নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-
বাতজ্বর: বাতজ্বর হলো স্ট্রেপটোকক্কাস অণুজীবের সংক্রমণে হওয়া একটি জ্বর। শ্বাসনালির প্রদাহ, ফুসকুড়িযুক্ত সংক্রামক জ্বর, টনসিলের প্রদাহ, অথবা মধ্যকর্ণের সংক্রামক রোগ বাতজ্বরের উল্লেখযোগ্য লক্ষণ।
নিম্নে ধমনি এবং শিরার মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করা হলো-
উদ্দীপকের চিত্রের অঙ্গের নাম হৃৎপিন্ড যা রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ায় প্রধান ভূমিকা পালন করে। নিম্নে হৃৎপিণ্ডের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো-
হৃৎপিণ্ড রক্ত সংবহনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ। হৃৎপিণ্ডের অবিরাম সংকোচন এবং প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সংবহন পদ্ধতি অব্যাহত থাকে। হৃৎপিণ্ডের ভিতরের স্তর ফাঁপা এবং চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। উপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে ডান ও বাম অলিন্দ এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে ডান বাম নিলয় বলে।
অলিন্দদ্বয় প্রসারিত হলে দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত হৃৎপিণ্ডে প্রবেশ করে। যেমন- ঊর্ধ্ব মহাশিরার কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত ডান অলিন্দে প্রবেশ করে। ঠিক একই সময় ফুসফুসীয় বা পালমোনারী শিরার মাধ্যমে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বাম অলিন্দে প্রবেশ করে। অলিন্দদ্বয়ের সংকোচনের ফলে নিলয়দ্বয়ের পেশি প্রসারিত হয়। ফলে ডান অলিন্দ-নিলয়ের ছিদ্রপথের ট্রাইকাসপিড ভালভ খুলে যায় এবং ডান অলিন্দ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত ডান নিলয়ে প্রবেশ করে। ঠিক একই সময় বাম অলিন্দ ও বাম নিলয়ের বাইকাসপিড ভালভ খুলে যায় এবং বাম অলিন্দ থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বাম নিলয়ে প্রবেশ করে। এর পরপরই ছিদ্রগুলো কপাটিকা দ্বারা বন্ধ হয়ে যায়। যখন নিলয়দ্বয় সংকুচিত হয় তখন ডান নিলয় থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত ফুসফুসীয় ধমনির মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে।এখানে রক্ত পরিশোধিত হয়। ঠিক একই সময়ে বাম নিলয় থেকে অক্সিজেনযুক্ত' রক্ত মহাধমনির মাধ্যমে সারা দেহে পরিবাহিত হয় এবং উভয় ধমনির অর্ধচন্দ্রাকৃতির কপাটিকাগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রক্ত পুনরায় নিলয়ে ফিরে আসতে পারে না। এভাবে হৃৎপিণ্ডে পর্যায়ক্রমিক সংকোচন ও প্রসারণের ফলে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে।
উদ্দীপকের অঙ্গটি হলো হৃৎপিন্ড। হৃৎপিন্ডের অ্যাটাকজনিত রোগটি হলো হার্ট অ্যাটাক। যখন কারও হৃদ্যন্ত্রের কোনো অংশে রক্ত জমাট - বাঁধার কারণে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় কিংবা বাধাগ্রস্থ হয়, তখন হৃৎপিণ্ডের কোষ কিংবা হৃৎপেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে মায়োকারডিয়াল ইনফার্কশন, করোনারি থ্রোম্বসিস ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টি হয়, যেগুলোকে একনামে হার্ট অ্যাটাক বলা হয়। নিম্নে এর লক্ষণ ও প্রতিষ্কার বিশ্লেষণ করা হলো-
লক্ষণসমূহ:-
i. বুকের মাঝখানে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব হয় যা প্রাথমিকভাবে অ্যান্টাসিড ঔষধ খেলেও কমে না।
ii. ব্যথা বাম দিকে বা সারা বুকে ছড়িয়ে যেতে পারে।
iii. ব্যথা অনেক সময় গলা এবং বাম হতে ছড়িয়ে যায়।
iv. রোগী প্রচণ্ডভাবে ঘামতে থাকে এবং বুকে ভারি চাপ অনুভব করছে বলে মত প্রকাশ করে।
প্রতিকার:
এ রোগ থেকে বাঁচতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে, যাতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যেমন:
i. দেহের ওজন একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে।
ii. অতিরিক্ত তেল, চর্বিযুক্ত খাদ্য পরিহার করতে হবে।
iii. ফাস্টফুড জাতীয় খাদ্য কম খেতে হবে।
iv. অলস জীবন যাপন বর্জন করতে হবে।
v. শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। যেমন- নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।
vi. সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। কাঁচা ফল ও শাকসবজি বেশি বেশি খেতে হবে।
vii. মাদক ও নেশা জাতীয় বস্তুকে বর্জন করতে হবে।
viii. নিয়মিত হাঁটাচলা করতে হবে।
উপরের পরামর্শগুলো মেনে চললে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে।
