি থেকে ডিওডেনামে আসা শুরু করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত "Q" এবং "R" হলো যথাক্রমে যকৃৎ এবং অগ্ন্যাশয়। যকৃৎ মানবদেহের সবচেয়ে বৃহত্তম গ্রন্থি এবং অগ্ন্যাশয় হলো মিশ্রগ্রন্থি নামে পরিচিত। উভয়ই গ্রন্থি হওয়া সত্ত্বেও এদের কাজ ভিন্ন। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
যদিও যকৃৎ ও অগ্ন্যাশয় দুটিই গ্রন্থি, তবে এদের কার্যপ্রণালী ও পরিপাক বিপাকে ভূমিকা একেবারে ভিন্ন। যকৃৎ প্রধানত চর্বি হজমে। সাহায্য করে এবং দেহের রাসায়নিক ভারসাম্য বজায় রাখে, আর অগ্ন্যাশয় খাদ্য হজমে ও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সরাসরি কাজ করে।