| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ…’ সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ২০২৫ – চলন ও অঙগচালনা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৭
লসিকা হচ্ছে দেহের টিস্যু রস। দেহের সমস্ত টিস্যু রক্তপূর্ণ কৈশিক জালিকায় বেষ্টিত থাকে। রক্তের কিছু উপাদান কৈশিক জালিকায় প্রাচীর ভেদ করে কোষের চারপাশে অবস্থান করে। এ উপাদানগুলোকে সম্মিলিতভাবে লসিকা বলে।
যে সংবহনতন্ত্রে রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে নালিকা পথে বের হয়ে পরে উন্মুক্ত দেহ গহ্বরে প্রবেশ করে এবং দেহ গহ্বর থেকে পুনরায় নালিকা পথে হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে তা মুক্ত রক্ত সংবহন। অর্থাৎ রক্ত সর্বদা রক্তবাহিকার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয় না। চিংড়ি, পতঙ্গ, মলাস্কা প্রভৃতি প্রাণীর দেহে এ ধরনের সংবহন দেখা যায়।
উদ্দীপকের উল্লেখিত চিত্রটি হলো নিরেট অস্থির গঠন ও কার্যরত একক হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র। নিচে হ্যাভারসিয়ান তন্ত্রের গঠন ও কাজ বর্ণনা করা হলো-
গঠন: নিরেট অস্থির গঠন ও কার্যরত একক হলো হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র। নিরেট অস্থির ম্যাট্রিক্স কতগুলো স্তরে সাজানো থাকে। স্তরগুলোকে ল্যামেলি বলে। ল্যামেলি একটি সুস্পষ্ট নালির চারদিকে চক্রাকারে বিন্যস্ত। কেন্দ্রীয় এ নালিটি হলো হ্যাভারসিয়ান নালি। প্রতিটি হ্যাভারসিয়ান নালি এবং একে বেষ্টনকারী ল্যামেলির সমন্বয়ে একটি হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র বা অস্টিওন গড়ে ওঠে। প্রত্যেক ল্যামেলায় ল্যাকুনা নামে কতগুলো ক্ষুদ্র গহ্বর পাওয়া যায়। অস্থিকোষ ল্যাকুনার ভিতরে অবস্থান করে। প্রতিটি ল্যাকুনার চারদিক থেকে সুক্ষ্ম কতগুলো নালিকা বেরোয়। এদের ক্যানালিকুলি বলে। এসব নালিকার মাধ্যমে একটি হ্যাভারসিয়ান তন্ত্রের বিভিন্ন ল্যাকুনা পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে। অস্থির অভ্যন্তরে হ্যাভারসিয়ান নালিগুলো পরস্পরের আড়াআড়ি নালি দিয়ে যুক্ত থাকে। এসব নালিকে ভকম্যানস ক্যানাল বলে।
কাজ: হ্যাভারসিয়ান তন্ত্রের মাধ্যমে অস্থি গঠিত হয় যা দেহের কাঠামো গঠন, সুরক্ষা, সংযোগতল সৃষ্টি, চলন, ভারবহন ইত্যাদি যান্ত্রিক কাজ সম্পাদন করে। এছাড়া এটি হরমোনাল নিয়ন্ত্রণ, রক্তকণিকা উৎপাদন, খনিজ লবণ সঞ্চয় ইত্যাদি সহ বিভিন্ন শরীরবৃত্তীয় কার্যাবলি সম্পাদন করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্রটি হলো হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র যা অস্থির গাঠনিক একক। মানব কংকাল তন্ত্রের কার্যকারিতায় অস্থি ও তরুণাস্থির ভূমিকা নিচে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
অস্থির ভূমিকা:
১. অস্থি দেহের দৃঢ় ও মজবুত স্থাপত্য কঙ্কালতন্ত্র গঠন করে এবং দেহকে নির্দিষ্ট আকার ও আকৃতি প্রদান করে।
২. অস্থির ভেতরে অবস্থিত লাল অস্থিমজ্জা থেকে প্রতিনিয়ত লোহিত রক্তকণিকা সৃষ্টি হয়। হলুদ অস্থিমজ্জা সঞ্চিত চর্বির আধার হিসেবে কাজ করে। অস্থিমজ্জা দেহভরের ৪% গঠন করে, লাল অস্থিমজ্জা থেকে প্রতিদিন ৫ বিলিয়ন লোহিত রক্ত কণিকা সৃষ্টি হয়।
৩. কিছু ত্রুটিপূর্ণ ও বয়স্ক লোহিত রক্তকণিকা অস্থিমজ্জায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। দেহের কিছু অবাঞ্ছিত বস্তু ও ভারী ধাতব পদার্থ অস্থির মাধ্যমে দেহ হতে বহিষ্কৃত হয়।
৪. কিছু ক্ষারীয় লবণ শোষণ বা অবমুক্তকরণের মাধ্যমে অস্থি দেহের pH রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
৫. অস্থির রেটিক্যুলো এন্ডোথেলিয়াল তন্ত্র দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় অংশ নেয়।
তরুণাস্থির ভূমিকা:
১. তরুণাস্থি বিভিন্ন অঙ্গের চাপ ও টান প্রতিরোধ করে।
২. এগুলো বিভিন্ন অঙ্গের আকৃতি গঠন করে।
৩. অস্থিসন্ধিতে এরা দুটি অস্থিকে সংযুক্ত হতে সহায়তা করে এবং অস্থির প্রান্তভাগকে ঘর্ষণের হাত হতে রক্ষা করে।
৪. ফাইব্রোকার্টিলেজ টেনডন ও লিগামেন্টকে অস্থির সাথে যুক্ত করতে সহায়তা করে।
৫. তরুণাস্থিতে লুব্রিসিন নামক গ্লাইকোপ্রোটিন থাকে যা কঙ্কালতন্ত্রে জৈব লুব্রিকেটর হিসেবে কাজ করে।