| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ…’ সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ২০২৫ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
বিবর্তনের মিশ্র তত্ত্ব হলো ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের সাথে জিনতত্ত্ব, জনসংখ্যাগত বিবর্তন এবং অন্যান্য জৈবিক নীতিগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি পরিপূর্ণ তত্ত্ব।
এনজিওপ্লাস্টির দুইটি উদাহরণ হলো-
i. বেলুন এনজিওপ্লাস্টি ও
ii. লেজার এনজিওপ্লাস্টি।
উদ্দীপক অনুসারে প্রতিপাদ্যগুলো দ্বারা ডারউইনবাদকে বুঝানো হয়েছে। এদের মধ্যে সিদ্ধান্ত-১ দ্বারা জীবন সংগ্রাম এবং সিদ্ধান্ত-২ দ্বারা প্রাকৃতিক নির্বাচনকে বুঝানো হয়েছে। নিম্নে জীবন সংগ্রাম এবং প্রাকৃতিক নির্বাচন ব্যাখ্যা করা হলো-
জীবন সংগ্রাম: ডারউইনের মতে, প্রাকৃতিক বাধা কার্যকর হয় জীবন সংগ্রামের মাধ্যমে। একদিকে ক্রমাগত বংশবৃদ্ধি অন্যদিকে পরিমিত খাদ্য ও বাসস্থানের যোগান জীবনকে প্রবল প্রতিযোগিতার মুখে ঠেলে দেয়। এতে বেঁচে থাকার উপযুক্ত জীব বাছাই হয়ে যায়। এটিই জীবন সংগ্রাম বা অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম। জীবন সংগ্রাম প্রধানত নিচে বর্ণিত তিনভাবে হয়ে থাকে:
ক. অন্তঃপ্রজাতিক সংগ্রাম: একই প্রজাতির বিভিন্ন সদস্যের খাদ্য ও বাসস্থান একই রকম হওয়ায় এদের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে নিজেদের মধ্যেই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। একেই অন্তঃপ্রজাতিক বা স্বপ্রজাতির সঙ্গে সংগ্রাম বলা হয়।
খ. আন্তঃপ্রজাতিক সংগ্রাম: যে কোন দুটি বা ততোধিক প্রজাতির মধ্যে বাঁচার জন্য যে প্রতিযোগিতা ঘটে তাকেই আন্তঃপ্রজাতিক বা বিষম প্রজাতির সঙ্গে সংগ্রাম বলা হয়।
গ. পরিবেশগত সংগ্রাম: জীব যে পরিবেশে বাস করে সেখানে যে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়, তা থেকে রক্ষার জন্য যে সংগ্রাম তাকে পরিবেশগত সংগ্রাম বলে।
প্রাকৃতিক নির্বাচন: যে সব জীবের মধ্যে অনুকূল পরিবৃত্তি আছে প্রকৃতি তাদের নির্বাচন ও লালন করে। সুবিধাজনক পরিবৃত্তিধারী জীব পরিবেশের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে এবং অযোগ্যদের তুলনায় বেশি হারে বংশবিস্তার করতে পারে। এদের বংশধরদের মধ্যে পরিবৃত্তিগুলো উত্তরাধিকার সূত্রে পরিবাহিত হয়। যাদের সুবিধাজনক পরিবৃত্তি বেশি থাকে প্রকৃতি পুনরায় তাদের নির্বাচন করে।
উদ্দীপকের সিদ্ধান্ত দ্বারা ডারউইনিজমকে বুঝানো হয়েছে। ডারউইনিজমের সাপেক্ষে নব্য ডারউইনিজম সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো-
ভাইজম্যান ও তাঁর অনুগামীদের মাধ্যমে ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদের এ নব্যমূল্যায়নকে নব্য-ডারউইনবাদ বলা হয়।
ভাইজম্যানের গবেষনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, জীবদেহে পরিবেশ থেকে উদ্ভূত বাহ্য প্রভাব বংশানুসৃত হয় না। তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ইঁদুর ছানার লেজ কেটে কোনো প্রজন্মে ছানার লেজের দৈর্ঘ্য কমতে দেখেননি। পরিবেশের প্রভাবে সোমাটোপ্লাজমে পরিবর্তন ঘটলেও জার্মপ্লাজমে কোন পরিবর্তন নাও ঘটতে পারে। তাই কেবল সোমাটোপ্লাজমে সংঘটিত পরিবর্তন বংশগতি লাভে সমর্থ হয় না। সুতরাং পরিবেশের সব প্রত্যক্ষ প্রভাবই বিবর্তনের শর্ত হতে পারে না। বিবর্তনে পরিবেশের পরোক্ষ প্রভাব কাজ করে অভিযোজন ও প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে। এখানে নির্বাচন হয় জার্মপ্লাজম স্তরে। ভাইজম্যানের এ ধারণা ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচনের ধারণা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ডারউইন মনে করতেন প্রাকৃতিক নির্বাচন হয় স্বতন্ত্র জীব পর্যায়ে, কিন্তু এখন জানা গেছে এটা ঘটে পপুলেশন পর্যায়ে। ডারউইন মনে করতেন শুধু প্রাকৃতিক নির্বাচনের ফলে অভিযোজনের সূত্রপাত ঘটে। কিন্তু নব্য-ডারউইনবাদীদের মতে অভিযোজনের একাধিক কারণ আছে এবং সেই কারণগুলোর একটি হলো প্রাকৃতিক নির্বাচন। তবে নব্য-ডারউইনবাদীরা বিবর্তনে মিউটেশনের গুরুত্ব অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছিলেন।