| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ…’ সিলেট বোর্ড ২০২৩ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
খাদ্যনালিতে সংঘটিত ক্রমসংকোচন এবং প্রসারণকে পেরিস্ট্যালসিস বলে।
যকৃৎ হলো মানবদেহের সবচেয়ে বড় জৈব রসায়নাগার।
যকৃৎ মানব দেহের গুরুত্বপূর্ণ পরিপাক গ্রন্থি। পরিপাকে অংশগ্রহণ ছাড়াও যকৃেত অনেক গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয় । যকৃৎ থেকে পিত্তরস ক্ষরিত হয়। এছাড়াও পরিপাকের সকল গুরুত্বপূর্ণ বিক্রিয়া যকৃতের সংঘটিত হয়। তাই যকৃতকে জৈব রসায়নাগার বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তন্ত্রটি হলো পরিপাকতন্ত্র এবং থলিটি হলো পিত্তথলি ৷ পিত্তখলি দেহ থেকে অপসারণ করলে নানা রকম সমস্যার সৃষ্টি হবে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
পিত্ত জীবনের জন্য একটি অপরিহার্য পদার্থ । পাচক এনজাইম না থাকা সত্বেও এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিপাক বা পাচক রস হিসেবে কাজ করে। আমাদের যকৃৎ থেকে প্রতিদিন ৫০০ মিলিলিটারের মতো পিত্ত তৈরি হয়। এই পিত্তের কাজ হচ্ছে চর্বি জাতীয় খাবারকে পরিপাকে সাহায্য করা। পিত্তরসে বিদ্যমান পিত্তলবণ স্নেহ জাতীয় খাদ্যকে ইমালসিফিকেশনের মাধ্যমে সাবানের ফেনার মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত করে এবং লাইপেজ এনজাইমকে সক্রিয় করে পরিপাকে সাহায্য করে। কিন্তু পিত্তথলি যদি শরীর থেকে বাদ দেয়া হয় অথবা সঠিকভাবে কাজ না করে সেক্ষেত্রে চর্বি জাতীয় খাবার হজমে অসুবিধা হবে। ফলে এই চর্বি বা ফ্যাটের সঙ্গে ভিটামিন কে বা আরো প্রয়োজনীয় ভিটামিনগুলোও শোষণ হবে না এবং নানা রকম সমস্যা দেখা দিবে। পিত্তথলি কেটে বাদ দিয়ে দিলেও যকৃৎ পিত্তরস তৈরি করে যা সারাক্ষণই অন্ত্রে আসতে থাকে। ফলে চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া যায় না অল্প পরিমাণে খেতে হয় যাতে হজমে অসুবিধা না হয়। পিত্তথলির সমস্যার কারণে পেট ব্যথা, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, বুকে জ্বালাপোড়া করা ইত্যাদি হতে পারে।
উদ্দীপকের তন্ত্রটি হলো পরিপাক তন্ত্র এবং পাতার ন্যায় গ্রন্থিটি হলো অগ্ন্যাশয়। এটি খাদা পরিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। অগ্নাশয় থেকে নিঃসৃত এনজাইম সবধরনের খাবার পরিপাকে সহায়তা করে। অগ্ন্যাশয় একটি মিশ্র গ্রন্থি । এটি একদিকে বহিঃক্ষরা , গ্রন্থি অপরদিকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। নিচে পরিপাকতন্ত্রে অগ্ন্যাশয়ের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর৷ হলো- খাদ্য পাকস্থলি থেকে ক্ষুদ্রান্ত্রে যাওয়ার সময় ক্ষারীয় তরলরূপী (pH 8-8.3) অগ্ল্যাশয় রস নিঃসৃত হয়। অগ্ন্যাশয়ের বহিঃক্ষরা অংশ থেকে দুধরনের ক্ষরণ মিলে অগ্ন্যাশয় রস গঠন করে, যেমন- পরিপাক এনজাইম এবং একটি ক্ষারীয় তরল। বহিঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয় থেকে বিভিন্ন ধরনের পরিপাককারী এনজাইম নিঃসৃত হয়। আমিষ, শর্করা ও স্নেহজাতীয় খাদ্য পরিপাককারী এসব এনজাইমসমূহের পরিপাকে অংশগ্রহণের ধরন নিম্নরূপ :
১. আ্যামাইলেজ, মল্টেজ এনজাইম বিভিন্ন জটিল শর্করাকে ভেঙ্গে সরল শর্করা হিসেবে গ্লুকোজে পরিণত করে।
২. ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন, কার্বোক্সিপেপটাইডেজ, ট্রাইপেপটাইডেজ, ডাইপেপটাইডেজ, কোলাজিনেজ, ইলাস্টেজ নামক এনজাইমগুলো আমিষ জাতীয় খাদ্যকে ভেঙ্গে সরল পেপটাইড ও আ্যামাইনো এসিডে পরিণত করে।
৩. লাইপেজ ও কোলেস্টেরল এস্টারেজ এনজাইম লিপিড জাতীয় খাদ্যকে ভেঙে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে। পরিপাক সংক্রান্ত কাজ ছাড়াও অগ্ন্যাশয় রস যে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পাদন করে তা হলো-
১. অগ্ন্যাশয় রস অল্পক্ষারের সমতা রক্ষা করে।
২. অগ্ন্যাশয় রস দেহে পানির সাম্য রক্ষা করে।
৩. অগ্য্যাশয় রস দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণ করে।