নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-
উপজিহ্বা: স্বরযন্ত্রের উপরে একটি জিহ্বা আকৃতির ঢাকনা রয়েছে। একে উপজিহ্বা বলে।
বক্ষগহ্বর ও উদরগহ্বর পৃথককারী পেশীবহুল পর্দাকে ডায়াফ্রাম (মধ্যচ্ছদা) বলে। এটা দেখতে অনেকটা প্রসারিত ছাতার মতো। ডায়াফ্রাম সংকুচিত হলে নিচের দিকে নামে, তখন বক্ষগহ্বরের আয়তন বৃদ্ধি পায়। এটা প্রসারিত হলে উপরের দিকে ওঠে ও বক্ষগহ্বর সংকুচিত হয়। এসব কারণেই ডায়াফ্রাম (মধ্যচ্ছদা) শ্বসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের 'M' অংশটি হলো ট্রাকিয়া বা শ্বাসনালি। শ্বাসনালির ভিতরে আবৃত ঝিল্লিতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে ব্রংকাইটিস রোগ হয়।
নিচে ব্রংকাইটিস রোগের কারণ ও এর প্রতিকার বর্ণনা করা হলো-
কারণ:
i. শ্বাসনালির ঝিল্লিতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ।
ii. ধূমপান করা।
iii. অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকা, স্যাঁতসেঁতে ধূলিকণা মিশ্রিত আবহাওয়ায় থাকা ও ঠাণ্ডা লাগা।
iv. রাস্তাঘাটের ধুলাবালি ও কলকারখানার ধোঁয়াময় পরিবেশে তথা দূষিত পরিবেশে থাকা।
প্রতিকার:
i. ধূমপান, মদ্যপান তামাক বা সাদাপাতা খাওয়া বন্ধ করা।
ii. ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর চিকিৎসা করানো।
iii. রোগীকে সহনীয় উষ্ণতা ও শুষ্ক পরিবেশে রাখা।
iv. পুষ্টিকর তরল ও গরম খাবার খাওয়ানো। যেমন- গরম, দুধ, স্যুপ ইত্যাদি।
v. রোগীর পূর্ণ বিশ্রাম নেওয়া।
উদ্দীপকে 'N' অংশটি হলো ফুসফুস। প্রাণিদেহে গ্যাসীয় আদান-প্রদান বলতে বুঝায় অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড বিনিময়কে। এই গ্যাসীয় বিনিময়ে ফুসফুসের ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
অক্সিজেন শোষণ: ফুসফুসের বায়ুথলি বা অ্যালভিওলি ও রক্তের চাপের পার্থক্যের জন্য অক্সিজেন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় রক্তে প্রবেশ করে। ফুসফুস থেকে ধমনির রক্তে অক্সিজেন প্রবেশ করার পর রক্তে অক্সিজেন দুভাবে পরিবাহিত হয়। সামান্য পরিমাণ অক্সিজেন রক্তরসে দ্রবীভূত হয়ে পরিবাহিত হয়। বেশির ভাগ অক্সিজেনই হিমোগ্লোবিনের লৌহ অংশের সাথে হালকা বন্ধনের মাধ্যমে অক্সিহিমোগ্লোবিন নামে একটি অস্থায়ী যৌগ গঠন করে। অক্সিহিমোগ্লোবিন থেকে অক্সিজেন সহজে বিচ্ছিন্ন হতে পারে।
রক্ত কৈশিকনালিতে পৌঁছার পর অক্সিজেন পৃথক হয়ে প্রথমে লোহিত রক্তকণিকার আবরণ ও পরে কৈশিকনালির প্রাচীর ভেদ করে লসিকাতে প্রবেশ করে। অবশেষে লসিকা থেকে কোষ আবরণ ভেদ করে কোষে পৌঁছে।
কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন: খাদ্য জারণ বিক্রিয়ায় কোষে কার্বন
ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়। এই CO₂ প্রথমে কোষ আবরণ ভেদ করে আন্তঃকোষীয় তরল লসিকাতে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে কৈশিকনালির প্রাচীর ভেদ করে রক্তরসে প্রবেশ করে। CO₂ প্রধানত সোডিয়াম 'বাইকার্বনেট (NaHCO3) রূপে রক্তরসের মাধ্যমে এবং পটাশিয়াম বাইকারনেট (KHCO₃) রূপে লোহিত রক্তকণিকা দিয়ে পরিবাহিত হয়ে ফুসফুসে আসে, সেখানে কৈশিকনালি ও বায়ুথলি ভেদ করে দেহের বাইরে নির্গত হয়।
