| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্রটি লক্ষ…’ সিলেট বোর্ড ২০২৩ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
রুই মাছের দেহোর দুই পাশে এক সারি ছোট গর্ত আছে যা আইশের নিচে অবস্থিত একটি লম্বা খাদের সঙ্গে যুক্ত। এ খাদ ও গর্তের সমন্বয়ে মাছের পার্শ্বরেখা অঙ্গ গঠিত হয়।
কার্প জাতীয় মাছের মধ্যে যেগুলো আকৃতিতে বড় এবং দ্রুত বর্ধনশীল এবং বাণিজ্যিভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোকে মেজর কার্প বলে। রুই মাছ আমাদের দেশের অতি পরিচিত সুস্বাদু মাছ। রুই মাছ মেজর কার্প জাতীয় মাছ।
উদ্দীপকের প্রাণীটি হলো রুই মাছ। এর হৃৎপিন্ডের গঠন চিত্রসহ ব্যাখ্যা করা হলো:
রুই মাছের ফুলকাদুটির পিছনে লম্বাটে ও মোচাকৃতির হৃৎপিণ্ডটি পেরিকার্ডিয়াল গহ্বর (pericardial cavity) নামে এক বিশেষ ধরনের গহ্বরে অবস্থান করে । পেরিকার্ডিয়াম (pericardium) নামক আবরণে হৃৎপিণ্ডটি আবৃত থাকে অন্যান্য মাছের মতো রুই মাছের হৃৎপিণ্ডটিও দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট-একটি অলিন্দ বা অ্যাট্রিয়াম (atrium) এবং অন্যটি নিলয় বা ভেন্ট্রিকল (ventricle)। এছাড়া এতে সাইনাস ভেনোসাস (sinus venosus) নামে একটি উপপ্রকোষ্ঠ রয়েছে । নিচে হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন উপ-প্রকোষ্ঠ ও প্রকোষ্ঠসমূহের বর্ণনা দেয়া হলো ।
সাইনাস ভেনোসাস: এটি পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট উপপ্রকোষ্ঠ যা হৃৎপিণ্ডের পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত । সাইনাস ভেনোসাস প্রকৃত পক্ষে শিরাতন্ত্রের অংশ এবং এর প্রাচীরের টিস্যু হৃৎপেশি দিয়ে গঠিত নয় । দেহের দু'পাশ থেকে আগত ডাক্টাস ক্যুভেইরি (ductus cuvieri) নামক দুটি বড় শিরার মিলনে সাইনাস ভেনোসাস সৃষ্টি হয়। এতে শিরারক্ত জমা হয় । এটি সাইনো-অ্যাট্রিয়াল (sino-atrial) ছিদ্রপথে অ্যাট্রিয়ামের সাথে যুক্ত । এ পথে শিরা থেকে সংগৃহীত CO2-সমৃদ্ধ রক্ত অ্যাট্রিয়ামে প্রবেশ করে।
অ্যাট্রিয়াম (অলিন্দ): এটি পেরিকার্ডিয়াল গহ্বরের সম্মুখ পৃষ্ঠভাগে অবস্থিত ত্রিকোণাকার, পেশিময় ও পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট প্রকোষ্ঠ। এটি একদিকে সাইনাস ভেনোসাস অন্যদিকে অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার (atrio ventricular) ছিদ্রপথে ভেন্ট্রিকলে উন্মুক্ত।
ভেন্ট্রিকল (নিলয়): এটি হৃৎপিণ্ডের সর্বশেষ প্রকোষ্ঠ । পেরিকার্ডিয়াল গহ্বরের অঙ্কীয়-পশ্চাৎদেশে অবস্থিত এ প্রকোষ্ঠটির প্রাচীর পুরু ও মাংসল এবং সম্মুখে বাল্বাস আর্টারিওসাস (bulbus arteriosus)-এ উন্মুক্ত। ভেন্ট্রিকল রক্তচাপ সৃষ্টি করে এবং ফুলকাতে রক্ত প্রেরণ করে ।
বাল্বাস আর্টারিওসাস: রুই মাছের হৃৎপিণ্ডে কোনাস আর্টারিওসাস (conus arteriosus) নেই। তার পরিবর্তে বাল্বাস আর্টারিওসাস নামক একটি গঠন দেখা যায় যা মূলত ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টার স্ফীত গোড়াদেশীয় অংশ । এটি হৃৎপিণ্ডের কোন অংশ নয় । এটি হৃৎপিণ্ড থেকে ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টায় রক্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে ।
উদ্দীপকের চিত্রের সাহায্যে রুই মাছের রক্ত সংবহন বুঝানো হয়েছেএইমাছের ক্ষেত্রে এই সংবহন প্রক্রিয়াটি একমুখী প্রকৃতির নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো- রুই মাছের হৃৎপিণ্ড সিলোমের বিশেষ একটি প্রকোষ্ঠে অবস্থিত। এ প্রকোষ্ঠটিকে: পেরিকার্ডিয়াল গহ্বর বলে। এটি ফুলকাগুলোর ঠিক পেছনে অবস্থিত। রুই মাছের হৃৎপিণ্ডের প্রতিটি প্রকোষ্ঠে কেবলমাত্র অক্সিজেনরিক্ত অর্থাৎ CO2 যুক্ত রক্ত থাকে বলে একে ভেনাস হৃৎপিন্ড বলে। হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলো পরপর সজ্জিত হয়ে জালকের আকৃতি ধারণ করে এবং রক্ত তার মধ্য দিয়ে একই গতিপথে প্রবাহিত হয়ে নালি পথে ফুলকায় যায় এবং অক্সিজেন যুক্ত হয়। এরূপ অক্সিজেন যুক্ত রক্ত পুনরায় হূৎপিণ্ডে ফিরে না, ফুলকা থেকে সরাসরি নালিপথে ছড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ হৃৎপিণ্ডের মধ্যদিয়ে CO2 যুক্ত রক্ত পেছন হতে সামনের দিকে শুধু একমুখী হয়ে চলাচল করে। তাই এদের হৃৎপিণ্ডকে একচক্রী হৃৎপিণ্ড বলা হয়। এ কারণে এ ধরনের রক্ত সংবহনকে একমুখী রক্ত সংবহনতন্ত্র বলে।