| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ…’ শহিদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ ২০২৫ – উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
পানি পত্ররন্ধ্র বা হাইডাথোড এক বিশেষ ধরনের পানি নির্মোচন অঙ্গ। হাইডাথোড দিয়ে তরল পানি বের হয়ে যাওয়াকে নিদ্রাবণ বা পানি নির্গমণ বা গাটেশন বলে।
উদ্ভিদের সেকেন্ডারি বৃদ্ধির ফলে অনেক সময় কান্ডের কর্ক টিস্যুর স্থানে স্থানে ফেটে গিয়ে লেন্টিসেল এর সৃষ্টি হয়। লেন্টিসেল দিয়ে কিছু কিছু পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। পানি যখন বাষ্পাকারে লেন্টিসেল পথে বেরিয়ে যায়, তখন তাকে লেন্টিকুলার প্রস্বেদন বলে। খুব কম পরিমাণ পানিই এ পথে বের হয়। লেন্টিসেল সবসময় খোলা থাকে, এজন্য দিবারাত্রি সমভাবে লেন্টিকুলার প্রস্বেদন চলতে থাকে। উদ্ভিদ প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় যে পরিমাণ পানি হারায় তার প্রায় ১% লেন্টিকুলার প্রস্বেদনের মাধ্যমে হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র 'P' দ্বারা পত্ররন্ধ্র বা স্টোমাটাকে বোঝানো হয়েছে। পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া নিয়ে বিভিন্ন বিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে মতামত দিয়েছেন। বিজ্ঞানী Lexit (1974) এ মতবাদের প্রবক্তা। তিনি পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধের ব্যাপারে ক্যাটায়ন, তথা (পটাশিয়াম আয়নকে (K+) দায়ী করেছেন। দিনের বেলায় সূর্যালোকের উপস্থিতিতে রক্ষীকোষে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় গুকোজ উৎপন্ন হয় এবং এজন্য রক্ষীকোষস্ত কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহৃত হয়। ফলে রক্ষীকোষের pH- বেড়ে যায় এবং অম্লতা হ্রাস পায়। এসময় রক্ষীকোষে সঞ্চিত শ্বেতসার প্রথমে ম্যালিক অ্যাসিডে পরিণত হয়, পরে ম্যালিক অ্যাসিড [R(COOH)₂] বিশ্লিষ্ট হয়ে অ্যানায়ন (ম্যালেট) ও ক্যাটায়নে (H+) পরিণত হয়।
অ্যানায়ন (ম্যালেট/R(COO-)2) রক্ষীকোষে সঞ্চিত থাকে, কিন্তু ক্যাটায়ন [প্রোটন (H+)] রক্ষীকোষ থেকে বেরিয়ে পার্শ্ববর্তী কোষে চলে যায়। এর ফলে রক্ষীকোষের ভেতর ঋণাত্মক আধানযুক্ত হয় এবং pH বেড়ে যায়। এ অবস্থা রক্ষীকোষকে আরো ম্যালিক অ্যাসিড সংশ্লেষণে উদ্বুদ্ধ করে। রক্ষীকোষের ভেতরে সৃষ্ট ঋণাত্মক আধানকে সমতাবিধান করার জন্য পার্শ্ববর্তী কোষ থেকে নিষ্ক্রিয়ভাবে K+ রক্ষীকোষের ভেতরে প্রবেশ করে এবং ম্যালেটের সাথে যুক্ত হয়ে পটাশিয়াম ম্যালেট [R(COOK)2] গঠন করে। এই পটাশিয়াম ম্যালেট যৌগ রক্ষীকোষের অভিস্রবণিক চাপ বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। এসময় রক্ষীকোষের রসস্ফীতি চাপ (TP) বেড়ে যায়। রক্ষীকোষের ভেতরের দিকের প্রাচীর অধিক পুরু এবং বাইরের দিকের প্রাচীর তুলনামূলক পাতলা হওয়ায় রসস্ফীতি চাপে রক্ষীকোষের বাইরের দিকে স্ফীত হয়ে ধনুকের মত বেঁকে যায় ফলে পত্ররন্ধ্র খুলে যায়।
রাতের বেলা বিপরীতমুখী ঘটনা ঘটার কারণে রক্ষীকোষে ম্যালিক অ্যাসিড বৃদ্ধি পায়। ম্যালিক অ্যাসিড CO₂ ত্যাগ করে পাইরুভিক অ্যাসিডে পরিণত হয় যা কতগুলো ধারাবাহিক বিক্রিয়া শেষে অদ্রবণীয় শ্বেতসারে রূপান্তরিত হয়ে কোষে সঞ্চিত হতে থাকে। এর ফলে রক্ষীকোষের অভিস্রবণিক চাপ হ্রাস পেতে থাকে এবং পানি দ্রুত রক্ষীকোষ থেকে পার্শ্ববর্তী কোষসমূহে বের হয়ে আসে। এতে রক্ষীকোষ শিথিল হয়ে পত্ররন্ধ্রকে বন্ধ করে দেয়।
বিজ্ঞানী Noggle এবং Fritz(1976) প্রোটন প্রবাহ মতবাদের পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করে তা সমর্থন করেন।
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র "P" দ্বারা পত্ররন্ধ্রকে বুঝানো হয়েছে। পত্ররন্ধ্র দ্বারা পানি বাষ্পাকারে নির্গত হওয়া উদ্ভিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। প্রস্বেদনের মাধ্যমে উদ্ভিদে পানি ও গ্যাসের আদান প্রদান ঘটে। এর গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
পানি ও খনিজ লবণ শোষণ: প্রস্বেদন উদ্ভিদের শিকড়ের মাধ্যমে মাটি থেকে পানি ও মিনারেল শোষণের প্রক্রিয়া সক্রিয় রাখে। যখন পত্ররন্দ্রের মাধ্যমে পানি বাষ্পাকারে বের হয়। এটি শিকড় থেকে পানির টান সৃষ্টি করে যা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পৌঁছায়।-
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: পত্ররন্ধ্র দ্বারা পানি বাষ্পাকারে নির্গত হওয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদ নিজেদের শীতল রাখতে সক্ষম হয়। এটি বিশেষত গরম আবহাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পানি বাষ্পে পরিণত হলে তাপমাত্রা কমে যায়।
গ্যাসের আদান প্রদান: পত্ররন্দ্রের মাধ্যমে CO2 গ্রহণ ও O2 নির্গমন ঘটে, যা উদ্ভিদের ফটোসিন্থেসিস পরিচালনার জন্য অপরিহার্য।
পুষ্টির প্রাপ্তি: প্রস্বেদন উদ্ভিদের পাতায় পানি প্রবাহিত করার মাধ্যমে পুষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় দ্রবণগুলি সরবরাহ করে।
এই কারণে পত্ররন্ধ্র দ্বারা পানি বাষ্পাকারে নির্গত হওয়া উদ্ভিদের সার্বিক জীবন প্রণালীর জন্য অপরিহার্য একটি প্রক্রিয়া।