নিচের চিত্রটি লক্ষ করো-
কফুলের বৃত্তশীর্ষে অবস্থিত গোলাকার অংশ যাতে বাকি চারটি স্তবক পরপর সাজানো থাকে তাকে পুষ্পাক্ষ বলে।
পুংস্তবক ফুলের তৃতীয় এবং অত্যাবশ্যকীয় স্তবক। এর প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলে। একটি পুংস্তবকে এক বা একাধিক পুংকেশর থাকতে পারে। পুংকেশরের দণ্ডের মতো অংশকে পুংদণ্ড এবং শীর্ষের থলির মতো অংশকে পরাগধানী বা পরাগরেণু থলি বলে। পরাগধানীর মধ্যে উৎপন্ন হয় পরাগ বা পরাগরেণু। এই পরাগরেণু অঙ্কুরিত হলে পোলেন টিউব উৎপন্ন হয়। এই পোলেন টিউবে পুংজননকোষ উৎপন্ন হয়। পুংস্তবক না থাকলে পরাগরেণু উৎপন্ন হবে না এবং পরাগরেণু না থাকলে উদ্ভিদের প্রজনন বন্ধ হয়ে যাবে। তাই পুংস্তবক ফুলের একটি অত্যাবশ্যকীয় স্তবক।
উদ্দীপকে চিত্র: Q এর 'R' দ্বারা গর্ভাশয়কে বুঝানো হয়েছে। গর্ভাশয়ে স্ত্রীগ্যামেটোফাইট বা ডিম্বাণু (n) সৃষ্টি হয়। নিচে স্ত্রীগ্যামেটোফাইট বা ডিম্বাণু উৎপত্তির বিভিন্ন ধাপসমূহের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো-
এ উদ্দীপকে উল্লেখিত 'P' হচ্ছে পুংকেশর বা পুংস্তবক এবং 'Q' হচ্ছে গর্ভাশয় বা স্ত্রীস্তবক। ফুলের এ দুটি অংশ থেকে যথাক্রমে পুংজননকোষ ও স্ত্রীজননকোষ উৎপন্ন হয়। উদ্ভিদের বংশবিস্তারে
পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
পুংস্তবকে উৎপন্ন একটি পুংজননকোষ ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট তৈরি করে। অপর পুংজননকোষটি গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড (3n) সস্য কোষের সৃষ্টি করে। জাইগোট কোষটি হচ্ছে স্পোরোফাইটের প্রথম কোষ। এর প্রথম বিভাজনে দুটি কোষের সৃষ্টি হয়। জাইগোটের বিভাজন অনুপ্রস্থে ঘটে। ডিম্বকরন্দ্রের দিকের কোষকে ভিত্তি কোষ এবং ভূণথলির কেন্দ্রের দিকের কোষটিকে এপিক্যাল কোষ বলা হয়। একই সাথে এ কোষ দুটির বিভাজন চলতে থাকে। ধীরে ধীরে এপিক্যাল কোষটি একটি ভ্রূণে পরিণত হয়। একই সাথে ভিত্তি কোষ থেকে ভ্রূণ ধারক গঠিত হয়। ক্রমশ বীজপত্র, ভূণমূল ও ভ্রূণকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ক্রমান্বয়ে গৌণ নিউক্লিয়াসটি সস্যটিস্যু উৎপন্ন করে। পরিণত অবস্থায় ডিম্বকটি সস্য ও ভূণসহ বীজে পরিণত হয়। এ বীজ অঙ্কুরিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ স্পোরোফাইটের বা নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি করে। যদি পুং গ্যামেট ও ডিম্বাণু এর মিলন না হতো, তবে জাইগোট সৃষ্টি হতো না, ফলস্বরূপ পরবর্তীতে নতুন উদ্ভিদের জন্ম হতো না। তখন উদ্ভিদের বিলুপ্তি ঘটত এবং এর ফলস্বরূপ জীবজগৎ বিলুপ্ত হয়ে যেত। তাই উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে দেখা যায়, উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধিতে পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
